ট্রেনে স্বস্তির ঈদ যাত্রা শুরু, চাপ কম সদরঘাটে

Share It
  • 11
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    11
    Shares

রেলপথে শুরু হলো ঈদ যাত্রা। নারির টানে বাড়ি। প্রিয় জনের সাহ্নিধ্য লাভ। এ এক অন্যরকম অনুভূতি। তাই ঝক্কি ঝামেলা যাই থাক না কেন কোন কিছুই যেন অশান্তির কারণ হয় না। সবকিছু সয়ে যায় উৎসব আর প্রিয়জনকে কাছে পাওয়াও অনভূতির কারণে। দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার পর গত ৮ অগাস্ট যারা ট্রেনের আগাম টিকেট পেয়েছিলেন, তাদের ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে শুক্রবার। সকাল থেকেই কমলাপুর রেল স্টেশনে ছিল হাজারো মানুষের ভীড়। তবে বেশ কয়েকটি ট্রেন বিলম্বে ছাড়লেও বেশিরভাগ ট্রেন যথাসময়ে স্টেশন ছেড়ে গেছে। অন্যদিকে স্টেশনে বিক্রি হয়েছে ফিরতি টিকেটেরও।

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত কমলাপুর থেকে প্রায় ২৫টি ট্রেন ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে খুলনাগামী সুন্দরবন সকাল ৬টা ২০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও সেটি সকাল সাড়ে ৭টায় স্টেশন ছেড়ে যায়।

চিলাহাটির নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৮টার পরিবর্তে ৮টা ৫০ মিনিটে এবং দেওয়ানগঞ্জের তিস্তা এক্সপ্রেস সাড়ে ৭টার পরিবর্তে সাড়ে ৮টায় ছেড়ে যায়। তবে দিনাজপুরের একতা এক্সপ্রেস, রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেস সহ আরো বেশ কয়েকটি ট্রেন ঠিক সময়েই ছেড়েছে। ঈদ যাত্রার শুরুর দিনে কমলাপুর রেল স্টেশন পরিদর্শন করেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক সহ রেলওয়ের উর্ধতন কর্মকর্তারা।

কমলাপুরের স্টেশনের ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী জানান, শুক্রবার সারা দিনে ৫৯টি ট্রেন ঢাকা থেকে ছেড়ে যাবে। এর মধ্যে ৩১টি হল আন্তঃনগর ট্রেন। আজ থেকেই ট্রেনের ভিড় মোটামুটি শুরু হয়ে গেছে। সকালে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনে ভিড় ছিল। সারাদিনই এমন হবে। এখন পর্যন্ত বড় কোনো ঝামেলা ছাড়াই সবগুলো ট্রেন ছেড়ে গেছে। সুন্দরবন, তিস্তা আর নীলসাগর এক্সপ্রেস প্ল্যাটফর্মে আসতে দেরি করায় ছাড়তে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানান স্টেশন ম্যানেজার। ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে ট্রেনের ছাদে, বাফারে না উঠতে যাত্রীদের প্রতি অনুরোধ করেছেন তিনি।

সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রতিটি ট্রেনে ছিল উপচেপড়া ভীড়। ট্রেনে ছাদে ওঠে অনেকেই গিন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। রেলমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা প্রতি বারেই চেষ্টা করি স্বস্তিদায়ক ঈদ যাত্রার। এবারও আমাদের প্রত্যাশা রেলের সেবায় মানুষ সন্তুষ্ট থাকবে। দিন দিন সেবার মান বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের সম্পদ সিমীত। টিকেটের চাহিদা অনেক বেশি। চেষ্টা করা হয় সবাই যেন টিকেট পান। এসময় তার সাথে রেলওয়ের মহা পরিচালক মো. আমজাদ হোসেন সহ উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চাপ বাড়েনি সদরঘাটে ॥ ঈদযাত্রার প্রথম দিন সকালে রেলওয়ে স্টেশন ও বাস টার্মিনালগুলোতে ভিড় বাড়লেও ঢাকা সদরঘাটে যাত্রীর চাপ তেমন বাড়েনি। বিআইডব্লিউটিএর পরিবহন পরিদর্শক (টিআই) নিয়াজ আহমেদ বলেন, অন্য শুক্রবারে যে রকম যাত্রী যায়, আজ সে রকমই আছে। সকালে চাঁদপুরের যাত্রী বেশি ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, বরিশালের উদ্দেশ্যে সকাল ৮টা ও সাড়ে ৮টায় গ্রিন লাইনের দুটি লঞ্চ ছেড়ে গেছে, সেখানেও যাত্রী ছিল ‘স্বাভাবিক’।

চাঁদপুরগামী এমভি মিতালী লঞ্চের চালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আজকে তেমন ভিড় নাই। কাল থেকে চাপ বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। মিতালী লঞ্চে সন্তানকে নিয়ে চাঁদপুর যাচ্ছেন আশরাফা। তিনি বলেন, তার স্বামী সোমবার অফিস ছুটি শেষে যাবেন। ঈদের আগে আগে ভিড় বেশি থাকে, তখন বাচ্চ নিয়ে যাওয়া অনেক কষ্ট। তাই একটু আগেই রওয়ানা দিলাম।

কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মওদুদ হাওলাদার বলেন, ঈদের যাত্রীদের নিরাপত্তায় সদরঘাটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় তিনশ সদস্য পালা করে দায়িত্ব পালন করবেন। বিআইডব্লিউটিএর একজন পরিবহন পরিদর্শক বলেন, সদরঘাট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ছয় লাখ মানুষ দেশের দিক্ষণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন।

বাংলাদেশের মানুষ আগামী ২২ অগাস্ট কোরবানি ঈদ উদযাপন করবেন। ঈদের ছুটি শুরু হবে মঙ্গলবার থেকে। তার আগে সোমবার বিকালে ঢাকা থেকে রওনা হওয়া মানুষের ভিড় সবচেয়ে বেশি থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এবারে ঈদ যাত্রায় ৯ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। এরমধ্যে রয়েছে- দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল : ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ- ঢাকা (ঈদের আগে ১৮, ১৯, ২০ ও ২১ আগস্ট এ চারদিন এবং পরে ২৩ আগস্ট হতে ২৯ আগস্ট সাতদিন চলবে)। চাঁদপুর স্পেশাল-১: চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম (ঈদের আগে ১৮, ১৯, ২০ ও ২১ আগস্ট চারদিন এবং ঈদের পরে ২৪ আগস্ট হতে ৩০ আগস্ট সাতদিন চলবে)। চাঁদপুর স্পেশাল ২: চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম (ঈদের আগে ১৮, ১৯, ২০ ও ২১ আগস্ট চারদিন এবং ঈদের পরে ২৪ আগস্ট হতে ৩০ আগস্ট সাতদিন চলবে)। রাজশাহী স্পেশাল : রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী (ঈদের আগে ১৮, ১৯ ও ২০ আগস্ট তিনদিন এবং ঈদের পরে ২৪ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট সাতদিন চলাচল করবে)। দিনাজপুর স্পেশাল: দিনাজপুর-ঢাকা-দিনাজপুর (ঈদের আগে ১৮, ১৯ ও ২০ আগস্ট তিনদিন এবং ঈদের পরে ২৪ আগস্ট হতে সাতদিন চলাচল করবে)।

লালমনি স্পেশাল : ঢাকা-লালমনিরহাট-ঢাকা (ঈদের আগে ১৮, ১৯, ২০ ও ২১ আগস্ট চারদিন এবং ঈদের পরে ২৪ আগস্ট হতে ৩০ আগস্ট সাতদিন চলবে)। খুলনা এক্সপ্রেস : খুলনা-ঢাকা-খুলনা (ঈদের আগে ২১ আগস্ট একদিন চলবে)। শোলাকিয়া স্পেশাল-১ : ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ভৈরব রুটে ঈদের দিন চলাচল করবে। শোলাকিয়া স্পেশাল-২ : ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে ঈদের দিন চলবে।

এ ছাড়া যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের সুবিধার্থে ঈদের তিনদিন আগে থেকে কনটেইনার ও জ্বালানিবাহী ট্রেন ছাড়া কোনো পণ্যবাহি ট্রেন চলাচল করবে না। ঈদের দিন বিশেষ ব্যবস্থাপনায় কিছু মেইল এক্সপ্রেস চলাচল করবে। ঈদের দিন অন্তঃনগর কোনো ট্রেন চলাচল করবে না। তবে ঈদের পাঁচদিন আগে (১৮ আগস্ট) থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তনগর ট্রেন সাপ্তাহিক বন্ধের দিনও চলাচল করবে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, সুষ্ঠু ও নিরাপদে ট্রেন চলাচলের সুবিধার্থে রেলওয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ২১ ও ২২ আগস্ট মৈত্রী এক্সপ্রেস এবং ২৩ আগস্টে বন্ধন এক্সপ্রেস চলাচল করবে না।

ঈদের পর আরো সাত জোড়া ট্রেন ॥ এছাড়া ঈদের পর আরও ৭ দিন এসব বিশেষ ট্রেন চলবে। ঢাকা- দেওয়ানগঞ্জ, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে দুটি করে, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-দিনাজপুর, ঢাকা-লালমনিরহাট ও ঢাকা-খুলনা রুটে এসব ট্রেন চলবে। এছাড়া ভৈরব-কিশোরগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ রুটে ঈদের দিন চলবে শোলাকিয়া স্পেশাল। এবার ঈদে ৯ জোড়া বিশেষ ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করবে। এছাড়া ঈদের পাঁচ দিন আগে (সম্ভাব্য তারিখ ১৮ আগস্ট) থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত আন্তনগর রুটের সব ট্রেনের ডে-অফ বাতিল করা হয়েছে।

সুষ্ঠু ও নিরাপদ ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত রেল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। আর ঈদযাত্রায় যে কোনো নাশকতা ঠেকাতে আনসার, জিআরপি, র্যাব, পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে থাকবেন। ঈদ উপলক্ষে বাড়তি কোচ সংযোজন ও লোকোমোটিভ সরবরাহ করা হবে এবং টিকেট কালোবাজারি প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক পাহারা থাকবে। রেল মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে,এবার কোরবানির ঈদের আগে চার দিন সাত জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে বিভিন্ন গন্তব্যে।


Share It
  • 11
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    11
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here