ফরিদপুর-৪ আসনের জনপ্রিয় সাংসদ মুজিবুর রহমান চৌধুরীর বাসভবনে শনিবার সন্ধ্যায় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মতবিনিময় সভা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের সূর্য সন্তানদের যেকোনো বিষয়ে কোন ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না । যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা তাদের বিষয়ে বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেসব পদক্ষেপ নিয়ে তাদের জীবনযাত্রাকে সহজ করে দিতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন, আর সেই সুযোগে কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তি ফায়দা লুটে দেশ ও জাতির সূর্য সন্তানদের সাথে বেঈমানি করছেন তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ঘর তৈরি করার জন্য যে অর্থ বরাদ্দ করেছেন তা সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে বিতরণ করতে হবে। রাতের আধারে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে সচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর বিতরণ এটা হতে দেওয়া হবে না। এমপি নিক্সন চৌধুরী এ সময় উপস্থিত শত শত মুক্তিযোদ্ধাদের তাদের সুখ-দু:খের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেন।

ভাঙ্গা উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল বাসার অনেক আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রকিুবর রহমান খান তার স্বেচ্ছাচারিতার প্রকাশ করে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ঘরগুলো বিতরণের আহ্বান করেন এবং যেসব মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে তা ফেরৎ দেওয়ারও আহ্বান করেন তিনি।

অপরদিকে কালামৃধা ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুর মোহাম্মদ বলেন, গত মাসে কালামৃধা ইউনিয়নে ফকির জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তি মারা যায়। সে সঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীরের ভাই। বর্তমান নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুর রহমান খান ফকির আলমগীরের কথামত তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে দাফন করেন। অথচ এই ফকির জাহাঙ্গীর কোন মুক্তিযোদ্ধাই না। এমনকি সে তালিকাভুক্ত কোন কিছুতেই তার নাম নেই। বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। কমান্ডার আবুল বাসার বর্তমান ইউএনও মহোদয়কে এ বিষয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি ধমক দিয়ে বলেন- সে বড় একজন মুক্তিযোদ্ধার ভাই, তাই তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে। অথচ লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত লাল সবুজের পতাকাকে সে অবমাননা করে এবং উল্টো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের ধমক দেন এটা কেমন বিচার। তিনি ফরিদপুর-৪ আসনের জনপ্রিয় সাংসদ নিক্সন চৌধুরীর মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পতাকা অবমাননার দায়ে বর্তমান ইউএনও রকিবুর রহমান খানের বিচার দাবি করেন।

দেশের সূর্য সন্তানদের বিষয়ে অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না: নিক্সন চৌধুরী

এছাড়াও অনেক মুক্তিযোদ্ধা তাদের সুখ-দু:খের কথা ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি সাহায্য সঠিকভাবে বণ্টনের দাবি করেন। সকল বিষয় শুনে এমপি নিক্সন চৌধুরী তাদের আশ্বাস দেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসব বিষয়ের সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন। একজন ইউএনও তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেই যাচ্ছেন, অথচ তাকে কেউই কিছুই করতে পারছেনা, সব ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকেই যাচ্ছেন এটা হতে পারেনা।

এমপি নিক্সন চৌধুরী হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, জাতির শ্রেষ্ট সন্তান ও ভাঙ্গাবাসীকে নিয়ে বাণিজ্য করলে তার পরিণতি ভালো হবে না। প্রয়োজনে সব শ্রেণির জনগণকে সাথে নিয়ে মানববন্ধনসহ যেকোনো কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুর রহমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি নিক্সন চৌধুরীর উদ্দেশ্যে বলেন, ভাঙ্গা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নিয়ে একটি মহল প্রশাসনকে সাথে নিয়ে অর্থবাণিজ্যে লিপ্ত হয়েছে। যাচাই-বাছাই করলে সেখানে অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা পাওয়া যাবে। প্রশাসন যেসব মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে এসব অপকর্ম করছে অনতিবিলম্বে তাদের বিচারের আওতায় আনা হোক।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস, এম হাবিবুর রহমান, সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ প্রমুখ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here