জাককানইবি শিক্ষার্থীদের বৃষ্টিতে ভিজে জুমা’র নামাজ আদায়

মো ফাহাদ বিন সাঈদ, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি)।১৩ সেপ্টেম্বর রোজ শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে প্রতিদিনের মতোই জায়গা সংকুলান না হলে মুসল্লীরা মসজিদের সামনের অংশে জুম্মা’র নামাজ আদায় করার প্রস্তুতি নেয়। নামাজ চলাকালীন সময় হঠাৎ করে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়,এসময় নামাযে দাঁড়িয়ে থাকা মুসল্লীরা বৃষ্টিতে ভিজেই নামাজ আদায় করে। নামাজ আদায় শেষে সকলের চোখে মুখে ক্ষোভ আর হতাশার ছাপ লক্ষ্য করা যায়। এসময় এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশ। আর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯০% শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী মুসলিম।আর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স ১২ বছর পেরিয়ে গেলোও আজ পর্যন্ত ভালো মানের মসজিদ স্থাপন করতে পারেনি প্রশাসন। কিন্তু এ সমস্যার সমাধান দিবে কে? এমন ভাবে নামাজ আদায় করা আমাদের জন্য চরম ভোগান্তির এবং লজ্জার বিষয়। নামাজ পড়তে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করি ১০ বছর ধরে। সবকিছুর টুকটাক উন্নিতি হলেও এই মসজিদের দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তাকানোর সুযোগ হয় নি। বাইরের লোকজন যখন আসে,তখন তারাও লজ্জিত হয় মসজিদের এর দশা দেখে। অন্য এক শিক্ষার্থী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপর গজব পড়বে। তারা আজ অন্ধ। দেখেও দেখে না। বাইরের কেউ যখন এ নিয়ে কথা বলে,তখন হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। এই বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, যখন আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হই,তখন থেকেই আমি নিজেও ভীষণ ভাবে লজ্জিত। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে প্রাথমিক মুল নিজিস উপাসনালয়,অডিটোরিয়াম এগুলো কিছুই নাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স এক যুগ পেরিয়ে গেলেও এতগুলো উপাচার্য তাদের মেয়াদকালে কেউই এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেয় নি। বিষয়টা আমাকে তীব্রভাবে নাড়া দিয়েছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে জোরালো আবেদন জানিয়েছি। আমি আশাবাদী আগামী নভেম্বরের মধ্যে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম এবং মসজিদ বাবদ একটা টেন্ডার পাবো। মসজিদ স্থাপনার কাজ কোথায়, কবে শুরু হবে জানতে চাইলে তিনি জানান,চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে,এবং উক্ত স্থানেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ নির্মাণ করার পরিকল্পনা আছে বলে জানান তিনি। মসজিদের বর্তমান সমস্যা সমাধানে অতি শীঘ্রই মসজিদের সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!