অসহায় এতিমদের পাশে দাঁড়াবে কি কেউ ???

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 মুজাক্কির, নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ নোয়াখালী জেলার সদর উপজেলার পশ্চিম চর উরিয়া গ্রামের ফজল খাঁ’র ছেলে মো: হাসান খাঁ (৪৫)। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে হাসানের জন্ম। অর্থের অভাবে সম্ভব হয় নি দু-চার কলম লেখাপড়া করা। কোন রকম নিজ নাম লিখতে জানাটাই হাসানের শিক্ষাগত যোগ্যতা।
যার ফলে দিন মজুরের খাটুনিটাই ছিল তার মূল পেশা। দুই ছেলে এবং দুই মেয়ে নিয়ে ওদের স্বামী-স্ত্রীর সংসার। হাসান লেখাপড়া না জানলেও যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তার বড় ছেলে নবম শ্রেণীতে, ছোট ছেলে অষ্টম শ্রেণীতে, বড় মেয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে এবং ছোট মেয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে। প্রতিনিয়ত দিনমজুর খেটে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ায় এ পর্যন্ত পৌছানো। স্বপ্ন একটাই নিজে অশিক্ষিত হলেও যেন কেউ ছেলে-মেয়েদের অশিক্ষিত বলতে না পারে।
পাশাপাশি সময়ের প্রেক্ষাপটে যেন নিজেরাই নিজেদের পায়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু বিধিবাম হাসানের সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার। এ যেন ঝুলানো কাচেঁ পাথরের আঘাত। কেননা গত ১০/০৮/২০১৮ ইং তারিখে নিজ এলাকার এক বড় ভাইয়ের সাথে আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে গরু ব্যবসা করার জন্য গরু ক্রয় করতে চাপাইনবাবগঞ্জ যায় হাসান। তার কাজ হলো এলাকার ঐ ভাইকে ব্যবসায়িক কাজে সহযোগিতা করা। সঠিকভাবে গন্তব্য গিয়ে পৌছলেও ফিরে আসার সময় গত ২০/০৮/২০১৮ ইং তারিখে ভোর আনুমানিক ৬.০০ ঘটিকার সময় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। হাসান সহ অন্য আরো তার দুই সহকর্মী একই টিকিটে চাপাই থেকে সৌদিয়া পরিবহন যোগে ফেনী আসতেছিলো ।
পথিমধ্যে কুমিল্লা’র চৌদ্দগ্রাম নামক মিয়াবাজার পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকায় হাসানদের বহনকৃত সৌদিয়া পরিবহনটি ব্রেক ফেল করে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকা একটি কাভারভ্যানের সাথে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে করে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয় হাসান। তার মাথার খুলি বের হয়ে আলাদা হয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় হাসানকে কুমিল্লার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হলে অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত এলাকার লোকজন তাকে ঢাকা চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। সেখানে ল্যাব এইড, ইবনে সিনা, পপুলার, ইসলামী ব্যাংক হসপিটাল, আগারগাঁও নিউরোসাইন্স হসপিটাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হসপিটালে দীর্ঘ চিকিৎসার পরেও হাসানের অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। সর্বশেষ গত ৩১/০৮/২০১৮ ইং তারিখ বিকেল ৪.০০ ঘটিকার সময় মুগদা জেনারেল হসপিটালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে আইসিউতে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ……. রাজিউন) হাসানের বৃদ্ধ বাবা এবং তার অপর ভাইরা তাদের একমাত্র অবলম্বন বসত ভিটা বিক্রি করে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ লক্ষ টাকা খরচ করে দীর্ঘ সময় হাসানের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করে।
বৃদ্ধ বাবার এবং সহোদর ভাইদের একটিই কথা ভাইকে হারালাম মাথা গোজার একমাত্র অবলম্বন বশত ভিটাও হারালাম, এখন কই যাবো ? কে দিবে আমাদের আশ্রয় ? অপর দিকে হাসানের রেখে যাওয়া দুই ছেলে এবং দুই মেয়ে সহ স্ত্রীর আত্ননাদে ভারী হয়ে গেছে এলাকার আকাশ বাতাস। পুরো এলাকা জুড়ে নেমেছে শোকের ছায়া। কারণ একটাই হাসান হয়তো গরিব, অশিক্ষিত কিন্তু পুরো এলাকার সকল মানুষের কাছে হাসান ছিলো সৎ, বিনয়ী এবং আমানতদারের এক উজ্জল দৃষ্টান্ত। এলাকার লোকের যে কোন সুখে দু:খে হাসান ছিলো এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। যার ফলে তার অকাল মৃত্যু কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছে না শোকাহত পরিবার এবং এলাকাবাসী।
কিন্তু অত্যান্ত দু:খ এবং পরিতাপের বিষয় হলো সৌদিয়া পরিবহন কর্তৃপক্ষ দু:র্ঘটনা এবং হাসান সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পরেও চিকিৎসাকালীন সময়ে তো নয়ই মৃত্যুর পরেও আজ পর্যন্ত হাসানের কোন খবর নেয়নি। আমাদের সকলরই জানা সৌদিয়া পরিবহন বড় ধরণের প্রতিষ্ঠান। তাদের দানে হয়তো চলছে দেশের হাজারো পরিবার কিন্তু হাসানের ক্ষেত্রে তাদের এই হীনমন্যতা হতাশ করে আমাদেরকে। আমরা হতাশ ঠিকই কিন্তু হাসানের এতিম রেখে যাওয়া ছেলে-মেয়েদের কি করার আছে আমাদের। আমরা তো তাদেরকে তাদের বাবাকে ফিরিয়ে দিতে পারবো না, দিতে পারবো না বৃদ্ধ বাবাসহ অন্যদের বশতভিটা কিন্তু সৌদিয়া পরিবহনের মতো প্রতিষ্ঠান ইচ্ছা করলে সবই সম্ভব। তাই এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমরা সৌদিয়া পরিবহনকে অনুরোধ করবো আপনারা মরহুম হাসানের পরিবারের প্রতি সদয়দৃষ্টি দিয়ে তার রেখে যাওয়া নাবালক এতিম শিশুদের আগামীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে যেন এগিয়ে আসেন। কারণ এই দুর্ঘটনার দায় কোন ভাবেই এড়ানোর সুযোগ নেই আপনাদের।

 


Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here