করোনায় ভিন্ন জয় রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের, সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী সুস্থ হয়েছেন

Share It
  • 13
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    13
    Shares

করোনা পরিস্থিতিতে যেখানে প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে সেখানে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী সুস্থ হয়েছেন। সারা দেশে এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ৫৯ জন পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হলেও কেবল এই হাসপাতালেই চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন সাড়ে ৭ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য। সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণেই এমনটি হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

দেশে প্রতিদিন বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। পরিস্থিতি সামলে নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতালগুলোকে সেখানে কিছুটা হলেও ভিন্ন চিত্র রাজধানীর রাজারবাগের পুলিশ হাসপাতালে। পরিসংখ্যান বলছে, এখান থেকেই সর্বোচ্চ সংখ্যক করোনা রোগী সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন।

ঘড়ির কাটায় বেলা ১১টা। হাসপাতালের মূল ফটকের ভেতরে চলছে, অসুস্থ পুলিশ ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ। কেউ আবার পজিটিভ রিপোর্ট হাতে ভর্তির অপেক্ষায়।

করোনাকালে যোদ্ধার ভূমিকায় অবতীর্ণ পুলিশ সদস্যরা। মাঠে-ঘাটে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের সঙ্গে তাদের চলাফেরা। তাই সম্মুখসারির যোদ্ধাদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যাও পুলিশের মধ্যে বেশি। মহামারির শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে এ পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছেন ৮ হাজারেরও বেশি করোনা রোগী। যাদের মধ্যে সাড়ে সাত হাজারই সুস্থ হয়ে ফিরেছেন কর্মস্থলে। মারা গিয়েছেন ১৩ জন।

একদিকে আকস্মিক দুর্যোগ। অন্যদিকে, সীমিত সম্পদ ও অপ্রতুল লোকবল। এতসব অপূর্ণতার মাঝেও হাসপাতালটি এগিয়ে চলছে। চিকিৎসা সেবায় মেনে চলছে ডব্লিউএচও’র প্রোটকল। প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ দেয়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দেয়া হয় মৌসুমী রসালো ফল ও পুষ্টিকর খাবার। শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মনোবল চাঙা রাখতে পরিবারের সদস্যদের সাথে আছে ভিডিও কলে কথা বলার ব্যবস্থা।

রোগী কিংবা চিকিৎসক সবাই এক শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, তাইতো ওষুধ, পথ্য কিংবা রোগী দেখা সব চলে একটি রুটিন মেনে। আর এসবই যেন তাদের আরগ্যের রেকর্ড গড়ার মূলমন্ত্র। সেবা দিতে গিয়ে হাসপাতালটির অনেক স্বাস্থ্যকর্মী সংক্রমিত হলেও শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ জয়ের প্রত্যয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

ডা. আজহারুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসার সকল সরঞ্জামসহ সব কিছু এখানেই পাচ্ছেন। কোনোকিছুর জন্য বাড়তি দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে না।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রথম থেকে রোগীদের আমরা আলাদা করে রেখেছি। রোগের ধরন দেখেই এই আলাদা করা।

সেবাদানের পাশাপাশি সুস্থ হওয়া মানুষের প্লাজমা সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল।

করোনাকে জয় করতে দরকার দৃঢ় মনোবল। আর পাশে থাকতে হয় আস্থা যোগাবার দুটি হাত। এসব মিলে গেলে অদৃশ্য এই ভাইরাসকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মুক্তি মেলা দুরূহ নয়। সেক্ষেত্রে অনুকরণীয় হতে পারে এই রাজারবাগ হাসপাতাল। দ্রুত মুক্তি মিলবে মহামারি থেকে।


Share It
  • 13
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    13
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here