ধামরাইয়ে বন্যার পানিতে ভেসে গেল মাছ ও সবজি চাষিদের স্বপ্ন

Share It
  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    7
    Shares

মাহবুবুল আলম নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার আশপাশের তুরাগ, বংশী ও ধলেশ্বরী
নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে সাভার ও ধামরাই উপজেলার অধিকাংশ আঞ্চলিক সড়ক
দিয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। রাস্তা-ঘাট ডুবে
যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে গ্রামের মানুষেরা। অনেক সড়ক দিয়ে এখনো হাটু
পানি ভেঙে মানুষজন ও যানবাহন চলাচল করতে পারলেও কিছু-কিছু সড়ক দিয়ে
যানবাহন ও মানুষ চলাচল একেবারে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত পানি ও
স্রোতের কারনে বেশ কিছু সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে ভাঙন।
এতে ব্যপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধামরাইয়ের মাছ ও সবজি চাষীরা।

ভালো দামের কারণে এবার বোরো কাটার সঙ্গে সঙ্গে চাষিরা আউশ, আমন, রোপা
আমন, বেগুন, মরিচ, পটল, শশা, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, ঢেঁড়স, কাকরোল ও পেপেসহ
অনেক ধরণের সবজি চাষ করেছিলেন। এখন বানের পানিতে সবধরনের সবজির
খেত পানির নিচে। পুরো উপজেলার হাজার বিঘা খেতের ফসল ডুবে যাওয়ায়
অনেক কৃষক এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এছাড়া অনেকের পুকুর ডুবে লাখ লাখ
টাকার মাছ ভেসে গেছে।

উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের বান্নল গ্রামের সবজি চাষি আব্দুল মালেক বলেন,
এবার পটল, ঢেঁড়শ, চিচিঙ্গা, বেগুন, চালকুমড়াসহ যেসব সবজি চাষ করেছিলাম
সব খেতে পানি উঠে গাছ মরে গেছে। আমার দুই বিঘা জমিতে বিভিন্ন প্রকার সবজি
করেছিলাম সেগুলো এখন পানির নিচে। এ চিত্র আমার গ্রাম সহ পুরো উপজেলার
সবজি চাষিদের।

ঢাকার ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের বারবাড়িয়া গ্রামের মাছ চাষী
বাবুল হোসেন বলেন, বাসের কন্ডাক্টরি করে সংসার চালাতাম কিন্তু করোনাকালে
আয় কমে যাওয়ায় লিজ নিয়ে শুরু করেছিলাম মাছ চাষ। পুকুরটিতে পরিবারের
সবাই শ্রম দিতাম। তবে, এবারের বন্যায় খামারের সব মাছ ভেসে চলে গেছে। একই

অবস্থা আমাদের গ্রামের আরো প্রায় ১৫ জন মাছ চাষির। ‘বন্যার পানিতে মাছ
ভেসে যাওয়ার সময় আটকানোর অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু, পানির এতটা স্রোত
ছিল যে কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। সব মাছ ভেসে গেছে। শুধু চেয়ে চেয়ে
দেখেছি। বন্যার পানিতে ভেসে চলে গেল আমার জীবিকার শেষ অবলম্বন।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, ৫ হাজার ২৫ হেক্টর জমির
সবজি,৪০ হেক্টর জমির আউশ ধান, ৪০ হেক্টর জমির আমন বীজ ও ২০ হেক্টর
জমির রোপা আমনের এ পর্যন্ত ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের
তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ ইদ্রিস তালুকদার বলেন, ‘শুধু তারা নন, উপজেলায়
আরো কয়েকশর উপরে জেলে রয়েছেন। তাদের মধ্যে মৎস্যজীবী কার্ডপ্রাপ্ত জেলে
রয়েছেন ৪০০ জন। তাদের সবারই একই অবস্থা। বন্যায় জেলায় ১৬৮.৩৩ হেক্টর
আয়তনের ৫৯৪টি পুকুর ভেসে গেছে। এতে ৩৯৬.৪৮ লাখ টাকার ২৬৪.৩২
মেট্রিক টন মাছ ও ১১৩.৬২ লাখ টাকার ১৫১.৪৯ লাখ পোনা মাছ ভেসে গেছে।
এছাড়া বন্যায় চাষিদের ৭০.৮ লাখ টাকার অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।
সবমিলিয়ে প্রায় ৫৮০.৯০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘উপজেলায় আশেপাশের বিভিন্ন থেকে আসা পানির ঢলে সৃষ্ট বন্যায়
ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরের মাছ চাষিদের তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মাছ চাষিদের তালিকা সংগ্রহ করে দ্রুত পাঠানোর
তাগিদ দেওয়া হয়েছে।


Share It
  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    7
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here