পাটগ্রাম দহগ্রামের মানচিত্র তিস্তার গ্রাসে

Share It
  • 57
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    57
    Shares

পরিমল চন্দ্র বসুনিয়া,লালমনিরহাট প্রতিনিধি :বহুল আলোচিত বাংলাদেশ ভূখণ্ডের লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম আঙ্গরপোতা। তিন দিকে ভারত এক দিকে তিস্তা নদী বেষ্টিত ভারতের অভ্যন্তরে ২১.৮০ বর্গমাইলের দহগ্রাম ইউনিয়ন। পূর্বদিকে বাংলাদেশিদের মূল ভুখণ্ডে আসার একমাত্র পথ বিএসএফের নিয়ন্ত্রণাধীন তিনবিঘা করিডোর। দহগ্রামের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে ইউনিয়নটির আয়তন ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। শত শত পরিবারের কপাল পুড়ছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই, বসতভিটা, আবাদি জমি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে দিন যাপন করছেন তারা। তিস্তা নদী ভারতীয় অংশে ভাঙছে না, অনবরত ভাঙছে বাংলাদেশি অংশে। ফলে বিলীন হচ্ছে দহগ্রাম আঙ্গরপোতার বিস্তীর্ণ এলাকা।

দেখাগেছ , দহগ্রামের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে বয়ে যাওয়া সীমান্তের ওপারের মেখলিগঞ্জ দিয়ে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রামে প্রবেশ করেছে ভারতের সিকিমে উৎপত্তি হওয়া নদী তিস্তা। আর এই নদীটি লালমনিরহাটের ৫ উপজেলার ওপর দিয়ে চলে গেছে কুড়িগ্রাম জেলায়। যার কারণে বন্যা হলেই দহগ্রামে প্রথম ধাক্কা সহ্য করতে হয়।
গত রবিবার (১২জুলাই) রাতে হঠাৎ করে ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের গেট খুলে দেয়। এতেই তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে পানির গতি পরিবর্তন ঘটে স্রেত্রে দহগ্রামের তিনটি ওয়ার্ডে তীরবর্তী এলাকায় লণ্ডভণ্ড করে ফেলে তিস্তার পানি। ফলে শত শত পরিবারের কপাল পুড়ছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই, বসতিটা, আবাদি জমি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে দিন যাপন করছেন তারা। তিস্তা নদী ভারতীয় অংশে ভাঙছে না, অনবরত ভাঙছে বাংলাদেশি অংশে। ফলে বিলীন হচ্ছে দহগ্রাম আঙ্গরপোতার বিস্তীর্ণ এলাকা। এখানকার সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলো দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন জানিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানাগেছে, সীমান্তের ওপারের মেখলিগঞ্জ দিয়ে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রামে প্রবেশ করেছে ভারতের সিকিমে উৎপত্তি হওয়া নদী তিস্তা। এরপর কিছুটা পথ বেয়ে দহগ্রাম ইউনিয়নের সর্দারপাড়া নামক এলাকা। ওই দিন রাতেই তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় সব গুলো গেট বন্ধ করে দেয়। আর এতেই পানির গতি পরিবর্তন হয়ে দহগ্রামের সর্দারপাড়া নামক এলাকায় ডুকে পড়ে তিস্তার পানি । এতেই দহগ্রামের ৩টি ওয়ার্ড লণ্ডভণ্ড করে ফেলে। এদিকে তিস্তা এমন ফুলে ফেঁপে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ রবিবার রাতে বিশেষ সতর্কতা জারি করে। লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতেও মাইকিং করা হয়েছে। হাতীবান্ধা-বড়খাতা বাইপাস সড়কে পানির চাপ ঠেকাতে এলাকার লোকজন বালির বস্তা ফেলছে। এসময় নদীর পানি উপচে তীরবর্তী এলাকাগুলোকে প্লাবিত করে, ভাসিয়ে নিয়ে যায় মানুষের বাড়িঘর-বতসভিটা। আবার বানের পানি নামতে না নামতে শুরু হয় আগ্রাসী ভাঙন। নিঃস্ব হচ্ছেন নদীপাড়ের অনেক মানুষ।

দেখাগেছে, বাঁধ ভেঙেছে পানি পথ পরিবর্তন করে ঘূর্ণিঝড় মতই প্রায় দেড় কিলোমিটার সেজায় প্রবল স্রোতে পানি ডুকে ঘরবাড়ি, বিদ্যুতের ঘুটি, পাকা রাস্তাসহ ফসলী জমি বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনের শিকার মানুষগুলো বসতিটা-আবাদি-জমিসহ সবকিছু হারিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে বাঁধ, রাস্তা বা অন্যের জমিতে।

ওই এলাকার আফরোজা বেগম জানান, তিস্তার পানি এসেই এভাবে বাড়ি ঘরসহ সব কিছু ভেঙে নিয়ে চলে যাবে এটা কোনদিন ভাবতে পারি নি। ৩০ বছরেও এমন বন্যা আমার চোখে পড়েও নি। মনে হয়েছে এটি একটি ঘূর্ণিঝড়। যে দিক দিয়ে পানি চলে গেছে সব ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের কিছু চাওয়ার নেই, শুধু একটি বাঁধ নির্মাণ হলেই দহগ্রামের মানুষ সব কিছুই থেকে রক্ষা পাবে।

দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, ‘প্রতি বছরে দহগ্রামই তিস্তার ভাঙনে এলাকা ছোট হয়ে যাচ্ছে। তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নিলে দহগ্রাম ইউনিয়নটি বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে। তাই বাংলাদেশের এ ভূখণ্ডটির অস্তিত্ব রক্ষায় সরকারকে এগিয়ে আসার আবেদন জানান তিনি।’


Share It
  • 57
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    57
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here