নিজস্ব প্রতিবেদকঃ- নিরেন দাস।জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে শ্বশুরালয়ে শামীমা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধুকে যৌতুকের দাবীতে মাথার চুল কেটে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্বামী সহ শুশ্বর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। উপজেলার করমজি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের করা হলে এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী সহ ৩ জনকে আটক করেছে আক্কেলপুর থানা পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন, ওই গৃহবধুর স্বামী রুহুল আমিন (৩০) দেবর শাহীন হোসেন (২৫) এবং শ্বশুর আবুল কালাম আজাদ (৬০) কে আটক করেছে থানা পুলিশ।
মামলার এজাহার ও স্থানীদের সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার পোঁওতা গ্রামের মাহাতাব সরদারের মেয়ে শামীমা আক্তারের সাথে আক্কেলপুর উপজেলার করমজি গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে রুহুল আমিনের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ে পরে সংসার জীবনে তাদের তিনটি সন্তান রয়েছে। তবে যৌতুকের দাবীতে প্রায় সময় ওই গৃহবধু শামীমাকে স্বামী সহ তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন নির্যাতন করে আসছিল। এক পর্যায়ে গত ১৪ অক্টোবর দুপুরে গৃহবধুকে তার বাবার বাড়ি থেকে তিনলক্ষ টাকা নিয়ে আসার জন্য চাঁপ প্রয়োগ করে রুহুল আমিন। এতে ওই গৃহবধু অস্বীকৃতি জানায়। তখন গৃহবধুর স্বামী রুহুল আমিন ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি দিয়ে বেধরক মারপিট করে। এক পর্যায়ে দেবর শাহীন হোসেন এবং শ্বাশুড়ি নাজমা বেগম গৃহবধুর দুই হাত বেঁধে রাখেন। এরপর স্বামী রুহুল আমিন কাঁচি দিয়ে গৃহবধুর মাথার অর্ধেক চুল কেটে দেয়। পরে গৃহবধু তার উপর নির্যাতনের ঘটনাটি তার পরিবারের লোকজনকে জানায়।

ওই ঘটনার পাঁচ দিন পর আবারো গত ১৮ অক্টোবর রাতে যৌতুকের দাবীতে স্বামী রুহুল আমিন তার গৃহবধুকে আর এক দফায় লাঠি দিয়ে বেধরক মারপিট করে হাত পাঁ দড়ি দিয়ে বেঁধে আঙ্গীনায় ফেলে রাখে। খবর পেয়ে ১৯ অক্টোবর গৃহবধুর পরিবারের লোকজন তার জামাইয়ের বাড়িতে এলে রুহুল আমিন তাদের উপরেও চড়াও হন। একপর্যায়ে গুরুত্বর আহতঅস্থায় ওই গৃহবধুকে তার পরিবারের লোকজনের সাথে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এঘটনার সূষ্ঠ বিচার চেয়ে গত ২০ অক্টোবর গৃহবধুর মা বাদী হয়ে স্বামী, দেবর, শ্বশুর-শ্বাশুড়ি নামে আক্কেলপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে আটক করেন।
গৃহবধুর মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ৫ বছর আগে মেয়েকে অনেক টাকা খরচ করে ধুম-ধাম করে বিয়ে দিয়েছিলাম। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই যৌতুকের দাবীতে মেয়েকে শারীরিক সহ বিভিন্ন নির্যাতন করতো জামাই সহ তার পরিবারের লোকজন। আমরা মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে আমি মুখবুজে সব সয্য করেছিলোম। সেই দিন মেয়ের হাত পা বেঁধে বেধরক লাঠি দিয়ে পিটে মাথার চুল পর্যন্ত কেটে নিয়েছে। আমি আমার মেয়ের প্রতি নির্যাতরেণ বিচার চেয়ে আক্কেলপুর থানায় মামলা দায়ের করেছি।
ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ  আব্দুল লতিফ খাঁন বলেন, গৃহবধু শামীমাকে শারীরিক নির্যাতন ও চুল কাটার ঘটনাটি জানার পরই ততক্ষণিক আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়েছি, তাদের অভিযোগটি মামলা হিসেবে নিয়েছি।তিনি আরও বলেন খুব দ্রুত ৩ জন আসামীকে আটক করতে সক্ষম করে বুধবার আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেল হাজাতে পাঠানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here