নিয়ামতপুর প্রেস ক্লাব প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। কিন্তু শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠাই করা হয়েছিল। তেমন কোন কার্যক্রম ছিল না। সেই সময় সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল নূরুল ইসলামকে। তিনি কোন দিনও একটি সভাও করেন নাই। এইভাবে দিন চলে যায়। ১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রেস ক্লাব শুধুমাত্র নামেই ছিল। প্রেস ক্লাবের নামে দৈনিক ইনকিলাব উপজেলা প্রতিনিধি প্রতিনিধি নূরুল ইসলাম, দৈনিক যুগান্তর ও দৈনিক সোনালি সংবাদ উপজেলা প্রতিনিধি রেজাউল ইসলাম সেলিম ও দৈনিক যায়যায়দিন নিয়ামতপুর উপজেলা প্রতিনিধি শাহজাহান সাজু সরকারী অনুদানের ২ টন গম পেয়েছিল। সেগুলো তারা আত্মসাৎ করেছে।

প্রেস ক্লাবের কোন কিছুই রাখেনি। নিয়ামতপুর উপজেলার অনেক সাংবাদিক সে সময় প্রেস ক্লাবে সদস্য হতে চাইলেও তারা গ্রহন করেন নাই। কারো কারো কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে টাকা চেয়েছিল। প্রায় ১২জন সাংবাদিক অবশেষে ২০১৪ সালে রির্পোটার্স ইউনিটি নামে একটি সংগঠন তৈরী করে। সেই সময় নূরুল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম সেলিম ও শাহজাহান সাজুকে বার বার চেষ্টা করেও এক কাতারে আনা যায় নাই। শুরু হয় নিয়ামতপুরে সাংবাদিকদের দুটি সংগঠন, একটি নাম মাত্র ৩জন সদস্য বিশিষ্ট প্রেস ক্লাব অপরদিকে ১২জন সদস্য নিয়ে রির্পোটার্স ইউনিটি। নিয়ামতপুর উপজেলায় সাংবাদিকদের দুটি সংগঠন থাকায় তৎকালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম হোসেন একত্রিত করার উদ্যোগ গ্রহন করেন। অবশেষে ২০১৫ সালের মে মাসে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের যাত্রা শুরু হয়।

রেজাউল ইসলাম সেলিমকে সভাপতি ও তোফাজ্জল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। সেই সভায় আরো সিদ্ধান্ত হয় যেহেতু দুটি সংগঠনকে এক করা হলো সেহেতু কমিটির মেয়াদ ১ বছর করা হলো। এরপর সংগঠনের সদস্যরা নিজেদের পছন্দমত কমিটি গঠন করবে। ২০১৬ সালে উপজেলা প্রেস ক্লাবের নির্বাচন হয়। তোফাজ্জল হোসেনকে সভাপতি ও এসএ সাগরকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তোফাজ্জল হোসেনকে সভাপতি ও জনি আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ২০১৬ সালে এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে শাহজাহান শাজু প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেছিলেন। নির্বাচনে মাত্র ২টি ভোট পান। ২০২০ সালের ৩০জুন পর্যন্ত কমিটির মেয়াদ ছিল। ১৫ জুন উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভায় করোনা মহামারীর জন্য ৩ মাস অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কমিটির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। ৩ অক্টোবর উপজেলা প্রেস ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে সকল সদস্য উপস্থিত হয়ে ভর্তি ইচ্ছুক সদস্যদের আবেদন যাচাই-বাছাই ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে ঐক্যমত না হওয়ায় সিদ্ধান্ত ছাড়ায় সভা শেষ হয়।এরপর ২০২০ সালের ৪ অক্টোবর তারিখে পুনরায় সভা ডেকে আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত কমিটির মেয়াদ সর্বসম্মতিক্রমে বৃদ্ধি করা হয়।

উপজেলা প্রেস ক্লাবের মোট সদস্য সংখ্যা ১৬ জন। অথচ সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ভাবে বিশৃংখলা সৃষ্টির লক্ষ্যে গত ৭ অক্টোবর শাহজাহান শাজু প্রেস ক্লাবে তালা মেরে দেয়। এতে উপজেলা প্রেস ক্লাবের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। শাহজাহান শাজু ও রেজাউল ইসলাম সেলিমের আচরণে উপজেলা প্রেস ক্লাবের ১৪জন সদস্য অতিষ্ট হয়ে গত ১০ অক্টোবর এক জরুরী সভায় সাবেক উপদেষ্টা ও তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সালেহ মোঃ মাহফুজুল আলম স্যার উপজেলা প্রেস ক্লাবের কম্পিউটার ক্রয়ের জন্য ১২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করায় এবং উপজেলা প্রেস ক্লাবের স্বার্থ পরিপন্থি কর্মকান্ড করায় উপস্থিত সকল সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে দৈনিক যুগান্তর ও সোনালী সংবাদ প্রতিনিধি রেজাউল ইসলাম সেলিম ও দৈনিক যায়যায়দিন প্রতিনিধি শাহজাহান শাজুকে বহিস্কার করা হয়। গত ১৪ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় উপজেলা প্রেস ক্লাবের সদস্যদের সাথে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপির শিবপুরস্থ নিজ বাসভবনে মতবিনিময় করা হয়। এ সময় খাদ্যমন্ত্রী উপজেলা প্রেস ক্লাবের সদস্যদের পূজার সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। পাশাপাশি কিছু দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।

তিনি আরো বলেন, আগামী শারদীয় দূর্গা পূজার সময় এসে সবাইকে নিয়ে বসে সমস্যার সমাধান করা হবে। এখন প্রশ্ন হলো বহিস্কৃত সদস্য এবং যারা নতুন সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। যাদের আবেদন এখন পর্যন্ত যাচাই-বাছাই করা হয়নি তাদেরকে নিয়ে কি উপজেলা প্রেস ক্লাব গঠন করা যায়? তারা আলাদা সংগঠন তৈরী করতে পারেন। কিন্তু উপজেলা প্রেস ক্লাব বহাল থাকা অবস্থায় বহিস্কৃত সদস্য ও বাইরের ভর্তি ইচ্ছুক আবেদনকৃত সাংবাদিকদের নিয়ে উপজেলা প্রেস ক্লাব নাম ব্যবহার করতে পারে না। আমরা এর জোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং নাম পরিবর্তন না করা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here