করোনার নতুন হটস্পট চট্টগ্রাম “শেষ নয় দিনেই শনাক্ত ৪২৩”

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোহাম্মদ জিপন উদ্দিন,চট্টগ্রাম। করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে এখনো চলছে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি বা ‘অঘোষিত লকডাউন’। বিশ্ব থমকে গেছে করোনার প্রাদুর্ভাবে,প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে মৃত্যুর খাতায় নতুন নতুন নাম,এমন সময়ে চট্টগ্রাম পরিণত হয়েছে করোনার হটস্পটে। যদিও সকাল-বিকালে রাস্তা দেখলে সেটা বোঝার তা খুব একটা সুযোগ নেই। সড়কে ফিরেছে প্রায় স্বাভাবিক দৃশ্য! চট্টগ্রাম নগরে কয়েকটি সড়কে যানজটের দেখাও মিলছে নিয়মিত। চট্টগ্রাম জেলায় সামাজিক দূরত্ব ভুলে মানুষের ঘরে না থাকার প্রবণতার সমান তালে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যাও। চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হয় এপ্রিল মাসের তিন তারিখ।
একমাস পেরিয়ে চার মে তারিখে চট্টগ্রামে মোট করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয় ৮৯ জন। এরপর পাল্টে যায় দৃশ্য। বিআইটিআইডি ও সিভাসু’র পর চমেকেও শুরু হয় করোনা পরীক্ষা। শুধু শেষ নয় দিনেই (১৩ মে পর্যন্ত) চট্টগ্রামে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ৪২৩ জন! এরমধ্যে বুধবার চট্টগ্রামে একদিনে ৩৬৭ টি নমুনা পরীক্ষায় রেকর্ড ৯৫ জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। যদিও গতকাল পরীক্ষা হওয়া বেশিরভাগ নমুনা ৮ মে’র। তাই এখন যারা করোনা উপসর্গ নিয়ে নমুনা দিচ্ছেন তাদের আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা বাড়ছে দিনকেদিন। চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী বুধবার রাত ১১টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় শনাক্ত হওয়া মোট করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৫শ পেরিয়ে ৫১২ জনে দাঁড়ালো। গত ৯ দিনে শনাক্ত হয়েছেন ৪২৩ জন। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে করোনার হটস্পটে পরিণত হয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। তাই অন্তত ঈদ পর্যন্ত সবাইকে ঘরের থাকার জন্য বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন জীবিকার কথা বলে বাইরে আসতে হচ্ছে ঠিকই কিন্তু বাসায় ফিরে যাচ্ছি জীবনকে শঙ্কায় ঠেলে দেওয়া করোনা নিয়ে।
তাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোনো বিকল্প তারা দেখছেন না। চট্টগ্রামে যেখানে কার্যত গার্মেন্টস আর ব্যাংক ছাড়া বন্ধ রয়েছে প্রায় সকল প্রতিষ্ঠান। সেখানে এত মানুষের রাস্তায় আসলেই কী কাজ সেটা বেশ কৌতূহলের ব্যাপার। রাস্তায় বের হওয়া অনেকের সাথেই কথা বলে জানা গেছে খুবই কম গুরুত্বপূর্ণ কাজেই তারা বের হচ্ছেন। অনেকেই আবার শুধু মাত্র আড্ডা কিংবা দীর্ঘদিন ঘরবন্দী থাকার অজুহাতে বের হচ্ছেন। তবে নগরীতে সবচেয়ে বেশি ভীড় থাকছে বাজারগুলোতে। নগরীতে গণপরিবহন বন্ধ থাকলে গার্মেন্টস শ্রমিক পরিবহনের নামে তারা যাত্রী ওঠানামাও করছে। সবমিলিয়ে চট্টগ্রামে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে প্রশাসনের শিথিলতাকেই দায়ী করছেন সচেতন মহল। এই বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) শ্যামল কুমার নাথ বলেন, সাধারণ ছুটির আওতায় নগরে ব্যাংক, বীমা, গার্মেন্টস সহ স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কিছু রেস্টুরেন্ট-হোটেল খোলা আছে। যদিএ মার্কেট বন্ধ আছে। তাই কিছুটা কর্মচাঞ্চল্য হয়তো ফিরেছে। যার প্রয়োজন তিনি বের হচ্ছেন। আমরা যাচাইবাছাই করছি। যারা প্রকৃত কর্মের প্রয়োজনে বের হচ্ছেন না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রামে করোনা শনাক্ত বাড়ার জন্য মূলত দুইটা কারণকে সামনে নিয়ে আসছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বী।
তিনি বলেন, ‘মূলত দুটি কারণে করোনা পজিটিভ শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে করছি আমরা। প্রথমত টেস্টের পরিমাণ আগের চেয়ে বেড়েছে। এখন চট্টগ্রামের তিনটি ল্যাবে এবং কক্সবাজার ল্যাবেও চট্টগ্রামের কিছু নমুনা আমরা পরীক্ষা করছি। ৩০০-৪০০ পর্যন্ত হচ্ছে নমুনা প্রতিদিন পরীক্ষা হচ্ছে। তাই পজিটিভ সংখ্যা বেশি আসছে। দ্বিতীয়ত গত কিছুদিন যাবত চট্টগ্রামে সামাজিক দূরত্ব না মানার প্রবণতা বেড়েছে। ফলে সংক্রামণের মাত্র  বাড়ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই সামাজিক দুরত্ব মেনে চলার ওপর জোর দিচ্ছিলাম। হোম কোয়ারেন্টিন সহ আইসোলেশন সঠিক ভাবে মেনে চলার জন্য প্রশাসন সচেষ্ট ছিল। আসলে এই ভাইরাস মোকাবিলায় সামাজিক দূরত্বই বড় ওষুধ। চট্টগ্রামে শুরুতে একটা ল্যাব ছিল এখন ৩ টা ল্যাব হয়েছে। হাসপাতাল আর শয্যাও বেড়েছে। আমরা চেষ্টা করছি সক্ষমতা বাড়ানোর। তবে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলায় জোর দেওয়া।’ এই পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় করোনা পজিটিভ শনাক্ত হওয়া ৫১২ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮০ জন। আর মারা গেছেন ২৫ জন।

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here