করোনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা কবীর মেহরাবের মৃত্যু

Share It
  • 220
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    220
    Shares

বীর মুক্তিযোদ্ধা কবীর মেহরাব করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।রোববার (২৮ জুন) বিকাল সাড়ে ৩টায় গুলশানের শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।

মুক্তিযোদ্ধা কবীর মেহরাব মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন। মুজিব বাহিনীর বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার কমান্ডার সৈয়দ রেজাউর রহমানের নেতৃত্বে তিনি দেরাদুনে ট্রেনিং নিয়েছিলেন।

সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, দেশের প্রতি কবীর মেহরাবের যে ভালবাসা, মানুষের প্রতি তার যে ভালবাসা তা খুবই সমুজ্জ্বল ছিল। তাঁর মধ্যে মানুষকে একত্রিত করার চমৎকার গুণ ছিল। সে নেই তাঁর এই অভাব পূরণ হতে সময় লাগবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা কবীর মেহরাব একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগঠন দি মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভার্স অব দি ওয়ার্ল্ড সোসাইটি বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন। এই সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। তিনিও করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

কবীর মেহরাব আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের রূপকার মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং একাত্তরের সহযোদ্ধা ছিলেন ।

তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে দি মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভার্স অব দি ওয়ার্ল্ড সোসাইটি বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, কবীর মেহরাব একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক ছিলেন। তাঁর হৃদয় জুড়ে ছিল বাংলাদেশ। আমরা তাঁর মত একজন নিবেদিত প্রাণ সমাজ এবং সংস্কৃতিকর্মীকে হারালাম। মেহরাব প্রতিবছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন। তিনি শুধু বাংলা ভাষা নয়, এদেশের আদিবাসীদের ভাষাকেও অনেক সম্মান করতেন। তিনি তাঁদের মায়ের ভাষার মর্যাদাকে অনেক বড় করে দেখতেন। তিনি সবসময় পিছিয়ে পড়া আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকারের কথা বলতেন। আমাদের সংগঠনের অভিভাবক আনিসুজ্জামান স্যারের পর তাঁর এভাবে চলে যাওয়া সত্যিই খুব কষ্টকর। তাঁর শূন্যতা কখনো পূরণ হবে না।

দি মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভার্স অব দি ওয়ার্ল্ড সোসাইটি বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাংগঠনিক সম্পাদক গীতিকার সুজন হাজং বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা কবীর মেহরাব মুজিব বাহিনীর সর্বাধিনায়ক শেখ ফজলুল হক মনির খুব স্নেহভাজন ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বাংলাদেশ যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ ফজলুল হক মনি তাঁকে ঢাকায় থাকার জন্য জমি দিতে চেয়েছিলেন। তিনি নেননি। তাঁর মত একজন দেশপ্রেমিক, নির্লোভ, নিরহংকার মানুষ আজকের সমাজে খুব বেশি দেখা যায় না। তাঁর মৃত্যুতে আমি আমার একজন অভিভাবককে হারালাম।

বীর মুক্তিযোদ্ধা কবীর মেহরাবের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ তাঁর শুভানুধ্যায়ী, বন্ধু, কবি, লেখক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ প্রমুখ।

রোববার রাত ১০ টায় কুমিল্লার ময়নামতির সিন্ধুরিয়া পাড়ায় বীরমুক্তিযোদ্ধা কবীর মেহরাবকে (৬৭) রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর বাবার কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।


Share It
  • 220
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    220
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here