স্বাধীনতা সংগ্রামের অকুতোভয় সৈনিক ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল শওকত আলীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।শরীতপুরের নড়িয়া বিএল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মঙ্গলবার(১৭ নভেম্বর) বাদ জোহর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এরআগে সকালে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার করে তার মরদেহ শরীয়তপুরের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক আবদুর রউফ স্টেডিয়ামে নেয়া হয়।পরে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় নড়িয়া উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে এই বীর মুক্তিযোদ্ধার কফিনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষ।

সোমবার (১৬ নভেম্বর) সকালে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল(সিএমএইচে) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।৮৪ বছর বয়সী সাবেক এই ডেপুটি স্পিকার কিডনির জটিলতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন।

এরপর সোমবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার মরদেহে শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।এর আগে জাতির এই কৃতী সন্তানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।গার্ড অব অনার প্রদান শেষে রাষ্ট্রপতির মোহাম্মদ আবদুল হামিদের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতির সহকারি সামরিক সচিব কর্নেল রাজু আহমেদ।এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সামরিক সচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাজিব আহমেদ।স্পিকারের পক্ষে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন উইং কমান্ডার সাঈদ মো. ওবায়দুল্লাহ।পরে বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার লোনসিং বাহের দিঘীরপাড় গ্রামে ১৯৩৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি নেয়ার পর ১৯৫৯ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন পান তিনি।

ষাটের দশকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বিপ্লবী পরিষদের সদস্য ছিলেন তিনি।রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ২৬নম্বর আসামি ছিলেন তিনি।এ মামলায় মালির ক্যান্টনমেন্ট থেকে ১০ জানুয়ারি ১৯৬৮ তারিখে গ্রেফতার হন।১৯৬৮-৬৯ সালে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে প্রায় ১৩ মাস কারাগারে ছিলেন।১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করেন তিনি। এরপর ১৯৬৯ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয়।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকালে  মাদারীপুর এলাকার কমান্ডার পরে ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে সাব-সেক্টরের কমান্ডার ও প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ছিলেন তিনি।মুজিবনগরস্থ সশস্ত্রবাহিনীর সদর দপ্তরের স্টাফ অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন শওকত আলী।মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন।১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যান স্বাধীনতা সংগ্রামের এই অকুতোভয় যোদ্ধা।অবসরের সময় কর্ণেল পদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে অর্ডন্যান্স সার্ভিসেসের পরিচালক নিযুক্ত হন তিনি।

রাজনীতি সচেতন শওকত আলী দ্বিতীয়বার জাতীয় সংসদে সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে একে একে পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, নবম ও দশম সংসদের সদস্য হন।এর মধ্যে নবম সংসদে ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here