আমি ট্রাম্প-বিরোধী গোষ্ঠীর অংশ: জ্যেষ্ঠ ট্রাম্প কর্মকর্তা

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

হোয়াইট হাউজে গড়ে ওঠেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড-বিরোধী গোষ্ঠী। তারা প্রতিনিয়ত প্রেসিডেন্ট যাতে জাতির খুব বেশি ক্ষতি করতে না পারেন, সে বিষয়ে অর্ধ-উন্মুক্ত প্রচার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। যতদিন না তিনি বিদায় নিচ্ছেন বা অভিশংসিত হচ্ছেন ততদিন এমনটা চালিয়ে যাবেন তারা। সম্প্রতি প্রভাবশালী মার্কিন পত্রিকা দ্য নিয় ইয়র্ক টাইমসের ‘অপ-এড’ বা মতামত অংশে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এমনটা জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ এক মার্কিন কর্মকর্তা।
প্রকাশিত নিবন্ধে লেখকের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তার পরিচয় দেওয়া হয়েছে, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। বুধবার প্রকাশিত ‘আই অ্যাম পার্ট অব দ্য রেসিসট্যান্স ইনসাইড দ্য ট্রাম্প অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ নিবন্ধটি নিয়ে যুক্তরাজ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।   আধুনিক আমেরিকান ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল। এটা ট্রাম্পের সমালোচনার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
নিবন্ধটির প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।  বুধবার নিবন্ধটির প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প জানান, এটি পরিচয়হীন, মানে হচ্ছে এটি মেরুদণ্ডহীন। তিনি লেখককে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, এটি হচ্ছে নাম-পরিচয়হীন এমন একজনের লেখ যে হয়তো প্রশাসনের ভেতরে ব্যর্থ হচ্ছে ও হয়তো ভুল কারণে প্রশাসনে আছে।
ট্রাম্প আরো জানান যে, নিয় ইয়র্ক টাইমসও ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি আরো জোর দিয়ে বলেন, নিউ ইয়র্ক টাইমস তাকে পছন্দ করে না ও তিনিও তাদেরকে পছন্দ করেন না। তারা খুবই অসৎ মানুষ।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ওই কর্মকর্তা, ট্রাম্পকে অনৈতিক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বলেছেন, ট্রাম্প হচ্ছেন বাণিজ্য-বিরোধী, গণতন্ত্র-বিরোধী। তিনি প্রায়ই অপর্যাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।
তিনি লিখেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ট্রাম্পের হতাশ করা সব এজেন্ডা ও বাজে ইচ্ছাগুলো দমনে সযত্নে কাজ করে যাচ্ছেন।
লেখক দাবি করেছেন যে,  ট্রাম্পকে অভিশংসিত করার জন্য সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর আশ্রয় নেওয়ার কথা চিন্তা করেছিলেন কর্মকর্তারা। তবে পরবর্তীতে তারা তাদের সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসেন। তিনি লিখেন, আমরা প্রশাসনকে ঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যা পারি, করবো। তা যেভাবেই হোক, এটা শেষ।
লেখক এটা পরিষ্কার করে দেন যে, এটা কোন বামপন্থী বিরোধীতা নয়। বরঞ্চ প্রশাসনের ভাল চায় এমন একটি জোট।
তিনি লিখেন, আমরা চাই এই প্রশাসন সফল হোক। আমরা মনে করি এই প্রশাসনের নীতিমালা ইতিমধ্যে আমেরিকাকে নিরাপদ করে তুলেছে ও এগিয়ে নিয়ে গেছে। তবে নিবন্ধে এটাও বলা হয় যে, ট্রাম্প বিদায় নাহওয়া পর্যন্ত ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া কয়েকজন কর্মী  প্রতিজ্ঞা করেছেন যে তারা তাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষার্থে
যা সম্ভব তা করবে।
এদিকে, বুধবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প এক টুইটে আবারো নিবন্ধটির সমালোচনা করেন। তিনি টুইটে নিবন্ধটির দিকে ইঙ্গিত করে লিখেন, রাষ্ট্রদ্রোহ? পরবর্তী এক টুইটে তিনি লিখেন, এই মেরুদণ্ডহীন নাম-পরিচয় প্রকাশ না করা ব্যক্তি যদি আদতে থেকে থাকে তাহলে দ্য টাইমসকে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে এখনই সরকারের হাতে সোপর্দ করা উচিত।
উল্লেখ্য, নিউ ইয়র্ক টাইমসে মতামত লেখা মার্কিন আইনের লঙ্ঘন নয়। -দ্য গার্ডিয়ান

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here