‘পুরো টাকা যেন খরচ না হয়, তাই অর্ধেক থাকবে সঞ্চয়পত্রে’

Share It
  • 14
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    14
    Shares

আগামী ৩ দিনের মধ্যেই পাটকল শ্রমিকদের পাওনা টাকার পরিমাণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই জুন মাসের বেতন দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শুক্রবার (৩ জুলাই) ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পাটমন্ত্রী।

তিনি বলেন, পুরোনো টেকনোলজি দিয়ে কাজ হচ্ছে না। অব্যাহত লোকসান হওয়ায় পিপিপিতে যাচ্ছে সরকার।

পাটমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের পুনর্বাসন করতে হবে বলেছেন। তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন, একজন শ্রমিককেও অবহেলা করা হবে না। এছাড়া শ্রমিকদের পুরো টাকা যেন খরচ না হয়ে যায় সে জন্যই তাদের অর্ধেক টাকা সঞ্চয়পত্র হিসেবে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের সূত্র ধরে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আরো জানান, মজুরি কমিশন-২০১৫ অনুযায়ী পাটকল শ্রমিকদের জুন/২০২০ মাসের মজুরি আগামি সপ্তাহে তাদের ব্যাংক হিসাবে পরিশোধ করা হবে। নোটিশ মেয়াদের অর্থাৎ জুলাই-আগস্টের ৬০ দিনের মজুরিও উভয় মাসে যথারীতি পরিশোধ করা হবে। পিএফ, গ্র্যাচুইটি ও গোল্ডেন হ্যান্ডশেক সুবিধাসহ অবশিষ্ট সকল পাওনার ৫০% স্ব স্ব ব্যাংক হিসাবে এবং বাকী ৫০% স্ব স্ব নামে সঞ্চয়পত্র আকারে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। সব ক্ষেত্রেই মজুরি কমিশন-২০১৫ এর ভিত্তিতেই পাওনা হিসাব করা হবে।

তিনি আরো জানিয়েছেন, যে পিপিপির আওতায় মিলগুলি আবার চালু হলে সেখানে পুরনো শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের জন্য ব্যাংক হিসাব নম্বর অবিলম্বে বিজেএমসিকে জানাতেও অনুরোধ জানান তিনি।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের শতভাগ পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে এক সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস। পাওনা ২ লাখ টাকা হলে পুরোটা দেয়া হবে নগদ। এর বেশি হলে অর্ধেক দেয়া হবে সঞ্চয়পত্রে, অর্ধেক নগদে।

প্রায় ২৫ হাজার পাটকল শ্রমিক অবসরকালীন সুবিধাসহ প্রায় ৫ হাজার কোটি পাবেন জানিয়ে আহমদ কায়কাউস বলেন, আগামী তিন দিনের মধ্যে শ্রমিকদের তালিকা তৈরির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

গত ৪৪ বছরে মধ্যে মাত্র চারবার লাভ করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো। বেসরকারি খাতের পাটকলগুলো লাভ দেখাতে পারলেও বিজেএমসির আওতাধীন মিলগুলো বছরের পর বছর লোকসান করে যাচ্ছে। ৪৮ বছরে পাটকলগুলোর ক্ষতির পরিমাণ ১০ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। এমন অবস্থায় অব্যাহত পাটকল শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে বিদায় জানানোর ঘোষণা দেয় সরকার।

সরকারের এ সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও বকেয়া পাওনা এককালীন পরিশোধের দাবি ওঠে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে। এবার সরকার থেকে এলো সে ঘোষণাও। গণভবনে এক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের শতভাগ পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস জানান, পাওনা বাবদ পাঁচ হাজার কোটি টাকা বাজেট থেকে দেয়া হবে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকের পাওনা দুই লাখ টাকা হলে পুরোটাই নগদে পরিশোধ করা হবে। পাওনা এর বেশি হলে অর্ধেক নগদে বাকীটা তিনমাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে। নগদ পরিশোধ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এবং সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে পাওনা সরাসরি সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে নির্ধারিত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস জানান, পাটকলগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা বুঝিয়ে দিতে সরকার কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুই লাখ টাকার কম যাদের পাওনা হবে, তাদের পুরো টাকা তাৎক্ষণিকভাবে নগদ দেয়া হবে।

দুই লাখের বেশি পাওনা হলে ৫০ শতাংশ টাকা তাৎক্ষণিকভাবে নগদ দেয়া হবে। বাকি ৫০ শতাংশ টাকা তাদের দেয়া হবে তিন মাস মেয়াদি সঞ্চয়পত্রের আকারে।

তার মানে হচ্ছে, এই সঞ্চয়পত্র থেকে তিনি ইন্টারেস্ট পাবেন। আমরা একটা হিসেব করে দেখেছি, যদি গড়ে ১১ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়া হয়, তাহলে তিন মাসে গড়ে ১৯ হাজার ৩২০ টাকা থেকে ৭৪ হাজার ৫২০ টাকা পর্যন্ত মুনাফা পেতে পারেন তারা, বলেন আহমদ কায়কাউস।

তিনি বলেন, প্রকৃত অর্থে একজন শ্রমিক যা এখন নগদে পেত তার চেয়ে বেশি পাবে যদি আমি মাসিক মুনাফাটা হিসাব করি। নিম্নআয়ের শ্রমিক ভাই-বোনদের জীবনের নিশ্চয়তার জন্যই প্রধানমন্ত্রী এটি করেছেন।

মুখ্য সচিব বলেন, তাদের হিসাব অনুযায়ী, চাকরির অবসায়নের মাধ্যমে পাটকল শ্রমিকরা গড়ে ১৩.৮৬ লাখ টাকা পাবেন। কারও কারও ক্ষেত্রে তা ৫৪ লাখ টাকাও হবে।

গত ২৫ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকের পর শুরু হয়েছে স্থায়ী শ্রমিকদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া। রাষ্ট্রায়ত্ত ২৬টি পাটকলের স্থায়ী শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার, চুক্তির ভিত্তিতে কর্মরত আরো প্রায় ২৬ হাজার শ্রমিক।


Share It
  • 14
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    14
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here