জাতীয় সংসদের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ব্যতীত প্রশাসনিক আদেশে তালিকাভুক্ত অমুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট বাতিল করা সম্ভব নয় । কারণ এ-অবস্থায় ভুয়ারা আদালতের আশ্রয় নিয়ে প্রশাসনিক আদেশ স্থগিত অথবা বাতিল করে দেয়—-অথবা পুরো প্রক্রিয়াটি একটির পর একটি মামলা দিয়ে ঝুলিয়ে দেয় । এ ধরনের বহু উদাহরণ ইতোমধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের বিষয়টি ছিলো জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অভিপ্রায় ও বাঙালি জাতির সমষ্টিক সার্বিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত । তাতে কোনো আইন-আদালতের নির্দেশ বা উপদেশও ছিলো না—-বরং বীর মুক্তিযোদ্ধারা বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ও আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে তৎকালীন প্রচলিত সংবিধান আইন ও আদালতকে অমান্য করেই বাংলাদেশকে রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধ করে প্রতিষ্ঠিত করেছেন । সে-ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু, মুজিবনগর সরকার, মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার ঘোষণা, ত্রিশ লক্ষ শহীদ প্রভৃতি নিয়ে কোনো প্রশ্ন আইন-আদালতের কোনো এখতিয়ারে না রাখাই উত্তম । এ-লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে সংবিধানে একটি সংশোধনী এনে বঙ্গবন্ধু, মুজিবনগর সরকার, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতার ঘোষণা, ত্রিশ লক্ষ শহীদ প্রভৃতি বৈশিষ্ট্যকে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়ে একটি সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করাই যুক্তিযুক্ত, যাতে এসব বিষয়ে কেউ কোনোদিন কোনোকালে কোনো  আদালতে উত্থাপন করে বিতর্ক ও ছিনিমিনি খেলতে না পারে ।

বিষয়টি সরকার ও বিজ্ঞজনদের বিবেচনার জন্যে উত্থাপন করছি ।

* আবীর আহাদ
চেয়ারম্যান, একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here