মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে যেন আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই। অবশ্য তিনি নিজেও হয়তো আলোচনায় থাকতে পছন্দ করেন। কখনো পরিবার, কখনো প্রেসিডেন্সিয়াল দায়িত্ব, অনেক সময় তার অতীত জীবনসহ নানা বিষয়ে রয়েছে নানা আলোচনা। তবে সব আলোচনার শীর্ষে থাকে তাঁর রিুদ্ধে যৌনতার অভিযোগ।

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম এ প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ২৬ জন নারী যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ উত্থাপন হয় ২০১৬ সালে তিনি যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন আর পূর্বে। পরবর্তীতে একে ২৬ জন নারী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌনতা নিয়ে মুখ খোলেন।

ট্রাম্পের এসব বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একটি বইও প্রকাশিত হয়েছে। ‘অল দ্য প্রেসিডেন্ট’স উইমেন: ডোনাল্ড ট্রাম্প এন্ড দ্য মেকিং অব এ প্রিডেটর’ নামে বইটি লিখেছেন বেরি লেভিন। বইটিতে এমন অন্তত ১০০ নারীর সাক্ষাৎকার রয়েছে যারা বিভিন্ন সময়ে ট্রাম্পের সংস্পর্শে ছিলেন। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত যারা অভিযোগ এনেছেন তার মধ্যে রয়েছে;

ই. জিন ক্যারোল:


ক্যারোল পেশায় একজন সাংবাদিক। নিউ ইয়র্কে বের্গডর্ফ গডম্যান স্টোরের ড্রেসিং রুমে ট্রাম্প তাকে যৌন হয়রানির করেছিলেন বলে অভিযোগ তোলেন।

আলভা জনসন:


আলভা জনসন ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের সাবেক কর্মী। ২০১৬ সালের নির্বাচনের প্রচারণার সময় ফ্লোরিডায় ট্রাম্প তাকে যৌন হয়রানির করেছিলেন বলে অভিযোগ তুলেছিলেন।

জেসিকা লীডস:


জেসিকা একটি ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠানের সাবেক বিক্রয়কর্মী। তিনি অভিযোগ করেন, একবার বিমানের মধ্যে ট্রাম্প তাকে যৌন হযরানি করেছিলেন।

ইভানা ট্রাম্প:


ইভানা ট্রাম্প ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক স্ত্রী। তিনি নিজেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছিলেন।

জিল হার্থ:


ট্রাম্পের সাবেক ব্যবসায়ী অংশীদার জিল হার্থ। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, মার-এ-লাগো স্টেটের প্লাজা হোটেলে তার বাচ্চার রুমে ট্রাম্প তাকে যৌন হয়রানি করেন।

ক্রিস্টেন অ্যান্ডারসন:


যুক্তরাষ্ট্রের বেশ জনপ্রিয় একজন মডেল ক্রিস্টেন অ্যান্ডারসন অভিযোগ করেছিরেন, চায়না ক্লাবে ট্রাম্প তাকে যৌন হয়রানি করেছিলেন। তার আপত্তিকর বিভিন্ন স্থানে জোর করে স্পর্শ করেন ট্রাম্প।

ক্যাথি হেলার:


ক্যাথি হেলার নামের নারী অভিযোগ করেন, একবার মা দিবসে ট্রাম্প তাকে যৌন হয়রানি করেন। অবশ্য প্রকাশ্যে ক্যাথি হেলার এমন মন্তব্য করায় তার চাকরি চলে গিয়েছিল।

টেম্পল ট্যাগার ম্যাক-ডুয়েল:


ক্যাম-ডুয়েল নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন।

কেরানা ভার্জিনিয়া:


কেরানা ভার্জিনিয়া নিউ ইয়র্ককেন্দ্রীক একটি ইয়োগা প্রতিষ্ঠান ইনস্ট্রাক্টর। তিনি ২০১৬ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেন।

ব্রিগেড সালিভান:
২০০০ সালে নিউজ হ্যাম্পশায়ার থেকে ক্রাউন মিস নির্বাচিত হয়েছিলেন ব্রিগেড সালিভান। ২০১৫ সালে সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন।

তাশা ডিক্সন:
ডাশা ডিক্সন সাবেক মিস অ্যারিজোনা। এসবিসি নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, ২০০১ সালে ট্রাম্প তাকে যৌন হয়রানি করেছিলেন।

মিন্ডি ম্যাক গিলিভারি:
২০১৬ সালে ট্রাম্পের নির্বাচনের আগে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন মিন্ডি ম্যাক গিলিভারি। তবে তার অভিযোগ অস্বীকার করেন ট্রাম্পের মুখপাত্র।

রাচেল ক্রুক্স:
রাচেল ক্রুক্স ট্রাম্পের এক সময়ের সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি দাবি করেন, ২০০৫ সালে ট্রাম্প তাকে যৌন হয়রানি করেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব অভিযোগ করেছিলেন।

নাতাশা স্টেনফ:
মেলানিয়া ট্রাম্পের বিবাহ বার্ষিকীর দিন মার-এ-লাগোতে ট্রাম্প তাকে যৌন হয়রানি করেছিলেন।

জেনিফার মার্ফি:
জেনিফার মার্ফি যুক্তরাষ্ট্রের একটি টিভি শো-এর অ্যাঙ্কর। তিনি দাবি করেন, টিভি প্রোগ্রামের সময়ে ট্রাম্প তাকে যৌন হয়রানি করেছিলেন।

জেসিকা ড্রেক:
জেসিকা ড্রেক যুক্তরাষ্ট্রের একজন পর্ন অভিনেত্রী। ২০১৬ সালে তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় দশ বছর আগে ট্রাম্প তাকে যৌন হয়রানি করেছিলেন।

নিন্নি লাকসোনেন:
নিন্নি লাকসোনেন এক সময় মিস ফিন্যান্ড নির্বাচিত হন। তিনি মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় ছিলেন। তখন ট্রাম্প তাকে যৌন হয়রানি করেন বলে অভিযোগ করেন।

লিজা বয়েনী:
যুক্তরাষ্ট্রের আরেক অভিনেত্রী ও মডেল লিজা বয়েনীও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, নিউ ইয়র্কে মডেলদের একটি শো চলাকালে ট্রাম্প তাকে যৌন হয়রানি করেন।

এছাড়া ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যারা যৌন হয়রানিরে অভিযোগ এনেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন, সামার সার্ভোস, ক্যাসান্ড্রা সিয়ারলেস, অ্যামি ডোরিসসহ অনেকে।