আপনার দৃষ্টিভঙ্গি আপনার চরিত্র ঈমান ও আমলের আয়না-এম,হবিবুর রহমান ছিদ্দিকী – পর্ব : ০১

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

প্রায় দুশত বছর আগের কথা, সম্ভবত ১৮শতকের গোড়ার দিকে। মোঘলরা তখন এ জনপদের অধিপতি। মোঘলদের শেষ সম্রাট ছিলেন বাহাদুর শাহ। তারই রাজ সভার কবি ছিলেন মির্জা আসাদুল্লাহ গালিব খাঁ। বেশ নাম ডাক ছিল তার রাজ সভার কবি হিসেবে।

যাই হোক, কবি মাত্রই খেয়ালী মনা। গালিবও তাই। আরও ছিলেন মদপ্য। মানে মদে মাতাল। মদে মজলে হুঁশ থাকত না। একদিন মদ গিলেছেন। হাঁটছেন, ঢুলছেন। ঢুলতে ঢুলতে বসে পরলেন এক স্থানে।

স্থানটা ছিল যথা সম্ভব মসজিদের বারান্দা। সমানে মদ গিলছেন। মসজিদের মুসল্লি এগিয়ে এলো। ভাগাতে লাগল কবিকে। মসজিদে মদ খাবে! এ কেমন কথা। মসজিদ তো আল্লাহ’র ঘর।

কবি মুসল্লীর বকাবকি শুনে খিল খিলিয়ে হাসলেন। বললেন,

‘ব্যয়েঠ কে পিনে দো জাহিদ
নেহি তো ফির ও জায়গা বাতাও
যাহা পার খোদা নেহি’

– পান করতে দাও হে উপাসক। নাহলে ঠিকানা দাও সে স্থানের, যেখানে খোদা নেই।

মুসল্লির মুখে কুলুপ। আসলেই তো! আল্লাহ কোথায় নেই? তিনি তো সমস্ত স্থানেই আছেন (জ্ঞানের দ্বারা)। সে হোক মসজিদ বা সূরাখানা।

মুসল্লী লা জওয়াব। কিন্তু জবাব দিলেন, আরেক কবি। আল্লামা ইকবাল। গালিবের একশ বছর পরে।

‘ম্যাসজিদ ব্যয়েঠকে পিনে কা জায়গা নেহি হ্যায় গালিব
আগার পিনা হ্যায় তো কাফের কা দ্বিল মে যাকার পি
ওহা পার খোদা নেহি হ্যায়’

– মসজিদ পান করার জায়গা না গালিব। পান করতে চাইলে কাফেরের হৃদয়ে যাও। সেখানে খোদা নেই।

উত্তরটা যুঁতসই। তাই না? একটা জিনিষ ভাবুন। খেয়াল করুন। কাফেরের হৃদয়ে আল্লাহ নেই। তবে কি আল্লাহ অপারগ? কাফের-হৃদয়ে পৌঁছানোর ক্ষমতা নেই? আজব তো!

এখানেই পার্থক্য যুক্তি ও প্রেমের। দর্শন ও মতবাদের।

যুক্তি বলবে ক্ষমতা নেই। ক্ষমতা থাকলে পৌঁছাবে না কেন? প্রেম বলবে : আল্লাহ পৌঁছাতে পারেন না, এমনটা না? বরঞ্চ, কাফের আল্লাহকে স্মরণ করে না। আল্লাহকে মানেই না। তাই কাফের-হৃদয়ে আল্লাহ নেই। অক্ষমতা আল্লাহ’র না। শূণ্যতা কাফেরের।

প্রেমে কি যুক্তি নেই? যুক্তি ব্যতিরেক কি প্রেম হয়? প্রশ্নটি জটিল। উত্তর সহজটিল (সহজ+জটিল)।

এক যোগ এক, দুই। এটাই যুক্তি, গণিত। ১ থেকে ২-এ পৌঁছাতে ঠিক কতগুলো সংখ্যা আছে বলুন তো? এক ও দুইয়ের মাঝে দেড় (১.৫)। দেড়ের অর্ধেক কত? সেই অর্ধেকের অর্ধেক কত? সে অর্ধেকের অর্ধেক কত? তার অর্ধেক কত? এভাবে গুণতে থাকলে শেষ হবে না। কারণ সংখ্যা অসীম। শূণ্য থেকে এক হয়ে শুরু। কিন্তু শেষ যে কই কেউ জানে না।

প্রেম এখানেই ভিন্ন। ভাবুক প্রকৃতির। সে এক যোগ এক দুই মানবে। অবশ্যই মানবে। সাথে সাথে মধ্যবর্তী সম্ভবনাকেও খতিয়ে দেখবে। ঘুরে-ফিলাম মানে আত্মসমর্পন। মানে নিজেকে সঁপে দেয়া। একজন অসীম সত্ত্বা যিনি সৃষ্টি করেছেন। তার কাছে সঁপে দেয়া। কারণ অসীমকে বোঝার ক্ষমতা আমাদের দেয়া হয় নি। তাই অসীমের অনেক কিছুই অযৌক্তিক আমাদের কাছে। যেখানেই যুক্তি অচল সেখানে সমর্পন/ইসলাম।

বিশ্বাস ছাড়া ভালোবাসা হয় না। ভালো না বাসলে প্রেমে হয় না। নাস্তিকের কাছে যুক্তিই সব। অসীমে বিশ্বাস নেই। কারণ আগেই বলেছি। যুক্তির যাত্রা অসীমের লীলাভূমিতে নয়। মানব মস্তিষ্কেই আটকানো। হৃদয়ে না। অনুভবে না।

ঠিক একই ভাবে, রাসুল-অতুল (দ) নূর। তিনি হাযির-নাযির। তিনি সর্বোচ্চ প্রদত্ত-ক্ষমতাবান। তিনি মুক্তির কেন্দ্র। আবার তিনিই মুক্তির পথ। এবং পথের যাত্রা। এসব আকাইদ {Creed} শুধু যুক্তি দিয়েই বোধগম্য নয়।

যুক্তি বলবে :

তিঁনি মা-বাবার মাধ্যমে এসেছেন। তিঁনি নূর হবেন কি করে? তাঁর মা-বাবা জৈবিক। তিনিও জৈবিক।

তিঁনি ইন্তেকাল করেছেন। কবরে আছেন। তিনি হাযির-উপিস্থিত হন কিভাবে? নাযির/দেখেন কিভাবে?

তিঁনি কি নামায পরেন নি। তিনি তো চল্লিশ বছরে নবুয়ত পেয়েছেন। তিনি তো আমাদের মতই দোষে-দূর্বলে মানুষ। তিনি আবার মুক্তিদাতা হন কিভাবে?

প্রেম বলবে :

কোর’আন পড়। আল্লাহ ঘোষণা করেছেন তিনি নূর। অর্থ্যাৎ তিনি নূর। তিঁনি হাজির-নাজির। অতএব তিনি হাযির-নাযির। নো চান্স অব ইওর ওপেনিয়ন। যুক্তি দেখাইও না। অসীমের ঘোষণার কাছে যুক্তি দোষনীয়।

নাস্তিকরা যেমন যুক্তি দিয়ে স্রষ্টাকে অস্বীকার করে। শুধু অবিশ্বাসই নই। ঠিক একই ভাবে ওহাবী-সালাফিরাও যুক্তি দিয়েই মদিনা-মুনিব (দ) এঁর সমুন্নত-মহত্বকে অবিশ্বাস করে। অস্বী
(চলবে)


Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here