চট্টগ্রামে কঠোর লকডাউনের তাগিদ

Share It
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares

চট্টগ্রামে করোনা রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়লেও নানা জটিলতায় রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত ৯টি ওয়ার্ড আপাতত লকডাউন করছে না স্বাস্থ্য বিভাগ। কাট্টলী ওয়ার্ডের ২১ দিনের লকডাউন সময়সীমা শেষ হওয়ার পরই সেই অভিজ্ঞতা থেকে বাকি ওয়ার্ডগুলোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে হটস্পটে পরিণত এই নগরীর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এখন কঠোর লকডাউনের তাগিদ চিকিৎসকসহ সুশীল সমাজের।

নগরীর রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত ১৬ নম্বর লালখান বাজার এবং ২০ নম্বর জামাল খান ওয়ার্ডে কোনো রকম সামাজিক দূরত্ব না মেনেই এখানে চলছে প্রাত্যহিক জীবনের কাজ। রেডজোন ঘোষণার পরও প্রশাসন লকডাউন না করায় এখানকার জনজীবন অনেকটাই স্বাভাবিক। লকডাউন হওয়া ওয়ার্ডেও অভিজ্ঞতা নিতে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না স্বাস্থ্য বিভাগ। অথচ চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত করোনা পজিটিভ হওয়া ৬ হাজার ৪৮০ জনের মধ্যে ৪ হাজার ৩৯২ জন নগরীর বাসিন্দা। যা মোট আক্রান্তের ৬৮ শতাংশ।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ১৪ দিন পরপর এই জোনগুলো সমন্বয় হবে আবার। সরকার যেভাবে নির্দেশনা দেবে সেই নির্দেশনা মেনেই আমরা কাজ করব।

নগরীর কোতোয়ালী থানা এলাকায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। যার সংখ্যা ৫৭৮ জন। মৃত্যুর দিক থেকেও এগিয়ে কোতোয়ালী। মোট মৃত্যুবরণ করা ১৪৪ জনের মধ্যে অন্তত ১৫ জন কোতোয়ালি থানা এলাকার। সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত ১০টি ওয়ার্ডের মধ্যে তিনটি ওয়ার্ডই কোতোয়ালী থানা এলাকার। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না আসায় কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না পুলিশ প্রশাসন।

সিএমপি’র উপ-কমিশনার এস এম মেহেদী হাসান বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের কাছ থেকে আমরা যখনই লকডাউনের নির্দেশনা পাব তখনই কাজ করব। আমরা সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।

নগরীতে করোনা রোগী সংখ্যা আশংকাজনক হারে বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে এখন আর জায়গা হচ্ছে না। এমনকি চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যান্য রোগীরাও। এ অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুধুমাত্র রেডজোন নয়, পুরো নগরীতে কঠোর লকডাউনের কথা বলছেন চিকিৎসকসহ সকলেই।

চট্টগ্রামের জনস্বাস্থ্য অধিকার কমিটির আহ্বায়ক ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, লকডাউন দিয়ে এটা আর সামাল দেয়ার মতো অবস্থা নাই।

চট্টগ্রামের জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক শরীফ চৌহান বলেন, যেসব এলাকাকে রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সেসব জায়গায় শুধু লকডাউন দিয়ে হবে না, সেখানে কারফিউ দেয় উচিত বলে আমরা মনে করি।

এখন থেকে লকডাউনকৃত এলাকাগুলো ২১ দিনের বিধি নিষেধের আওতায় থাকবে। সে অনুযায়ী এলাকাগুলোতে সাধারণ ছুটিও ঘোষণা করেছে সরকার। তবে রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত ৩৭, ৩৮ ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড ইপিজেডের পাশাপাশি শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় জটিলতা আরও ব্যাপক রূপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।


Share It
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here