কলারোয়ায় মনি চেয়ারম্যানের নির্দেশে কৃষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে আটক- ২

Share It
  • 17
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    17
    Shares

নিজস্ব প্রতিনিধি÷ সাতক্ষীরা কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ৭নং চন্দনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনির নির্দেশে কৃষক গোলাম কুদ্দুসকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে দুই জনকে। চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনি নির্দেশে চৌকিদারদের পিটুনিতে শেখ গোলাম কুদ্দুস (৫০) নামের ওই কৃষক মঙ্গলবার (২১ই জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। নিহত গোলাম কুদ্দুস চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদী গ্রামের জোহর আলীর ছেলে। তিনি মাঠে কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। নিহতের মেয়ে মনোয়ারা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবেশী রাজিয়া বেগম ও তার দেবর মনি ফকিরের সঙ্গে অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত থেকে বিয়ে করা ছাড়াই তারা স্বামী স্ত্রী হয়ে এক সঙ্গে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে তার বাবা ওই নারীকে বলতো- ‘তোমরা আর পাপ কাজ করো না।’ এ নিয়ে ওই নারী বিরক্ত হয়ে চন্দনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনির কাছে মৌখিক অভিযোগ দেন।

অভিযোগের পর চেয়ারম্যানের নির্দেশে শুক্রবার (১৭ই জুলাই) ইউনিয়নের চৌকিদার দিলিপ ও অশোক বাড়িতে এসে লাঠি দিয়ে বাবাকে বেধড়ক মারধর করেন। এরপর বাবাকে হাসপাতালে নিতেও বাঁধা দেন চেয়ারম্যান মনি। মনোয়ারা খাতুন আরো বলেন, ভয়ে বাবাকে সে আর মা হাসপাতালেও নিয়ে যেতে পারিনি। মঙ্গলবার সকালে বাবার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেলে তখন চুরি করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পর তার বাবা মারা গেছেন। এ ঘটনায় তার মা ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে কলারোয়া থানায় চেয়ারম্যান মনি ও গ্রাম পুলিশের নামে মামলা দিলেও থানা থেকে চেয়ারম্যানের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। চন্দনপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ডালিম হোসেন জানান, বেধড়ক মারপিটে মাথা, পিঠ, হাত ও কোমরে আঘাতপ্রাপ্ত হন কৃষক শেখ গোলাম কুদ্দুস। মঙ্গলবার সকালে অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে কলারোয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভর্তির করার ঘণ্টা খানেক পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গোলাম কুদ্দুস মারা যান। তিনি আরো বলেন, মারপিট করে হাসপাতালে নিতে বাঁধা দেয়া কোনো সচেতন মানুষের কাজ নয়। চেয়ারম্যান মনি এর আগেও এমনিভাবে একাধিক মানুষকে গ্রাম চৌকিদার দিয়ে পিটিয়েছেন। স্থানীয় এমপি’র ছত্র ছায়ায় থেকে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন চেয়ারম্যান মনি। এ ঘটনায় চন্দনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ করেন তার ছোট ভাই জাকির হোসেন।

তিনি বলেন, মনি চেয়ারম্যান থানায় আছেন। কুদ্দুসকে তার নির্দেশে মারপিটের ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মুনীর উল গীয়াস বলেন, এ ঘটনায় চৌকিদারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হচ্ছে। তবে চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে তাদের পাঠিয়েছিলেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে গৃহবধূ মৌসুমি খাতুন ও তার দেবর মনিকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে চন্দনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনিকে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অধিকতর তদন্ত পূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।


Share It
  • 17
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    17
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here