কমলগঞ্জে দিশেহারা গ্রাহকরা কিস্থির জন্য চাপ দিচ্ছেন এনজিও কর্মীরা

Share It
  • 48
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    48
    Shares

মোঃ মালিক মিয়া কমলগঞ্জ প্রতিনিধি :: আগামী ৩০ জনু পর্যন্ত কোন এনজিও মাঠকর্মী কোনো সদস্যের বাড়িতে গিয়ে কিস্তি আদায় না করতে সরকারি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারের বেধে দেয়া সেই নির্দেশ অমান্য করে। করোনা সংকটে মানুষজন যখন দিশেহারা তখন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্ষুদ্র ঋণের কিস্থি’র টাকা পরিশোধ করতে চাপ প্রয়োগ করছেন এনজিও মাঠ কর্মীরা। ক্ষুদ্র ঋণের কিস্থি আদায় নিয়ে সদস্যদের সাথে দেনদরবার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঋণ গ্রহীতাদের অভিযোগ এনজিও স্থানীয় সমিতির মাঠ কর্মীরা গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিস্থি পরিশোধ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। কিস্তি না দিলে মামলার ভয় সহ খারাপ আচরণও করছেন। এমনকি বাড়িতে না থাকলে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে হয়রানি করা হচ্ছে বলে জানান ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতারা। তারা জানান চলমান করোনা পরিস্থিতিতে কাজ নেই অন্যদিকে ঘরে নেই খাবার। এর মধ্যে সরকারি বিধি নিষেধ অমান্য করে আমরা কিভাবে কিস্তির পয়সা পরিশোধ করবো এই নিয়ে প্রায় আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কমলগঞ্জে, এফআইবিডিবি, ব্রাক, গ্রামীণ ব্যাংক, আশা, উদ্দীপন,কারিতাস,মুসলিম এইড, আরডিআরএস সহ স্থানীয় কিছু সমবায় সমিতি ও ঋণদান প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন কিস্তির টাকা আদায় করার জন্য গ্রাহকদের চাঁপ দিচ্ছেন।

যদিও গত ২২ মার্চ এনজিও’র ঋণ শ্রেণিকরণ আগামী জুন পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে না বলে নির্দেশনা জারি করেছে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) এবং ছয় মাসের জন্য এনজিও ঋণ কিস্থি শিথিল করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি। কিন্তু গত মঙ্গলবার এবং আজ বুধ বার পৌর এলাকার কুমড়াকাপন গ্রামে কারিতাস ও উদ্দীপনের কিস্তি নিতে আসেন এনজিও মাঠ কর্মীরা। এবং উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের পারুয়া বিল গ্রামে সহ বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে যান যান ব্রাকের কর্মীরা । এ সময় সদস্যরা বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তের কথা বললে এনজিও কর্মীরা গ্রাহকদের কাছে বলছেন, সরকার নাকি তাদের অনুমতি দিয়েছে কিস্তি নেওয়ার জন্য। তবে তারা এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেখাতে পারেনি।

ভোক্তভোগীরা বলছেন, উন্নয়ন ও মানবিক সেবা এবং কল্যাণের নাম ভাঙ্গিয়ে গড়ে ওঠা এনজিওগুলোর মাঠকর্মীরা নীতি, নৈতিকতা ও বিবেক বিসর্জন দিয়ে কিস্থি আদায়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে এনজিওগুলো বিপদাপন্ন মানুষের কাছ থেকে ক্ষুদ্র ঋণের কিস্থি আদায় করা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করছেন কমলগঞ্জের সচেতন মহল। এবিষয়ে আলাপকালে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশেকুল হক বলেন,আগামী ৩০ জনু পর্যন্ত কোন এনজিও কর্মী কোনো সদস্যের (গ্রাহক) বাড়িতে গিয়ে কিস্তি আদায়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে কেউ স্বেচ্ছায় কিস্তি প্রদান করলে তা গ্রহনে কোনো অসুবিধা নেই বলেও জানান তিনি।


Share It
  • 48
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    48
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here