এলাকাভিত্তিক জবাইখানা চান ব্যবসায়ীরা

Share It
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares

যত্রতত্র পশু জবাই বন্ধ করে এলাকাভিত্তিক আধুনিক জবাইখানা চান মাংস ও চামড়া ব্যবসায়ীরা। পরিবেশ দূষণ ও চামড়ার দর নিয়ে দোষারোপের দায় থেকে পরিত্রাণ পেতে এমন প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি ও চামড়া খাতের সংগঠনগুলোর নেতারা। তারা বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারগুলোতে আধুনিক জবাইখানা নির্মাণ জরুরি। এতে স্বাস্থ্যসম্মত মাংস নিশ্চিন্তে কিনতে পারবেন ক্রেতারা। সেখানে ঈদুল আজহার কোরবানির পাশাপাশি সারা বছর পশু জবাই করা হলে ভালো মানের চামড়াও মিলবে। এতে চামড়া রফতানি আয় বাড়বে অন্তত ৫০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া কয়েক হাত ঘুরে চামড়া কেনাবেচা বন্ধ হবে। এতে কোরবানির পশুর চামড়ার সঠিক দর নিশ্চিত হলে গরিব মানুষ ঠকবেন না। ট্যানারি মালিকরা যৌক্তিক দামে চামড়া কিনতে পারবেন। এ ছাড়া জবাইখানা

হলে পশুর বর্জ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যাবে। বর্জ্য থেকেও রফতানি আয় বাড়ানো সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা জানান, দেশে কোনো আধুনিক মানের জবাইখানা নেই। জাবাইখানা স্থাপনের জন্য সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়েছে তাদের সংগঠন। পুরো রাজধানীতে ক্ষুদ্র পরিসরে মাত্র ৫টি জবাইখানা রয়েছে। তবে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ভেতরে জবাইখানা, হাজারীবাগ, কাপ্তান বাজারের জবাইখানা অকেজো। মহাখালী সিটি করপোরেশন মার্কেটে ইসলামিক রিলিফের সহযোগিতায় একটি জবাইখানা নির্মিত হলেও এখন পর্যন্ত চালু হয়নি। ইসলামিক রিলিফ মিরপুরের ১১ নম্বরে পুরাতন জবাইখানা সংস্কার করেছে।

সমিতির তথ্য মতে, দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০ হাজার পশু জবাই হয়। বছরে এর পরিমাণ প্রায় ১ কোটি। আর প্রতি বছর কোরবানির তিন দিনে সোয়া কোটির বেশি পশু জবাই হচ্ছে। পশুর বর্জ্য দূষণ বন্ধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর মাংস নিশ্চিত করা জরুরি। পশুর বর্জ্য থেকে জনদুর্ভোগ রোধ করে জবাইখানায় বর্জ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে বর্জ্য থেকেও এক হাজার কোটি টাকা রফতানি সম্ভব। ২০১৬ সালে ১৭০ কোটি টাকার বর্জ্য রফতানি হয়। ২০১৭ সালে তা বেড়ে ২২০ কোটি টাকা হয়েছে। পশুর বর্জ্য ওষুধ কারখানার কাঁচামাল এবং পোলট্রি ও ফিশ ফিডে ব্যবহার হচ্ছে। পশুর চর্বি দিয়ে তৈরি করা হয় সাবান। শিং দিয়ে বোতাম তৈরি হয়। এ ছাড়া ফেলে দেওয়া পশুর অঙ্গের বিভিন্ন দেশে

চাহিদা রয়েছে।

বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম সমকালকে জানান, দেশে মাত্র একটি ভালো জবাইখানা রয়েছে। তাও চালু হয়নি। ফলে যত্রতত্র চলছে পশু জবাইয়ের কাজ। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে আধুনিক জবাইখানা স্থাপনের আবেদন জানালেও তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি সরকার হাজারীবাগের জবাইখানা সংস্কারের কাজ শুরু করেছে। তবে কাপ্তান বাজারের বন্ধ জবাইখানার নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি। তিনি বলেন, দেশে স্বাস্থ্যসম্মত মাংস, ভালো মানের চামড়া ও বর্জ্য সম্পদ সুরক্ষা করতে এলাকাভিত্তিক একটি জবাইখানা করতে হবে। পশুর এমন কোনো বর্জ্য নেই যা কাজে লাগে না। এগুলো সম্পদে পরিণত করতে হলে আধুনিক জবাইখানার বিকল্প নেই। পাশাপাশি মাংস শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। পশুর বর্জ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ করতে চামড়া শিল্পনগরীতে জায়গা বরাদ্দ দিতে হবে। সব এলাকায় দুর্গন্ধযুক্ত এ বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব নয়।

কাঁচা চামড়ার আড়তদার ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব টিপু সুলতান  বলেন, পশুর চামড়া সঠিকভাবে ছাড়ানো হলে ভালো মানের চামড়া বেশি পাওয়া যেত। ভালো চামড়া পেলে আরও ৫০০ কোটি টাকার রফতানি আয় বাড়বে। তবে এ জন্য এলাকাভিত্তিক আধুনিক জবাইখানা স্থাপনের পাশাপাশি শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন  বলেন, চামড়ার কম দামের দায় নেবেন না ট্যানারি মালিকরা। কারণ নির্ধারিত দরেই চামড়া কিনছেন তারা। এবার মধ্যস্বত্বভোগীরা বড় অঙ্কের মুনাফা করে নিয়েছে। চামড়ার দামে গরিবরা ঠকলেও কয়েক হাত বদলে বেশি দামেই তাদের কিনতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি আর যাতে তৈরি না হয় সে জন্য এখনই সরকারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের উদাহরণ দিয়ে বলেন, এলাকাভিত্তিক পশু জবাইখানা করা হলে এক জায়গায় সব চামড়া পাওয়া যাবে। মাংস ব্যবসায়ী ও কোরবানিদাতারা সরাসরি ট্যানারি মালিকদের কাছে চামড়া যৌক্তিক দামে বিক্রি করতে পারবেন।


Share It
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here