ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ‘অবরুদ্ধ’ জমি-জমা দখল করে কেটে নেওয়া হচ্ছে গাছপালা

Share It
  • 396
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    396
    Shares

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ফুরসন্দি গ্রামে অবসারপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমানের পরিবার এখন অবরুদ্ধ। তার জমি-জমা দখল করে গাছপালা কেটে নেওয়া হচ্ছে। কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। প্রভাবশালী একটি মহল মুক্তিযোদ্ধা এই পরিবারকে এখন গ্রাম থেকে উচ্ছেদের পায়তারা করছে।

মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমানের মেয়ে শাহনাজ পারভিন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পাঠানো এক লিখিত অভিযোগে এসব কথা উল্লেখ করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ফুরসিন্দ গ্রামের আব্দুল হালিম, অশ্বিন, আনসার আলী ও রেজাউল তার বাবার নামিয় ফুরসন্দি মৌজায় ৩৬৩ নং দাগের প্রায় ৭০ হাজার টাকা দামের একটি গাছ জোর করে কেটে নিয়েছে। মিয়া বংশের পক্ষ থেকে একই মৌজার ৩৬৪ নং দাগের ২৪ শতক জমি ঈদগাহর নামে দান করা হলেও, জোর করে ঈদগাহর জায়গা দখল করে নেওয়া হয়েছে। তার বাবার ৩৫১ নং দাগের ৭ শতক জমি সোহান নামে একজন জবরদখল করেছেন। ৩৪৮ দাগের ৬ শতক জমি প্রভাব খাটিয়ে নিজ নামে রেকর্ড করে নিয়েছে আরশাফ মিয়া।

মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমান ও তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম বলেন, আমরা খুবই অসুস্থ। কিন্তু আমাদের ওপর চরমভাবে দমন-পীড়ন ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। রাষ্ট্র থেকে কোন সুরক্ষা পাচ্ছি না। আমার তিন মেয়ে, বিয়ের পর সবাই স্বামীর সংসার করছে। একমাত্র ছেলে ঢাকায় চাকরি করেন। এই সুযোগে গ্রামের একটি মহল আমার সহায়-সম্পত্তি একের পর এক দখল করে নিচ্ছে।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শাহনাজ পারভীন লিখিত বক্তব্যে আরো অভিযোগ করেন, দাদার আমলের ঝাড়ের বাশ কাটতে গেলে আরশাফের ছেলে তারিকুল আমার বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে কোপাতে আসে। তারা হত্যার হুমকি দেয়। আমার অসুস্থ পিতা-মাতাকে বাড়িতে একা পেয়ে গ্রামের হারুন মোল্লা তার বাড়ির ময়লা ও নোংরা পানি ড্রেন দিয়ে আমাদের বাড়ির মধ্যে ঢুুকিয়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, এসবের প্রতিবাদ করায় হারুন মোল্লার স্ত্রী আল্লাদি খাতুন সন্ত্রাসী ভাড়া করে এনে আমার বৃদ্ধ মা রোকেয়া বেগমকে মারধর করেছে। এছাড়া আরশাফ ও আশ্বিন আমার পিতা-মাতাকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নির্যাতন করে আসছে। অথচ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা সেনা সদস্য হয়েও তার বাবা কোন বিচার পাচ্ছেন না।

পরিবারটির ভাষ্য, দুই মাস আগে বিষয়টি নারিকেল বাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ি ও ঝিনাইদহ থানায় জানানো হলেও তারা নুন্যতম কোন প্রতিকার পায়নি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে মুক্তিযোদ্ধা অসহায় এই পরিবারটি।

বিষয়টি নিয়ে ফুরসন্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক মিনা জানান, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমানকে আমি চিনি। তাকে একঘরে করে রাখা হয়েছে। ওই পরিবারের সাথে কাউকে মিশতে দেওয়া হচ্ছে না বলে আমি শুনেছি।

তিনি বলেন, যারাই এই কাজটি করুক, তারা মোটেও ভালো করেনি। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান জানানো উচিৎ। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক মিনা জানান।

জমিজাতি-দখল নিয়ে তিনি বলেন, এক সময় ফুরসিন্দ গ্রামের মিয়াদের জমিজাতি যারা ভাগে-বর্গায় করতো, তারাই এখন এসবের সাথে জড়িত বলে তিনি মনে করেন।


Share It
  • 396
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    396
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here