জৈন্তাপুরে ইউপি সদস্য সৈয়দ আব্দুল হাসিম-কে সামাজিক ভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে মামলায় জড়ানো হয়েছে

Share It
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি- জৈন্তাপুর উপজেলার শ্রীপুর মোকামপঞ্জি খাসিয়া পল্লী’র ঘটনার সাথে জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সৈয়দ আব্দুল হাসিম সন্দই মেম্বারকে জড়ানো হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী এবং খাসিয়া পল্লীর হেডম্যান সহ অনেকের সাথে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানাগেছে। এই ঘটনার সাথে ইউপি সদস্য সৈয়দ আব্দুর হাসিম সন্দই মেম্বারকে জড়ানো হয়। স্থানীয় খাসিয়া পল্লীর হেডম্যান সহ জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এই মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়ার দাবী জানান। সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানা যায়, অন্তত ৬/৭বছর পূর্ব থেকে ভিকটিম মোকামপুঞ্জি খাসিয়ার পল্লী’র সুরেশ পাত্রের মেয়ে সুচনা পাত্র‘র সাথে আলুবাগান গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ আব্দুল হাসিম সন্দই মেম্বারের পুত্র নাজিম উদ্দিনের গভীর প্রেমের সর্ম্পক ছিল।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এক পর্যায়ে পরিবারিক ভাবে ছেলের পক্ষ বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলে তাতে ভিকটিম সুচনা পাত্র‘র পরিবার তাতে রাজী হন নাই। সামাজিক ভাবে নিষ্পত্তি করতে খাসিয়া পুঞ্জিতে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা সালিশ বৈঠক আহবান করা হয়। পরবর্তীতে সালিশে থাকা অবস্থায় জৈন্তাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং-৯/১১৬,তারিখ ১১ মে,২০২০ইং। এতে জৈন্তাপুর ইউপি সদস্য সৈয়দ আব্দুল হাসিম সন্দই মিয়াকে জাড়ানো হয়। বিষয়টি সুষ্ট সমাধানের লক্ষ্যে জৈন্তাপুর ইউপি চেয়ারম্যান এখলাছুর রহমান, স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের হেডম্যান বানন লামিন ও খাসিয়া সম্প্রদায়ের একাধিক সদস্য ভিকটিমের পরিবারের সমন্বয়ে কয়েকটি সালিশ বৈঠক হয়।

তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান, যেহেতু ভিকটিমের সাথে দীর্ঘদিন সু-সম্পর্ক থাকায় এই ঘটনার সাথে নাজিম উদ্দিন সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ধারনা করা হয়। ইউপি সদস্য একাধিক বার সামাজিক ভাবে বিষয়টি মর্যাদাপূর্ণ ভাবে নিষ্পতি করার চেষ্টা করে। এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য সৈয়দ আব্দুল হাসিম সন্দই মেম্বারের পরিবারের সদস্য তার পুত্র বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শামীম আহমদ বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধী‘র সুষ্ট বিচার হউক আমিও চাই। কিন্তু এই ঘটনায় আমার পিতা ইউপি সদস্য সৈয়দ আব্দুল হাসিম সন্দই মেম্বার কোন ভাবে জড়িত নন। শুধুমাত্র সামাজিক ভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে তাকে জড়ানো হয়েছে। তিনি আরোও জানান, আমার পিতা একজন সমাজসেবী শিক্ষানুরাগী ও সামাজিক মর্যাদা সম্পন্ন সালিশ ব্যক্তিত্ব।

আমাদের-কে পারিবারিক হেয়প্রতিপন্ন ও মান সম্মান ক্ষুন্ন করতে এই ঘটনায় তাহাকে জড়িয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপ্রপ্রচার করা হয়েছে। আমি এই অপ্রপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাই এবং সরজমিনে তদন্ত করে অবিলম্বে এ ঘটনায় প্রকৃত দায়ীদের চিহিৃত করে ইউপি সৈয়দ আব্দুল হাসিম সন্দই মেম্বার-কে মামলা কে অব্যহতি দেয়ার দাবী জানাচ্ছি। এ বিষয়ে আদিবাসী সম্প্রদায়ের হেডম্যান বানন লামিন‘র এই সাথে প্রতিবেদক কে জানান, ভিকটিমের পরিবারে নাজিম উদ্দিন দীর্ঘ ৭/৮বৎসর থেকে যাওয়া আসা করত। আমরা কয়েক দফা এই বিষয়ে সামাজিক ভাবে নিষ্পত্তি করতে বৈঠক করি।

সালিশ বৈঠকে থাকা অবস্থায় নাজিম উদ্দিন ও তার পিতা ইউপি সদস্য‘র বিরুদ্ধে মামলা করার পর ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হই। ভিকটিমের পরিবার আমাদের আদিবাসী সম্প্রদায়ের সাথে মামলার বিষয়ে আলাপ আলোচনা করে নাই। বিষয়টি সুষ্ট সমাধানের জন্য কয়েক দফা সালিশ বৈঠক হয়েছে। তিনি আরো জানান আগামী ১৫ জুন এই ঘটনার বিষয়ে একটি সালিশ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এক্ষেত্রে ইউপি সদস্য সৈয়দ আব্দুল হাসিম সন্দই মেম্বার কোন অবস্থায় জড়িত নহে।

আমাদের দাবী ঘটনায় প্রকৃত অপরাধী ব্যতীত অহেতুক ভাবে ঘটনায় জড়ীত নন এমন ব্যক্তিদের হয়রানী না করতে প্রশাসনের প্রতি দাবী জানাই। এ বিষয়ে জৈন্তাপুর ইউপি চেয়ারম্যান এখলাছুর রহমান প্রতিবেদককে জানান, ঘটনায় আমার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কোন অবস্থায় জড়িত নহে বরং ইউপি সদস্য বিষয়টি জানার পর সামাজিক মর্যাদা দিয়ে নিষ্পত্তির চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারপরও ভিকটিমের পরিবার সামাজিক ভাবে হেও প্রতিপন্ন করতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে এবং বিষয়টি সুষ্ট নিষ্পতির জন্য আমরা সামাজিক ভাবে আপোষ নিষ্পত্তির চেষ্টা করে যাচ্ছি।


Share It
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here