নঁওগার মান্দায় ইউপি সদস্যের জিম্মায় যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু

Share It
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

রিপোর্টঃ- নিরেন দাস।নওগাঁর মান্দায় ইউপি সদস্যের জিম্মায় ২য় স্ত্রীর বলি হলেন মমিনুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবক। যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে নাটকিয়তা শুরু হয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবী স্থানীয় ভালাইন ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার মোরশেদ আলীর যোগসাজসে ওই যুবককে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন ।
ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তালবাহানা শুরু করেছেন মেম্বার মোরশেদ আলী। নিহত মমিনুল ইসলাম ইউনিয়নের চকবিনোদ গ্রামের মামুন এর ছেলে। গত ৫ জুন একই ইউনিয়নের মদনচক গ্রামের মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মমিনুল ইসলাম প্রায় সাত বছর আগে মৌসুমি নামে এক নারীকে বিয়ে সংসার করছিলেন। সংসারে এক ছেলে সন্তান রয়েছে। মমিনুল বাজারে ফ্লেক্সিলোডের দোকান করার সুবাদে পাশের মহাদেবপুর উপজেলার চকগৌরি গ্রামের জুলেখা নামে এক মেয়ের সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত দুই বছর আগে মমিনুল গোপনে জুলেখাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে পরিবারে কলহ শুরু হয়। এরপর দুই স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় চলে যান।
গত রমজানে আবারও তারা স্বপরিবারে গ্রামের বাড়ি ফিরে আসে। ঈদের একদিন পর মমিনুল দ্বিতীয় স্ত্রী জুলেখাকে নিয়ে তার শ্বশুর বাড়ি চলে যান। এদিকে প্রথম স্ত্রী তার সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। গত ৪ জুন প্রথম স্ত্রী মৌসুমি বাড়িতে ফিরে এসে মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের চকগৌরী গ্রামে ২য় স্ত্রীর বাড়িতে তার স্বামীকে নিতে যান।
এসময় ১ম স্ত্রী মৌসুমী তার স্বামীকে নিতে গেলে জুলেখা তাকে নির্যাতন করে। পরে স্থানীয়রা মমিনুল ও মৌসুমিকে বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। এরপর পথিমধ্যে মহাদেবপুরের বানডুবির ভোলাবাজার নামক স্থানে দেলোয়ার হোসেনের চায়ের দোকানের সামনে থেকে জুলেখা ও তার মা আঞ্জুয়ারা বিবি আবারও মমিনুলকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে মদকচক গ্রামের মেম্বার মোরশেদ আলীর বাড়িতে যায়।
মেম্বার সম্পর্কে জুলেখার ফুফাতো ভাই।
এদিকে নিহত মমিনুলের বাবা মামুন মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করলে সময় মতো বাড়িতে পৌছে দিবে বলে জানানো হয়। কিন্তু মেম্বারের দাবী ওইদিন বিকেল ৩টার দিকে মমিনুল, তার স্ত্রী ও শ্বাশুড়ি তার বাড়ি থেকে চলে গেছে। এরপর তিনি তার শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যান।
স্থানীয়দের দাবী সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মেম্বারের বাড়িতে তারা সবাই ছিল। গিয়াস নামে এক ব্যক্তি মাগরিবের পর গ্রামের জমিলার দোকানের পাশে মেম্বারকে টাকা নিতে দেখেছেন। কিন্তু পরদিন ৫ জুন মমিনুল মদনচক গ্রামের মাঠে মেম্বারের বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দুরে মেহগনির গাছের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে।
নিহতের বাবা মামুন বলেন, মেম্বারের জিম্মায় ছেলেকে তার বাড়িতে রাখা হয়েছে। বিকেলে আমার বাড়িতে ছেলেকে পৌঁছে দেয়ার কথা ছিল। অথচ বিকেলে মেম্বারকে ফোন করা হলে তিনি বলেন ছেলে চলে গেছে। মেম্বারের বাড়িতে রাতে ছেলের দ্বিতীয় বউ ও শ্বাশুড়ি ছিল। ছেলের দ্বিতীয় বউয়ের একাধিকবার একাধিক স্থানে বিয়েও হয়েছিল। মেম্বারের পরিকল্পনায় রাতের কোন এক সময় ছেলেকে হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে দাবী করেন তিনি।
তিনি বলেন, হাটু ভাজ হয়ে ছেলের পা মাটিতে ঠেকে ছিল। যদি ছেলে কোন স্থান থেকে হেঁটে ওই গাছের নিচে আসতো তাহলে পায়ে ও জুতায় ধুলাবালি লেগে থাকতো। জুতা ও পায়ের নিচের অংশ পরিষ্কার ছিল।
পরিকল্পিত ভাবে ছেলেকে হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী করেন তিনি।
ভোলাবাজারের চা বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন বলেন, জুলেখা ও তার মা আঞ্জুয়ারা এবং নিহত মমিনুল ওইদিন ভোলাবাজার চায়ের দোকানের সামনে মমিনুলের ১ম স্ত্রীর সাথে বেশ ধস্তাধস্তি হয়। এরপর জুলেখার পরিবারের লোকজন মমিনুলকে কোনভাবেই তার ১ম স্ত্রীর সাথে যেতে দিচ্ছেলেন না।
এমনকি তাকে মারপিটের এক পর্যায়ে সে আত্মরক্ষার্থে আমার বাড়িতে অবস্থান নেয়। এরপর মমিনুলের পরিবারের লোকজন এসে মমিনুলের ১ম স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে যায়।
স্থানীয় গৌতম মাঝি বলেন, আমি প্রতিদিনের ন্যায় লোকজনকে নৌকায় করে নদী পারাপার করে থাকি। এরই প্রেক্ষিতে ৫জুন ভোরে ২য় বার পারাপারের সময় দুজন মহিলা আত্রাই নদীর বানডুবী ঘাটে আসে। দুজন মহিলা এসে তাদের বাবার অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে নদী পারাপার করে দিতে বলেন।
এর কিছু পরে জানতে পারি যে, পাশের এলাকায় মমিনুল নামের একটি যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয়েছে।
পরবর্তীতে জানতে পারি, যে দুজন মহিলা ওইদিন তাড়াহুড়া করে নৌকা পারাপার হচ্ছিলেন তাদের মধ্যে একজন নিহতের ২য় স্ত্রী জুলেখা ও তার মা আঞ্জুয়ারা।
অভিযুক্ত ইউপি মেম্বার মোরশেদ আলীর মোবাইল ফোনে (০১৭৮৪-১২২২১৭) যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, অভিযুক্ত ৩ জন সহ অজ্ঞাত
কয়েকজন কে আসামী করে আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে এর সঠিক রহস্য জানা যাবে।

Share It
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here