পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট কে হতে যাচ্ছেন তা নিয়ে দোদুল্যমান যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো দুনিয়া। ডেমোক্র্যাট মনোনীত প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন এগিয়ে আছেন। তবে ভোট গণনা শেষ না হওয়া এবং ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনে কারচুপি, প্রতারণার অভিযোগ তোলায় মামলা গড়িয়ে আদালতে। তাই খুব তাড়াতাড়ি নির্বাচনের ফল পাওয়া যাবে এমনটা এ মুহূর্তে আশা করা যাচ্ছে না।

নির্বাচন এবং ভোটের ফলাফল নিয়ে যখন পুরো যুক্তরাষ্ট্র ব্যস্ত, তখন ওয়াশিংটনকে আবারও সতর্ক করেছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। বলেছেন, আশা করি পরবর্তী মার্কিন প্রশাসন শিক্ষা নেবে যে, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন নীতির কাছে ইরানের মাথা নোয়ানো যাবে না।

২০১৮ সালে ইরানের সঙ্গে করা ঐতিহাসিক চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুনর্বহাল করেন আগের সব নিষেধাজ্ঞা। গ্রহণ করেন তেহরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ নীতি। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাট মনোনীতি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন থেকে পিছিয়ে পড়েছেন ট্রাম্প। এ অবস্থায় হোয়াইট হাউসে নতুন নেতৃত্ব আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন নতুন প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করেছেন রুহানি।

টেলিভিশনে প্রচার হওয়া ভাষণে তিনি বলেন, আইন, নিয়মনীতি মেনে চলা এবং প্রতিশ্রুতিতে ফিরে আসার ক্ষেত্রে গেল তিন বছরের অভিজ্ঞতা মার্কিন পরবর্তী প্রশাসনের জন্য শিক্ষনীয় হবে বলে আশা করি।

রুহানি বলেন, গেলো তিন বছর ধরে আমাদের জনগণ অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করছে। জনগণ সেই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অপরাজেয় প্রতিরোধ এবং ধৈর্য দেখিয়েছে।

প্রতিপক্ষ নিয়মনীতির কাছে মাথা নত না করা পর্যন্ত ইরানের জনগণ প্রতিরোধ এবং ধৈর্য প্রদর্শন অব্যাহত রাখবে বলেও জানান রুহানি।

মার্কিন প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে রুহানি আরো বলেন, নিষেধাজ্ঞা আরোপ ভুল পথ এবং নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে কোনোভাবেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। আশা করি মার্কিন প্রশাসন তা বুঝতে পারেব।

ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হলো এটা তাদের কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। পরবর্তী মার্কিন প্রশাসনের নীতিতে তাদের মনযোগ থাকবে।

জো বাইডেন নির্বাচনী প্রচারণা সভায় বলেছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের পরমাণু চুক্তিতে ফিরিয়ে আনবেন। এ বিষয়ে তেহরানের বক্তব্য হলো-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তিতে ফিরলে সরে যাওয়ার কারণে যে ক্ষতি হয়েছে সে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি চুক্তি থেকে আর বেরিয়ে যাবে না তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

মঙ্গলবার ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেছেন, মার্কিন নির্বাচন তেহরানের ওয়াশিংটন নীতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে করা ছয় বিশ্বশক্তির ঐতিহাসিক সমঝোতার সময় বারাক ওবামার ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন জো বাইডেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here