অর্থাভাবে কি থেমে যাবে জালালের বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পঙ্গু বাবা চায়ের দোকানদার। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। বসবাস অন্যের জায়গায়। তিন ভাই বোনের মধ্যে জালাল মিয়া ছোট, ডান চোখে দেখতে পান না। অভাব যেনো তার নিত্য সঙ্গী। তবুও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী জালাল মিয়া অদম্য প্রচেষ্টায় সকল বাঁধা-বিপত্তি পেড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।
২০১৮ সালের এইসএসসি পরীক্ষায় কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গার শামসুল হক কলেজ থেকে একমাত্র জালাল মিয়াই জিপিএ-৫ পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, ২০১৬ সালে এসএসসিতে জিপিএ-৫, ২০১৩ সালে জেএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন-৫ এবং সাইটশৈলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছেন। ২০১৮ সালে ১৯তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতায় কালিহাতী উপজেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। বর্তমানে জালাল মিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর এ সবই সম্ভব হয়েছে তার অদম্য ইচ্ছা, পরিশ্রম এবং বড় হওয়ার প্রবল মানসিকতার জোরে।
সরেজমিনে জালালের গ্রামের বাড়ি ঘাটাইল উপজেলার আনেহলা ইউনিয়নের সাইটশৈলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাবা আলতাফ হোসেন (৫৫) পঙ্গু। তিনি চা বিক্রি করছেন। মা কোহিনুর বেগম দোকানে তাকে সহযোগিতা করছেন। আবার অন্যের বাড়িতে কাজও করেন। জালালের ভাই আলামিন রাজমিস্ত্রি। বিয়ে করে পৃথক বসবাস করেন। বড় বোন আকলিমা খাতুনের বিয়ে হয়ে গেছে। জালালের চোখের চিকিৎসা এবং বোনের বিয়ে দিতে প্রায় দুই লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে সুদবহন করছে পরিবারটি। নিজের বাড়ি না থাকায় প্রতিবেশী আব্দুল বারেকের জায়গায় বসবাস করছেন। পরিবারের অসুস্থ মা-বাবা এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন জালাল।
শামসুল হক কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ারুল কবীর বলেন, এবার আমাদের কলেজ থেকে ৪৫২ জন পাস করা ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে একমাত্র জালালই জিপিএ-৫ পেয়েছে। জালাল দরিদ্র পরিবার থেকে ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল করছে তা সত্যিই বিস্ময়কর। অর্থের অভাবে জালালের মতো মেধাবীরা যেনো হারিয়ে না যায় সেজন্য আমি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ করছি।
জালালের বাবা আলতাফ হোসেন কান্না বিজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই ও খুব ভালো ছাত্র। দুই বেলা খাবারই দিবার পারি না, ওরে আবার যোগান দিবো কিবায়! আমার বড় পোলাও ভালো ছাত্র ছিল। কিন্তু অভাবের তাড়নায় পড়ালেহা করাতে পারি নাই। কেউ যদি জালালকে সাহায্য করতো বা দায়িত্ব নিতো আমার মেলা উপকার অইতো। আমি তার কাছে হারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকতাম।’
জালাল মিয়া বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে বিসিএস ক্যাডার হতে চাই। বাবা-মায়ের ইচ্ছা পুলিশ অফিসার হওয়া। অনেক কষ্ট করে এ পর্যন্ত এসেছি। জানি না কতদূর যেতে পারবো। বাবা-মা’র পক্ষে লেখাপড়া করানো অসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হতে চাই, মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here