অধিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি পরিবেশ দূষণের মূলমন্ত্র

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

প্রকৃতি তার অশেষ মমতা আর স্নেহে আগলে রেখেছে তার প্রতিটি জীব প্রজাতিকে। শ্রেষ্ঠত্বের সিংহাসন পেয়েছে মানুষ।কিন্তু অকৃতজ্ঞ সেই মানুষই প্রকৃতিকে নষ্ট করছে নানা উপায়ে।নিজের অজান্তেই কুঠার মারছে নিজেরই পায়ে।আকাশ,বাতাস,মাটি,পানি বিষাক্ত করে তুলছে প্রতিদিন,প্রতিমুহুর্তে।লক্ষ লক্ষ বছর আগে পৃথিবীর বুকে যে প্রাণ ও প্রাণী ছিল সেদিন প্রকৃতি ও পরিবেশ সাম্য ছিল।এখন শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষমতায় মানুষ নিজের প্রয়োজন ও রুচি অনুযায়ি তৈরি করছে আধুনিকতম যান্ত্রিক পরিবেশ।
জনসংখ্যা বৃদ্ধি পরিবেশ দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ।অধিক জনসংখ্যার কারণে পরিবেশে দেখা দিচ্ছে বহুমাত্রিক সমস্যা।
সকালে ঘুম থেকে উঠেই যে টিউব থেকে টুথপেস্ট নিয়ে ব্রাশ করছি তা প্লাস্টিকের।যা পরিবেশে প্রায় ৫০০ বছর ধরে থেকে যায়।খাবার খাওয়ার পর এর উচ্ছিষ্টাংশও এই পরিবেশেই ফেলছি।যা পচেঁ একদিকে বায়ু দূষণ অন্যদিকে মাটিকে দূষণ করছে।যে গাড়ি দিয়ে আমরা স্কুল,কলেজ কিংবা অফিসে যাওয়া আসা করছি সেই গাড়িই নিঃসরন করছে CO2,CO নামক মারাত্নক ক্ষতিকর গ্রীন হাউস গ্যাস।
বিশ্বে সবচেয়ে বায়ু দূষিত শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা দ্বিতীয়।বায়ু দূষণ ঘটিত বিভিন্ন রোগের কারণে প্রতিবছর ১লক্ষ ২২ হাজার ৪০০ জন মানুষ মারা যাচ্ছে।এই অনাকাঙ্খিত বায়ু দূষণ এড়াতে আমরা পরিবেশ বান্ধব ইটভাটা,যানবাহন ও শিল্পকারখানা গড়তে হবে।বায়ুতে ধূলাবালি উড়া কমাতে নিয়মিত রাস্তায় পানি ছিটাতে হবে।
আমরা যে খাবার খাই তার উচ্ছিষ্টাংশ এখানে সেখানে না ফেলে মাটি চাপা দিয়ে রাখতে পারি।এতে বায়ু দূষণ হয়না।আবার মাটিতে জৈব সার হিসেবে মাটিকে উর্বরতা দান করে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণ এবং যুবকেরাই প্লাস্টিক দূষণের জন্য সবচেয়ে দায়ী।বেসরকারী একটি সংস্থা বলেছে সম্প্রতি ১৪ হাজার ৫০০ টন স্বাস্থের জন্য ঝুকিপূর্ণ প্লাস্টিক বর্জ্য বৃদ্ধি পেয়েছে যার বেশির ভাগই সার্জিক্যাল মাস্ক,পলিথিনের হ্যান্ড গ্লাভস,হ্যান্ড স্যানিটাইজার বোতল।
বাজার করতে গিয়ে একাধিক পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার না করে পাটের ব্যাগ বা পচঁনশীল ব্যাগ ব্যবহার করতে পারি।যা মাটি দূষণ রোধ করে।
কলকারখানা থেকে বর্জ্যপদার্থ সরাসরি খাল বা নদীতে না ফেলে প্রক্রিয়াকরণ করে তারপর ফেলতে হবে।এতে পানি দূষণ রোধ হয়।
জনসংখ্যা বৃদ্ধি এড়াতে পরিবার পরিকল্পনা অনুসরণ করতে হবে।
_এই বিশাল পৃথিবীকে সুস্থ করা বা সবসময়ের জন্য ভালো রাখা কারো একার পক্ষে সম্ভব না।তাই সবার একসাথে এগিয়ে আসতে হবে হাতে হাত ধরে। সচেতনতা ও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে হবে সুন্দর এক পৃথিবীর আকাঙ্খায়।
সাজনীন জাহান তুলি
প্রথম বর্ষ,প্রথম সেমিস্টার
পরিবেশ বিজ্ঞান ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here