ক্ষোভের মুখে সুনামগঞ্জ শহীদ মিনারের বাণিজ্যিক স্থাপনা অপসারণ

Share It
  • 23
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    23
    Shares

১৯৭১ সনে ৬ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ মুক্ত দিবসের পরেই সুনামগঞ্জ শহীদ মিনারের নকশা করে মুক্তিযোদ্ধারা অনন্য শহীদ মিনার নির্মাণ করে ১৯৭১ সনের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেছিলেন। এরপর থেকেই এটি সুনামগঞ্জের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হিসেবে পরিচিতি পেয়ে স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ হয়ে ওঠে। স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ এখানে প্রতিবাদী কর্মসূচিসহ দেশ ও মানুষের পক্ষে উন্মুক্ত কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

সম্প্রতি শহীদ মিনারের পূর্বে হঠাৎ করে বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে ওঠলে ক্ষুব্দ হয়ে ওঠেন মুক্তিযোদ্ধারা। তারা অবিলম্বে এই স্থাপনা অপসারণের আহ্বান জানান। তাছাড়া শহীদ মিনারের মালিকানা নিয়েও সম্প্রতি জেলা জজ আদালতের নাজির আদালতে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করলে এ ঘটনায় ক্ষুব্দ হয়ে ওঠেন মুক্তিযোদ্ধারা।

জানা গেছে, এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জরুরি দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে তাতে মুক্তিযোদ্ধারা অবিলম্বে এই বাণিজ্যিক স্থাপনা অপসারণ করে নিতে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান। অপসারণ না হলে মুক্তিযোদ্ধারা আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ শহীদ মিনারে ফুল না দিয়ে প্রতীকী শহীদ মিনার করে প্রতিবাদ স্বরূপ অন্যত্র শহীদদের শ্রদ্ধাঞ্জলি দিবেন বলে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের এই ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে অবশেষে বুধবার রাতে শহীদ মিনারের সৌন্দর্য্য নষ্ট করে গড়ে ওঠা স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এসময় বিপুল সংখ্যক পুলিশও উপস্থিত ছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধারা জানান, সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যের অনন্য শহীদ মিনারের সৌন্দর্য্য আড়াল করে সম্প্রতি পূর্বদিকে হঠাৎ করে মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছিল। এটি দেখার পর তাৎক্ষণিক মুক্তিযোদ্ধারা জেলা প্রশাসন ও পৌরসভায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন কোনো অনুমতি ছাড়াই স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন জেলার তাঁরা।

মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার আবেগ ও শ্রদ্ধার প্রতি সম্মান দেখিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন ‘সুনামগঞ্জ শহীদ মিনারের জায়গা সংক্রান্ত মামলার সর্বশেষ অবস্থা এবং জায়গার মালিনাকা সংক্রান্ত তথ্যভিত্তিক বাস্তব প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপকমিটি’ গঠন করা হয়। ওই কমিটি ইতোমধ্যে দুটি সভা করে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

গত মঙ্গলবার স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেনের কক্ষে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় মুক্তিযোদ্ধা আলী আমজদ, মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু, মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীর, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদসহ সুধীজন অবিলম্বে নির্মাণাধীন বাণিজ্যিক স্থাপনা অপসারণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে সদর থানার ওসি মো. সহিদুর রহমান বলেন, মাননীয় আদালত আমাদেরকে ডাকায় আমরা শহীদ মিনারের কাছে এসে দায়িত্ব পালন করেছি।

মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীর বলেন, আমাদের ৫০ বছরের দৃশ্যমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারকে অস্বীকার করে সম্প্রতি একটি মামলা করা হয়েছে। এই মামলার মধ্যেই রাতারাতি রাতের অন্ধকারে বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছিল। আমরা এই অন্যায় ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম। শুনেছি বুধবার রাতে যারা স্থাপনা করেছিলেন তারাই শ্রমিক দিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় আমি ব্যক্তিগতভাবেও আইনগতভাবেও মোকাবেলা করব। কারণ শহীদ মিনার আমার হৃদয়।


Share It
  • 23
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    23
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here