করোনার প্রাদুর্ভাব এর মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা: গরুর দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় সাতক্ষীরা কালিগঞ্জের প্রান্তিক খামারিরা

Share It
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares

মাসুদ পারভেজ কালিগঞ্জ(সাতক্ষীরা) থেকেঃ আসছে পবিত্র ঈদুল আজহা। দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনা আতঙ্কে গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার প্রান্তিক খামারিরা।

Table of Contents

দেশের বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে প্রান্তিক গো-খামারিরা তাদের গরুর ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
খামারি মালিকরা বলছেন, গরু লালন পালনে খরচের তুলনায় প্রতি গরুতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হবে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই খামার বন্ধ করতে বাধ্য হবেন অনেকেই।
স্থানীয় একাধিক খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোনবানির ঈদকে কেন্দ্র করে সদর ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেশীয় পদ্ধতিতে গরু লালন-পালন করছেন। গরু লালন-পালন স্থানীয়দের বিরাট চাহিদা পূরণ করছেন। দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনা সময়ে প্রান্তিক গরুর খামারিরা গরুর সঠিক দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

একদিকে গো-খাদ্যের দাম দৃদ্ধি ও অপরদিকে গরুর দাম কম হওয়ায় দিন দিন তাদের দুশ্চিন্তা যেন বাড়ছে।

উপজেলার মথুরেশপুর ইউপির রায়পুর গ্রামের শাহাবুদ্দিন(ছোট) জানান, ঈদকে টার্গেট করে ৯টি গরু নিয়ে একটি খামার গড়েছেন। খামারে থাকা এক একটি গরু প্রায় এক বছর আগে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় কেনা। এসব গরুর বাড়তি লাভের আশায় প্রতিপালন করলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে যে দাম হচ্ছে তাতে মনে হয় ১০-১৫ হাজার টাকা প্রতি গরুতে লোকসান গুনতে হবে। তবে তিনি আশাবাদী গরুর দাম বৃদ্ধি পাবে।
উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের পানিয়া গ্রামের খামার মালিক ফেরদাউস মোড়ল জানান, বর্তমানে তার খামারে ছোট বড় মিলে ১৩টি গরু আছে। গরুগুলোকে কোরবানির ঈদে বিক্রি করার জন্য গত  ৬ মাস ধরে তিনি লালন পালন করছেন। বাজারে গরুর যে দাম তাতে চিন্তা অনেক বেড়ে যাচ্ছে।
তাছাড়া ঈদের আগে ব্যাপারীরা এসে যেভাবে দরদাম হাকতো এবার তাদের আনাগোনা নেই বললেই চলে। একদিকে গো-খাদ্যের চড়া দাম তার ওপর করোনায় মন্দাবাজার হওয়ায় উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানায়।
উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের হোগলা গ্রামের শাহাবুদ্দিন মোড়ল বলেন, গরু পালন একটি লাভ জনক ব্যবসা। তাই তিনি গত ৮-১০ বছর ধরে খামার করে গরু বিক্রি করছেন। তার খামারে ২৫ টি গরু রয়েছে। গত বছর এ সময় অনেক ভাল দামে ব্যাপারীদের কাছে অর্ধেক গরু বিক্রি করা হয়েছিল বলে জানায়। কিন্তু এ বছর বেপারিদের কোনো আনাগুনা তেমন নেই। আর যারা আসছেন দরদাম অনেক কম বলছেন।
কালিগঞ্জ উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মনোজিৎ কুমার বলেন, উপজেলায় ২৪০০ টি খামার রয়েছে। খামারে থাকা বেশিরভাগ পশু বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে খামারিরা অনেকটাই যেন বিপদে পড়েছেন। তিনি আশা করেন পার্শ্ববর্তী ভারত থেকে যদি গরু না আসে তাহলে কিছুটা হলেও লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবে খামারিরা। সরকারের কাছে খামারিরা প্রণোদনার দাবি জানান।
তিনি আরো বলেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে হাটগুলোতে যাতে সবাই পশু কেনা-বেচা করতে পারে সে ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এবং উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক রাসেলের নেতৃত্বে অনলাইনে গরু কেনা-বেচা করা হচ্ছে।

Share It
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here