স্বাধীনতা পরবর্তী ভারত সরকারের দেওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম নেই। স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিবার্তায় প্রকাশিত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায়ও নেই তার নাম। এমনকি ১৯৮৭ সালের জাতীয় তালিকাতে ও তার নাম ছিল না।

২০০৯ সালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক প্রকাশিত তালিকাতেও তার নাম ছিল না। এরপর ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে সংশোধিত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম উঠিয়ে মাসিক ভাতাসহ যাবতীয় সুবিধা ভোগ করছেন তিনি। গত পাঁচ বছর হলো এভাবে তিনি সরকারের কোষাগার থেকে লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করছেন। কথিত ওই মুক্তিযোদ্ধার নাম মোঃ হাফিজুর রহমান। সে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ১০ নং কাষ্টভাঙা ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের মো. মল্লিক শেখের ছেলে।খুলনা বিভাগীয় মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার নম্বর ১৯৮ এবং গেজেট নম্বর ২১০৬। অভিযুক্ত এই মুক্তিযোদ্ধার এক ছেলে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পুলিশে চাকরি করছেন।এনিয়ে সম্প্রতি তার প্রতিবেশী তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের মৃত গোলাম কুদ্দুস শেখের ছেলে আশরাফ আলী একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযোদ্ধা চলাকালীন সময়ে হাফিজুর রহমানের বয়স ছিল ১১ থেকে ১২ বছর। সে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি।এমনকি ভারতে গিয়ে কোনো প্রশিক্ষণেও অংশ নেয়নি। স্বাধীনতার এত বছর পর ২০০৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বৃদ্ধি কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। এরপর নড়েচড়ে বসে এই চতুর হাফিজুর রহমান। এরপর আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম উঠিয়ে নেয়। এরপর থেকে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকার ঘোষিত সমস্ত সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে আসছেন।অভিযোগ সম্পর্কে অভিযুক্ত মো. হাফিজুর রহমান আরটিভি নিউজকে জানান, একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। অনেক তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা সাক্ষী দিয়েছে আমিও মুক্তিযোদ্ধা।

তবে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হেলাল উদ্দিন সরদার জানান, তার মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার বিষয়ে আমার জানা নেই। আমাদের সাথে এই নামে উপজেলায় কোনো মুক্তিযোদ্ধা ছিল না।
তাহলে কিভাবে মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত হলো এবং ভাতা উত্তোলন করেন, এমন প্রশ্নে এই কমান্ডার বলেন, আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে সে হয়তো তালিকাভুক্ত হয়ে থাকতে পারে। আর তালিকাভুক্ত হলে ভাতা তুলবে এটা স্বাভাবিক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here