করোনায় বিশ্বে সর্বোচ্চ আক্রান্তের দিনে মৃত্যু প্রায় ৬ হাজার

Share It
  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    7
    Shares

করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন পর্যন্ত প্রায় ৩ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার মানুষ। তবে একদিনে শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চতে গিয়ে ঠেকেছে। এদিন বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৩৫৪ জনে। শুক্রবার বিশ্বে ৫ হাজার ৮০৭ জনের মৃত্যু হয়। এর আগে গত ১৭ এপ্রিল একদিনে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৫১৫ জনের মৃত্যু হয়। যা এ যাবৎকালে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর হার।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ জনের এবং আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন প্রায় ২ কোটি ৭৯ লাখ ২০ হাজার জন।

করোনাভাইরাস মহামারি থেকে মুক্তি পেতে ভ্যাকসিনের দিকেই তাকিয়ে আছে সারাবিশ্ব। এখন পর্যন্ত কোন টিকা অনুমোদন না পেলেও ধনী দেশগুলোর মাঝে অগ্রীম টিকা কেনার প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে। এ অসম প্রতিযোগিতা দরিদ্র এবং মধ্যম আয়ের দেশের সব মানুষের টিকার প্রাপ্তির নিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

চলমান জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের শুরুতে দেয়া বক্তব্যে ভ্যাকসিনের আলাদা চুক্তিকে ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদ উল্লেখ করে একে অন্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন মহাসচিব। জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছেন, সকলে নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত করোনাভাইরাস থেকে কেউ নিরাপদ নয়। বিশ্বে এই মুহূর্তে ল্যাবে শত শত ভ্যাকসিন গবেষণা হচ্ছে তবে ৪০টি ভ্যাকসিন আছে হিউম্যান ট্রায়াল পর্যায়ে। ১০টি ভ্যাকসিন তৃতীয় ধাপে বড় জনগোষ্ঠীর ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে যার মধ্যে চীন ও রাশিয়া ৫টি ভ্যাকসিন সীমিত আকারে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের জন্য অনুন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলো কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটির দিকে আছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার অধীনে প্রচেষ্টা চলছে ২০২১ সালের মধ্যে দুই বিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন নিশ্চিত করার। এর মধ্যে এক বিলিয়ন ডোজ বরাদ্দ থাকবে ৯২টি নিম্ন আয়ের দেশের মানুষের জন্য। এ দেশগুলোয় পৃথীবির মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেকের বসবাস। বাংলাদেশও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটির অধীনে প্রতিটা দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর জন্য ভ্যাকসিনের নিশ্চয়তা দেয়ার পরিকল্পনা আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে শেষ পর্যন্ত ১৫৬টি দেশ কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটিতে ভ্যাকসিন সহযোগিতায় অংশীদার হয়েছে।

অন্যদিকে ভ্যাকসিনের এ প্রতিযোগিতার কারণে বাংলাদেশ সরকারকে ভ্যাকসিন বুকিং দেয়ার সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে কমিটি সরকারকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ নিয়ে এক ধরনের প্রতিযোগিতার কথা জানিয়েছে। গ্যাভির ভ্যাকসিন পেতে বেশ দেরী হওয়ার আশংকা থেকে বাংলাদেশেরও ভ্যাকসিন বুকিং করা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেছে কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

অন্যদিকে ঢাকায় প্রতি দশজনের মধ্যে একজন ইতিমধ্যেই কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। এই মুহূর্তে ঢাকার জনসংখ্যা প্রায় দুই কোটি। বিশ্বব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। করোনা মহামারি চটজলদি চলে যাচ্ছে এমনটা ভাববার কোন কারণ নেই বলে হুঁশিয়ার করেছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশে শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে করোনাভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল সাড়ে ৫ হাজার। এ ছাড়া নতুন করে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ২০৩ জনের দেহে। এখন পর্যন্ত দেশে মোট শনাক্ত হলো ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৭৩ জন। এ দিন সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৪৫৩ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ৯১ হাজার ৩৬৫ জন।


Share It
  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    7
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here