বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের সেতু রক্ষার্থে প্রশাসনের ৪ পদক্ষেপ

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এসময় তিনি বলেন, বিদ্যালয় ভবনটি বাঁচানো না গেলেও দক্ষিণাঞ্চলে সড়ক যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই গুরুত্বপূর্ণ সেতু ঝুঁকিমুক্ত করার জন্য কাজ শুরু করেছি আমরা। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রথমতঃ আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ভাঙন কবলিত এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কারিগরি সহায়তায় জিও ব্যাগ ফেলে প্রাথমিক প্রতিরোধ কাজ শুরু করবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। দ্বিতীয়তঃ সমগ্র এলাকায় নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য আগামী ৭ দিনের মধ্যে ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে এবং আগামী একনেকের বৈঠকে প্রকল্প অনুমোদন করে তা অতিদ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সেনাবাহিনীর সাহায্য চাওয়া হবে। তৃতীয়তঃ সেতু এলাকায় জেগে ওঠা চর ও বাঁক কেটে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর প্রবাহ ও গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা হবে। চতুর্থতঃ সেতুর পাদদেশে থাকা সৈয়দ মোশারফ-রশিদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নদীতে বিলীন হলেও এর শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় পার্শ্ববর্তী জমিতে অস্থায়ী টিনশেড ক্লাসরুম নির্মাণ করা হবে। শিক্ষার্থী, গ্রামবাসী ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দের সাথে গতকাল ভাঙন কবলিত বিদ্যালয় মাঠে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতায় বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ফোরামের সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক বিদ্যালয় স্থানান্তরের জন্য তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে নগদ ৫ লাখ টাকা এবং সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে আরো ২৫ লাখ টাকা অনুদান প্রদানের ঘোষণা দেন। বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আবদুল মোতালেব হাওলাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই মতবিনিময় সভায় এসময় আরো বক্তৃতা করেন বাবুগঞ্জের ইউএনও সুজিত হাওলাদার, জেলা শিক্ষা অফিসার আনোয়ার হোসেন, সহকারী প্রকৌশলী মফিজুর রহমান বিশ্বাস, জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি বজলুর রহমান মাস্টার, শিক্ষক নেতা এনায়েত করিম ফারুক, স্থানীয় রহমতপুর ইউপি চেয়ারম্যান সরোয়ার মাহমুদ ও সৈয়দ মোশারফ-রশিদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা।
উল্লেখ্য, বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু এলাকায় নদী ভাঙনে বিপর্যয়ের মুখে থাকা সেতু ও ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলভবন নিয়ে বিভিন্ন দৈনিকে একাধিকবার প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাতে কর্ণপাত করেনি। সেতুর মালিকানা সংস্থা সড়ক ও জনপথ বিভাগ বরাবরই পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতিকে দায়ী করে নিজেদের দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করছিল। সরকারি দুই দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের উদাসীনতায় শেষ পর্যন্ত সেতুর পাদদেশে স্থাপিত ওই বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনটি সোমবার নদীতে বিলীন হলে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখে সেতু রক্ষায় উদ্যোগী হয় বরিশাল জেলা প্রশাসন।’

Share It
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here