কেরালাকে সাহায্য করা সেই মেয়েটি বিপদে

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

হানান হামিদের কথা কারও ভুলে যাওয়ার কথা নয়। এই তো কয়দিন আগেই তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় হয়। এই মেয়েটি আজ সঙ্কটে দিন কাটাচ্ছেন।
হানান হামিদ কেরালার কোচির আল আসার কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। বাবা অনেক দিন আগেই সংসার ছেড়ে চলে যান। বর্তমানে মা মানসিক ভারসাম্যহীন। কষ্টের এই সংসারে তার পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
কিন্তু তিনি লেখাপড়া করতে চান। এমনই অদম্য ইচ্ছা নিয়ে রেল স্টেশনে মাছ বিক্রি করা শুরু করেন। এরপরেই খবরের শিরোনামে আসেন হানান হামিদ।
এভাবেই রেল স্টেশনে ঘুরে ঘুরে মাছ বিক্রি করতেন হানান হামিদ
কেরালার একটি প্রথম শ্রেণির দৈনিকের খবরে বলা হয়, রাতে সাইকেল নিয়ে রাজ্যের চম্বক্করার পাইকারি মাছ বাজারে যান হানান। সেখান থেকে মাছ কিনে নিয়ে আসেন কোচির থাম্মানান এলাকায়। সারা দিন ক্লাস করে বাজারে মাছ বিক্রি করতে যান। এভাবেই চলে তার জীবন।
এসময় কেরালায় গত একশো বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। মারা যায় মানুষ। ভেসে যায় ঘরবাড়ি। বিপর্যস্ত  হয়ে পড়ে লাখ লাখ মানুষের জীবন। প্রয়োজন হয় প্রচুর ত্রাণের। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য সরকার কোটি কোটি রুপি সাহায্য দেয়। এসময় হানান হামিদের মন কেঁদে উঠে। কেরালার মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে তুলে দেন তার জমানো দেড় লাখ রুপি!
হানানের সংবাদ সংগ্রহ করতে গণমাধ্যম কর্মীদের ভিড়
হানান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তার দারিদ্রের কথা জানার পরে অনেকেই অর্থ দিয়ে সাহায্য করেন। কিন্তু আমার চেয়ে এখন বন্যার্তদের প্রয়োজন অনেক বেশি। তাই মানুষের থেকে পাওয়া সাহায্যের অর্থ আর্ত মানবতার সেবায় ব্যয় করি।
মানব সেবায় এগিয়ে আসলেও আজ তার জীবন সঙ্কটে। সোমবার রাতে কোচিতে একটি অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার মুখে পড়েন হানান হামিদ। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি লাইটপোস্টে ধাক্কা মারে তার যানটি। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিপদের দিনে কেরালাকে সাহায্য করা এই মেয়েটিই এখন বড় বিপদে।
দুর্ঘটনায় পড়ে হাসপাতালে হানান

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here