অভয়নগরে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি কারখানায় অভিযান : চুল্লি ধ্বংশ ও লাখ টাকা জরিমানা

Share It
  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    6
    Shares

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর : যশোরের অভয়নগরে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি কারখানায় অভিযান চালিয়ে লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভেঙ্গে দিয়েছে কয়লা তৈরির চুল্লি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের ধুলগ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করেন খুলনা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়া আহমেদ। আদালত সূত্র জানায়, পরিবেশের ক্ষতি করে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করা হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নে ভৈরব নদ তীরবর্তী ধুলগ্রামে অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালে পাঁচ কারখানার মালিক পালিয়ে যায়। তবে আশিষ কুমার দত্ত ওরফে জয় বাবু নামে এক কয়লা তৈরি কারখানার মালিক পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তর তাঁকে লাখ টাকা জরিমানা করেন।
কারখানা মালিক আশিষ কুমার দত্ত জানান, আমি সহ সিদ্ধিপাশা গ্রামের কবির শেখ, ধুলগ্রামের হরমুজ আলী সরদার ও চঁন্দ্রগাতী গ্রামের রকছেদ আলী দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে স্থানীয় হরমুজ আলীর জমি ভাড়া নিয়ে কয়লা তৈরি কারখানা গড়ে তুলেছি। এখানে মোট চুল্লি আছে ৩৭টি। প্রতিটি চুল্লিতে কাঠ পোড়ানো হয় দুইশত মন। যা পুড়ে কয়লা হতে সময় লাগে ১০ দিন। তৈরিকৃত কয়লা নদী পথে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত একই গ্রামের ফারুক হাওলাদারের কয়লা তৈরির কারখানায় অভিযান চালানোর আগেই মালিক ও কর্মচারীরা পালিয়ে যায়। গ্রামবাসী জানায়, কাঠ পোড়ানোর সময় কালো ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। ঝুঁকিতে আছে শিশু ও বয়স্করা।
আমরা এর থেকে মুক্তি পেতে চাই। সিদ্ধিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খান এ কামাল হাসান বলেন, গ্রামবাসীর অভিযোগে অভয়নগর উপজেলা প্রশাসন ইতোপূর্বে দুই দফা অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা সহ কারখানা ভেঙ্গে দিয়েছিল। এসব কারখানার মালিকরা ক্ষমতাধর হওয়ায় তারা বার বার এভাবে ক্ষমতার জোরে কারখানা গড়ে তোলে। অভিযান চলাকালে উপস্থিত ছিলেন, যশোর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান সরকার, ইউপি চেয়ারম্যান খান এ কামাল, ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল আক্তার, আমতলা ক্যাম্পের এসআই রেজাউল ইসলাম, পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক ও এলাকাবাসী। অভিযানের ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়া আহমেদ বলেন, পরিবেশ ধ্বংশ করে গড়ে ওঠা এসব কারখানা বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। মালিকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে। এধরণের কারখানা সম্পূর্ণ অবৈধ।

Share It
  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    6
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here