জৈন্তাপুরে শতাধিক হেক্টর জমিতে শিমের বাম্পার ফলন পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকায় বেড়েছে শিম চাষ

Share It
  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    6
    Shares

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি ঃ প্রকৃতি কন্যা সিলেটের উপজেলা জৈন্তাপুর। যেখানে রয়েছে বালু, পাথর, প্রাকৃতিক গ্যাস সহ বহু খণিজ সম্পদ। রয়েছে কয়েকটি চা বাগান। তাছাড়া কৃষি ক্ষেত্রেও জৈন্তাপুর উপজেলায় সম্ভাবনার কোন কমতি নেই। বছরের প্রতিটি মৌসুমে একেক রকম শাক-সবজি ও ফলমুল পাওয়া যায়। এর মধ্যে যেমন সিলেট সহ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাজারজাত হয় হরিপুরের জাড়া লেবু আর সবজির মধ্যে অন্যতম নিজপাটের শিম। মাত্র কিছু কাল পূর্বেও এখানকার হাজার হাজার হেক্টর জমি অনাবাদী ছিল।

মৌসুমী শাক-সবজি ত দূরের কথা, বছরের দু-একটি ধানী ফসল ফলানোর প্রতিও আগ্রহ ছিল না কোন চাষীদের মাঝে। বর্তমানে জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সবজি চাষে অপার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এসকল চাষীরা সরকারী সুযোগ-সুবিধা পেলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সবজি রপ্তানীর মাধ্যমে স্থান করে নিতে পারে সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলাকে। উপজেলার ১নং নিজপাট ইউনিয়নের পাখিবিল, কামরাঙ্গী, কালিঞ্জী, হর্ণি, ময়না, মাঝরবিল, রূপচেং, জৈন্তাপুর ইউনিয়নের কেন্দ্রী, লক্ষীপুর, রাংপানি, বিড়াইমারা, মোয়াখাই, লামনীগ্রাম চারিকাটা ইউনিয়নের থুবাং, লালাখাল, সরুখেল’র গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা জূড়ে মৌসুমী সবজি শিম সহ বিভিন্ন জাতের শাক- সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে।

স্থানীয় মৌসুমী চাষীরা ধানী জমি ছাড়াও পতিত জমি এবং রাস্তার দু-পাশ শিমের চাষ যেন এক সবুজের সমারোহ। এ সকল গ্রামের পাশর্^ দিয়ে রয়েছে সারী নদী, তার পরেই রয়েছে পর্যটন অঞ্চল লালাখাল। প্রতিদিন বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকরা পথিমধ্যে থেমে পড়েন শিম বাগানে। এমন সবুজ-শ্যামল প্রকৃতির মাঝে দাড়িয়ে ইচ্ছেমত নিজেকে ক্যামেরাবন্ধি করছেন সব বয়সের মানুষ। স্থানীয় চাষীদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, চলতি বছরে প্রায় ১শ ২০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছে। শিম চাষে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের প্রায় ৫৪০টি পরিবার উপকৃত হয়েছে।

বাণিজ্যিকভাবে হওয়া এই শিম চাষে এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকার একটি আমুল পরিবর্তন লক্ষনীয়, কারন এ অঞ্চলের মানুষ ছিল পাথর কোয়ারী নির্ভর। অথচ পাথর এবং বালু কোয়ারীগুলো দীর্ঘ দিন থেকে বন্ধ থাকায় মানুষের মাঝেও কর্মের পরিবর্তন দেখা দিয়েছে । এখন অনাবাদী জমি আবাদ হচ্ছে, মানুষ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। বর্তমানে শিমের মৌসুম প্রায় শেষ পর্যায়, তবে এখন চলছে শিমের বীজ (বিছি) সংগ্রহ ও বিত্রিæ। শিম স্থানীয় বাজারে বিত্রিæ হলেও বীজ (বিছি) বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও বিদেশে রপ্তানী হয়ে থাকে। কয়েক জন শিম চাষীর সাথে আলাপকালে তারা জানায়, বিশাল এই এলাকা জুড়ে শিমের চাষ হয়, উপজেলা কৃষি অফিসের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে এবং চলতি মৌসুমে প্রাকৃতিক কোন দূর্যোগ না হওয়ায় সময় মত ফসল উত্তোলন সম্ভব হয়েছে। ভতিষ্যতেও উপজেলার কৃষি বিভাগের সার্বিক সহায়তা অভ্যাহত থাকলে এ অঞ্চলের শিম চাষীরা যেমন আগ্রহী হবে তেমনিভাবে তারা কিছুটা হলেও উপকৃত হবে।

এব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ ফারুক হোসাইন’র সাথে এ প্রতিবেদকের আলাফ কালে তিনি জানান, জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সর্ব মোট ১২০ হেক্টর জমিতে সবজী চাষ হয়েছে, তবে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ১নং নিজপাট ইউনিয়নের পাখিবিল, কামরাঙ্গী সহ আশ- পাশের বেশ কয়েকটি গ্রামে।


Share It
  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    6
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here