ডাকসু নির্বাচন :মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভোট, ফেব্রুয়ারির শুরুতে তফসিল

Share It
  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    8
    Shares

ফাইল ছবি।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সুত্র জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষে অথবা ফেব্রুয়ারির শুরুতে নির্বাচনের তফসিল এবং আগামী মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভোটগ্রহণ করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

তফসিলের আগেই ডাকসুর বিদ্যমান গঠনতন্ত্র সংশোধন এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকার বিষয়ে নির্দেশনাও দিবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য উপাচার্যের কাছে তাদের সুপারিশ প্রেরণ করেছে। আসন্ন সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপনের মাধ্যমে এ গঠনতন্ত্র চূড়ান্ত করা হবে। এছাড়া আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ব্যালট পেপার ছাপানোর কাজও শেষ করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আগামী মার্চের মধ্যেই ডাকসু নির্বাচন করার বিষয়ে বদ্ধ পরিকর। তবে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ বলার এখতিয়ার আমার নেই। এ বিষয়ে চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা বলতে পারবেন। নির্বাচন না হওয়ার কোন আশঙ্কা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। আশা করছি কোন ধরনের সমস্য হবে না।

তফসিলের দিনক্ষণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডাকসু নির্বাচনের চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, আমাদের যে কাজগুলো বাকি আছে এবং যেগুলো চলমান আছে শিগগিরই এগুলো শেষ করে আমরা তফসিল ঘোষণা করবো। বাকি কাজ এবং চলমান কাজ শেষে আনুমানিক সাত থেকে দশ দিনের মধ্যেই তফসিল ঘোষণা করা যাবে বলে তিনি জানান।

ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে কথা বলে জানা গেছে, সব ছাত্র সংগঠনই ডাকসু নির্বাচনের বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয়ে তাদের দাবি-দাওয়া থাকলেও নির্বাচন নিয়ে নেতিবাচক কোন আশঙ্কা নেই ছাত্র সংগঠনগুলোর মাঝে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ সংসদের সাথে ছাত্র সংগঠনগুলোর করা কয়েক দফা মত বিনিময় সভায় তাদের দাবি তুলে ধরেছে তারা। ছাত্রদল দাবি জানিয়েছে, ভোট গ্রহণ কার্যক্রম সিসি টিভি ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে। এছাড়া সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থানের পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার পর তফসিল ঘোষণার দাবিও রয়েছে তাদের। ছাত্রলীগ বলছে, ইতিবাচক রাজনীতির ধারায় আসলে ছাত্রদলকে ক্যাম্পাসে কোনো বাধা দেয়া হবে না। ডাকসু নির্বাচনে ভোটার কিংবা প্রার্থী কারা হতে পারবেন সে বিষয়ে ছাত্র সংগঠনগুলো একমত হলেও দ্বিমত দেখা গেছে ভোটকেন্দ্র নিয়ে। ছাত্রলীগ বলছে বিদ্যমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী হলগুলোতেই ভোটকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে অন্যদিকে ছাত্রদল এবং অন্যান্য বাম সংগঠনগুলোর দাবি একাডেমিক ভবনগুলোতে ভোটের আয়োজন করা। এছাড়া যারা দ্বিতীয়বার মাস্টার্স করছে এবং ডাকসু ও হল সংসদের ফি দিচ্ছেন তাদের ভোটার করার দাবি জানিয়েছেন ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী। তিনি সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীদেরও ভোটার করার দাবি জানান।

তবে দাবি দাওয়া থাকলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করেছে ছাত্রসংগঠনগুলো। ছাত্রলীগের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ছাত্রলীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। প্রশাসনের কাছে আমরা দ্রুত তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছি। প্রার্থিতার বিষয়ে তিনি বলেন, ভিপি বা জিএস হওয়া ছাত্রলীগের কোন নেতাকর্মীর কাছে মুখ্য বিষয় নয়, মুখ্য বিষয় হচ্ছে ডাকসুর মাধ্যমে ছাত্রদের অধিকার আদায় করা। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে, প্রতিশ্রুতিশীল সেসব মেধাবী তরুণদেরকেই ছাত্রলীগ নির্বাচনে প্রার্থী করবে।

নির্বাচন নিয়ে কোন আশঙ্কা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচনের বিষয়ে আমাদের কোন আশঙ্কা নেই, তবে আমরা সচেতন থাকতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন এবং ডাকসুর অন্যান্য স্টেকহোল্ডার যারা আছে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করারও অনুরোধ করেন তিনি।

এদিকে ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক কার্যক্রম না চালাতে পারলেও ডাকসু নির্বাচনের জন্য জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানালেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদি তালুকদার। তিনি বলেন, আমাদের প্রার্থিতার বিষয়টি গঠনতন্ত্রের সংশোধনের উপর নির্ভর করছে। গঠনতন্ত্রে প্রার্থিতার জন্য নিয়মিত ছাত্রের ব্যাখ্যা নিশ্চিত করলেই আমরা আমাদের প্রার্থী ঠিক করবো। তবে ইতোমধ্যেই আমরা সাধারণ ছাত্রদের সাথে যোগাযোগ করছি এবং আমাদের আদর্শিক প্রচারণা চালাচ্ছি। ক্যাম্পাসে এসে প্রচারণা চালানোর বিষয়ে তিনি বলেন খুব দ্রতই পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা ক্যাম্পাসে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করবো। সম্প্রতি পরিবেশ পরিষদের মত বিনিময় সভায় ছাত্রলীগের দেওয়া মধুর ক্যান্টিনে চায়ের দাওয়াতে যাবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্রলীগ মিডিয়ার সামনে লোক দেখানো দাওয়াত দিয়েছে, যদি অফিসিয়াল চিঠি অথবা আমাদেরকে ফোন করে দাওয়াত দেওয়া হয় তাহলে আমরা যাবো।


Share It
  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    8
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here