অপরিকল্পিত মাছের ঘেরের বেড়িবাঁধে আটকে গেছে সাতক্ষীরা পৌরসভার পানি নিষ্কাশনের পথ

Share It
  • 15
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    15
    Shares

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি÷ সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মাছের ঘেরের বেড়িবাঁধে আটকে গেছে সাতক্ষীরা পৌরসভার পানি নিষ্কাশনের পথ। ফলে সাতক্ষীরা পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। কেউ সাঁতরাচ্ছেন কেউ ভেলায় চড়ে আবার কেউ হাবুডুবু খেয়ে যাতায়াত করছেন। জলাবদ্ধতায় নাকানি চুবানি খেতে খেতে নাকাল হয়ে পড়েছেন জলাবদ্ধ এলাকার মানুষ। ‘পানি সরাও জীবন বাঁচাও’-বলে আর্তনাদ করলেও সে আওয়াজ শুনতে পাচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জলাবদ্ধতার শিকার হাজারো পরিবারের নারী শিশু ও বয়স্করা পড়েছেন সীমাহীন দুর্ভোগে। স্থানীয়রা জানান, মাত্র গুটি কয়েক ঘের মালিকের কারণে পৌরসভা ও আশপাশের মানুষ শিকার হচ্ছে স্থায়ী জলাবদ্ধতার। জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সচিব আলী নূর খান বাবুল বলেন, তার এলাকার মাত্র চারজন ঘের মালিকের কারণে গোটা এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। তিনি বলেন, ইটাগাছার পশ্চিমাংশে কামাল নগরের রজব আলী, পলাশপোলের বৌ বাজার এলাকার লিটন, ইটাগাছায় শামসুর মাস্টারের জামাতা ফজলুল করিম ওরফে ফজলু অপরিকল্পিত মাছের ঘের করেছে। এছাড়া সাবেক ব্যাংকার আব্দুর রহিম রাস্তার জমি দখল করে মাছের ঘের করেছেন। সরকারি রাস্তা ঘেরের বেড়িবাঁধ বানিয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে রেখেছেন। এতে করে ওই এলাকার শত শত পরিবার পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে। তারা রীতিমত পানিতে সাঁতার কাটছে। কেউ কেউ ভেলায় যাতায়াত করছে। নারী ও শিশুরা পড়েছে বিপাকে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পঁচা দুর্গন্ধময় দূষিত পানিতে ছড়াচ্ছে চর্মরোগ। পরিবেশ দূষণের কারণে ডেঙ্গু আতঙ্ক বিরাজ করছে এলাকায়। যাতায়াতের রাস্তায় পানি উঠে গেছে। বাড়ির উঠোন ভরে গেছে পানিতে।

এদিকে ইটাগাছা পূর্বপাড়াবাসীরা জানান, একজন ব্যক্তির কারণে শতাধিক পরিবার ও প্রতিষ্ঠান জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। তারা বলেন, স্থানীয় হাবুকুড় নামক একটি বিলে গড়েরকান্দা এলাকার মরহুম আবুল হোসেনের ছেলে সাজীদ হোসেন মাছের ঘের করেছেন। সাজীদ হোসেন পানি নিষ্কাশনের সরকারী ড্রেন বন্ধ করার কারণে পানিবন্ধি হয়ে নাকানি চুবানি খাচ্ছেন এলাকার মানুষ। পুরাতন সাতক্ষীরা, ঘুড্ডের ডাঙি, বদ্দিপুর কলোনী, রসুলপুর, তালতলাসহ বিভিন্ন এলাকার শতশত মানুষ জানান, ডাইয়ের বিলে গুটি কয়েক মৎস্য ঘের মালিকের কারণে বদ্দিপুর কলোনী, মাছখোলা, ঘুড্ডেরডাঙি, পুরাতন সাতক্ষীরা আলিয়া মাদ্রাসা পাড়ার শত শত পরিবার পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার মানুষের বাড়ির উঠোন ভরে গেছে পানিতে। যাতায়াতের পথে পানি।চারিদিকে শুধু পানি আর পানি। জলাবদ্ধতার জন্য মৎস্য ঘের মালিকদের দায়ী করে স্থানীয়রা বলেন, অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধের কারণেই পানি নিষ্কাশনের পথ আটকে দেওয়া হয়েছে। সেখানে মানা হয়নি মৎস্য ঘের নীতিমালা।

প্রশাসনও ব্যবস্থা নেয়নি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল অবৈধ স্থাপনা ও বেড়িবাঁধ উচ্ছেদের কথা বলা হলেও এসব এলাকায় তা করা হয়নি। এলাকাবাসীরা আরও বলেন, পানি নিষ্কাশনের পথ রেখেই বেড়িবাঁধ দিয়ে মৎস্য ঘের করার কথা থাকলেও সেই পথ বন্ধ করা হয়েছে। দিন আসে দিন যায়, বদলায় অনেক কিছু। শুধু বদলায় না সাতক্ষীরা জলাবদ্ধতার চিত্র। এ বছর বর্ষাকালে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। তারপরও ডুবতে হচ্ছে পানিতে। জলাবদ্ধতা এখন পৌরবাসীর অভিশাপ। এ অভিশাপ থেকে মুক্তির অপেক্ষায় প্রহর গুণছেন পানিবন্ধি পরিবারগুলো। কিন্তু কে উচ্ছেদ করবেন অপরিকল্পিক অবৈধ বেড়িবাঁধ? কে সরাবেন পানি? কে শুনবেন হাজারো অসহায় মানুষের ফরিয়াদ? এমন প্রশ্ন আজ শহরবাসীর মুখে মুখে। জেলা নাগরিক কমিটির ব্যানারে পানি নিষ্কাশনের দাবী জানানো হলেও সে দাবীর প্রতি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি উল্লেখ করে নাগরিক নেতা আনোয়ার জাহিদ তপন বলেন, মৎস্য ঘের নীতিমালা বাস্তবায়ন করার দায়ীত্ব প্রশাসনের। নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে দূর হবে অপরিকল্পিত অবৈধ বেড়িবাঁধ। জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে সাতক্ষীরার হাজার হাজার মানুষ।


Share It
  • 15
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    15
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here