অর্থবছরের শুরুতে রপ্তানি আয়ে সুবাতাস

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রপ্তানিতে সুখবর এসেছে। আলোচ্য সময়ে রপ্তানি বেড়েছে পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ। শুধু তাই নয়, লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত জুলাইয়ে পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৩৫৮ কোটি মার্কিন ডলারের। এর আগের অর্থবছরের জুলাইয়ে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ২৯৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। সেই হিসেবে গত মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫৯ কোটি ২৩ লাখ ডলার বা ৪ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকার।
ইপিবি’র পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রধান রপ্তানি পণ্য গার্মেন্টসে ভর করেই বড় আকারের রপ্তানি আয় হয়েছে। আলোচ্য সময়ে গার্মেন্টস খাতের পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সার্বিকভাবে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেড়েছিল ৫ দশমিক ৮১ শতাংশ। আর গার্মেন্টস পণ্যের রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল পৌনে নয় শতাংশ।
রপ্তানিকারকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, অর্থবছরের শেষ মাসে রজমানের ঈদ উপলক্ষ্যে কারখানাগুলো ছুটি দেওয়া হয়। ছুটি শেষে উৎপাদন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লেগে যায়। গত জুনের ১৬ তারিখে ঈদ উদযাপিত হয়। ফলে ওই মাসে স্বাভাবিক উৎপাদন ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে কিছুটা শ্লথ গতি ছিল। তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র একজন নেতা ইত্তেফাককে বলেন, ঈদ হওয়ায় জুনের বেশকিছু পণ্য জুলাইয়ে পাঠানো হয়। ফলে জুনে রপ্তানি আয় কিছুটা কম দেখা গেছে। অন্যদিকে জুলাইয়ের পরিসংখ্যান বেশ স্ফীতি মনে হচ্ছে।
ইপিবি’র পরিসংখ্যান বিশ্লেষণেও এমন যুক্তির সত্যতা মিলেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুনে ৩৬২ কোটি ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছিল ২৪০ কোটি ডলারের। আলোচ্য সময়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি কমে গিয়েছিল প্রায় ১৯ শতাংশ। অন্যদিকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুনের চেয়েও রপ্তানি কমেছিল ৩ শতাংশ। গত জুলাইয়ে ২৮০ কোটি ৭০ লাখ ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি হয়েছিল ৩০১ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও প্রায় সাড়ে সাত শতাংশ গার্মেন্টস রপ্তানি বেড়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাইয়ে কৃষিজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১২৮ শতাংশ। যদিও রপ্তানিতে এ জাতীয় পণ্যের অবদান সামান্য। গার্মেন্টস খাতের বাইরে রপ্তানি বৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে প্লাস্টিক পণ্য ১৩ শতাংশ, হস্তাশিল্প ১১ শতাংশ, পাট ও পাটজাতীয় পণ্য ১৫ শতাংশ, বিশেষায়িত টেক্সটাইল ৫৩ শতাংশ, আসবাবপত্রসহ অন্যান্য পণ্যে রপ্তানিও বেড়েছে। অন্যদিকে জুলাইয়ে অন্যতম বড় রপ্তানি পণ্য চামড়া ও চামড়াজাতীয় পণ্যের রপ্তানি কমে গেছে প্রায় ২২ শতাংশ। এর বাইরে হিমায়িত খাদ্য ও মাছ রপ্তানিও কমে গেছে প্রায় ৩১ শতাংশ।
গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি। আলোচ্য সময়ে ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৩ হাজার ৬৬৬ কোটি ডলারের রপ্তানি। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরে পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৩ হাজার ৯শ’ কোটি ডলারের। আর সেবা রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা যোগ করে এটি চার হাজার চারশ’ কোটি ডলারের। ইপিবি আশা করছে, সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে চলতি অর্থবছরের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যাচ্ছে না।

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here