চাকরি দেওয়ার নামে কোটি টাকা নিয়ে প্রতারক উধাও

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকির দেওয়ার নাম করে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রতারকের বিরুদ্ধে। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা রণচণ্ডি ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিলে প্রতারক মোশফেকুর রহমান (৩০) সপরিবারে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
জানা গেছে, রণচণ্ডি ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে মোশফেকুর রহমান নিজেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের পরিদর্শক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নামে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার দীর্ঘ দুই থেকে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও কোন চাকরিপ্রার্থীর চাকরি না হওয়ায় তারা ওই প্রতারকের বাড়িতে টাকা ফেরতের দাবিতে চাপ অব্যাহত রাখলে মোশফেকুর সপরিবারে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
রণচণ্ডি ইউনিয়নের বাফলা হাজিপাড়া গ্রামের কবিনুর ইসলাম জানান, আমার গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে শফিউল ইসলাম জুয়েল প্রতারক মোশফেকুর রহমানের বন্ধু। জুয়েল আমাকে জানায়, মোশফেকুর স্বাস্থ্য বিভাগের পরিদর্শক (অডিটর)। সে আমার ছেলে নাহিদ হাসানকে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি নিয়ে দেবে। তাই আমি ধানের জমি বন্ধক রেখে ওই প্রতারককে ছেলের চাকরির জন্য তিন লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়েছি। কিন্তু বর্তমানে চাকরি তো দূরের কথা তার দেখা পাওয়া কঠিন।
একই গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে সাজু মিয়া বলেন, ওই প্রতারকের খপ্পরে পরে আমি আমার শ্যালক সেলিম মিয়ার চাকরির জন্য গত দুই বছর আগে হালের গরু ও ধান বিক্রি করে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দিয়েছি। কথা ছিল আমার শ্যালকের চাকরি বাবদ তাকে মোট ৬ লাখ টাকা দিতে হবে। কিন্তু এখন টাকা উঠাতে না পারলে আমার বাড়িতে থাকা দায় হয়ে পড়েছে।
রণচণ্ডি ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের নুরুজ্জামান বলেন, আমার ছেলে নুরু হোসেন নীলফামারী সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। অনেক কষ্ট করে আমি আমার ছেলেকে অনার্সে ভর্তি করিয়েছি। মোশফেকুরের বাড়ি আমার বাড়ি একই জায়গায়। তাই ওকে বিশ্বাস করে আমার বাড়ি ভিটার ১০ শতক জমি বিক্রি করে তাকে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিয়েছি। কিন্তু বর্তমানে সে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
এ রকম ভুক্তভোগী কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের গদা গ্রামের বাদশা মিয়া, বড়ভিটা ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়ভিটা গ্রামের মশিয়ার রহমান, গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের আমজাদ হোসেনসহ অনেক বেকার যুবক চাকরির জন্য টাকা দিয়ে চাকরি ও টাকা না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
রণচণ্ডি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান বিমান বলেন, মোশফেকুর রহমান গ্রামের অনেক বেকার যুবকের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছে।
কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মফিজুল হক বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা। তার বিরুদ্ধে থানায় কেউ অভিযোগও করেনি। অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here