স্থানীয়দের অভিযোগ মাত্র ১২ঘন্টায় লাল শাপলা বিলে রাস্তা ধ্বংস নাজমুল ইসলাম, জৈন্তাপুর- সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার পর্যটন এলাকার অন্যতম স্থান হল ডিবির হাওর লাল শাপলার ৪টি বিল। সম্প্রতি প্রবল বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও বিলে যাথায়াতের অন্যমত রাস্তা হল সিলেট তামাবিল মহাসড়কের কদমখাল হতে ডিবির হাওর বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত রাস্তার কোন কাঁদা হয়নি।

গত ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে চোরাকারবারী চক্রের সদস্যরা রাতভর ডিআই ট্রাকযোগে ভারতে মটরশুটি পাচার করতে গিয়ে পর্যটক চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি হাটু পরিমান কাঁদার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা জানান সন্ধ্যার পর হতে চোরাকারবারি সিন্ডিকেটর সদস্যরা স্থানীয় ৪৮বিজিবির অধিনস্থ ডিবির হাওর বিশেষ ক্যাম্পের কিছু সংখ্যাক অসাধু বিজিবি সদস্য ও থানা পুলিশের এক কর্তার সহযোগিতায় শারদীয় দূর্গা পুজার সুযোগে রাতভর ডিবির হাওর এলাকার রাজার মন্দির ও বড় ভাঙ্গা দিয়ে অন্তত হাজার খানেক ডিআই ট্রাক যোগে প্রায় ২লক্ষ বস্তা মটরশুটি ভারতের পাচার করে। বিনিময়ে ভারতীয় অফিসার চয়েস মদ, বিআর, বিভিন্ন ব্যান্ডের মদ, ইয়াবা, কসমেট্রিক্স, হরলিক্স, শেখ নাছির উদ্দিন বিড়ি, ভারতীয় বিভিন্ন ব্যান্ডের মোবাইল হ্যান্ডসেট, গরু মহিষ অবৈধ ভাবে নিয়ে আসে। এসব পণ্য পাচারের কারনে উপজেলা একমাত্র আর্কষনীয় পর্যটন কেন্দ্র লাল শাপলা বিলে যাতায়াতের রাস্তাটি প্রায় হাটু সমান কাঁদার সৃষ্টি করে পর্যটক চলাচলের অনুপযোগী করে তোলে সিন্ডিকেট দলের সদস্যরা।

অপরদিকে মটর শুটির বস্তা প্রতি বিজিবি নামে ৮০টাকা ও পুলিশের নামে ৫০টাকা, মাদক সহ অন্যান্য ভারতীয় সামগ্রীর কিট প্রতি বিজিবি ৫শত টাকা পুলিশ ৩শত টাকা করে বাঁশ ঝাড়ের নিয়ে দাঁড়িয়ে সোর্সরা টাকা আদায় করে বলে জানান স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসিন্ধারা। অনেক বাসিন্ধারা রাস্তার ক্ষতির হওয়ার বিষয় বললে রাস্তাটি তাদের বাপের কিনা জিজ্ঞাসা করে এবং মাদক দিয়ে বিজিবি পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হুমকী ধমকী দিয়ে তাদেরকে তাড়িয়ে দিয়ে তাদের অপকর্ম করে। সকাল হতে পর্যটকরা আসলে হাটু সমান কাঁদার কারনে লাল শাপলার বিলে যেতে পারেনি তার ফিরে চলে যেতে হয়েছে। এদিকে পর্যটকদের জন্য বিলটি আকর্ষণীয় করে তুলতে ডিবির হাওর রাস্তায় ১টি কালভার্ট ১টি ব্রিজ। পর্যটকদের জন্য একটি ওর্য়াকওয়ে, অত্যাধুনিক মানের একটি গণসৌচাগার, পর্যটক বসার জন্য ৬টি পাকার চেয়ার নির্মাণ করা হয়।

চোরাকারবারী দলের সদস্যরা ইতোমধ্যে ৬টি চেয়ার মধ্যে ৪টি উপড়ে ফেলেছে। সচেতন মহল জানান বিজিবি ক্যাম্প হতে ৫০০মিটার বা টহল চৌকী হতে ২শ মিটারের মধ্যে দিয়ে ভারতে মটরশুটি পাচার এবং ভারত হতে অবৈধ পথে পণ্য প্রবেশ হতবাবের বিষয়। উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ওমর ফারুক প্রতিবেদককে জানান, গত বুধবার আমি ডিবির হাওর লাল শাপলার বিলের পানির বাঁধটি মেরামত করার পর পরিদর্শন করি। এসময় রস্তাটি পুরোপুরে চলাচলের উপযোগি ছিল। রাস্তার কোন অংশে কাঁদা ছিল না। এমন ছবি দেখে তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না এক রাতেই কি করে এমন হল। তিনি সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য লোক পাঠাবেন বলে জানান।

ডিবির হাওর বিশেষ ক্যাম্পের সদস্যদের জিজ্ঞাসা করলে বলেন স্থানীয় গ্রামে একটি বিয়ে ছিল। বিয়ের গাড়ী আসা এবং বৃষ্টির পানির জন্য কারনে রাস্তার এমন অবস্থা হয়েছে। বড় ব্রীজ হতে নতুন ব্রীজ পর্যন্ত কোন বিয়ে ছিল না কিংবা বিয়ের গাড়ী আসার কথা নয় তাহলে রাস্তার এই অংশের এমন পরিস্থিতি কি করে হল জানতে চাইলে বিজিবি’র সদস্যরা বলেন গাড়ী ঘুরাতে এসেছে। রাস্তা জুড়ে মটরশুটি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার কারন জানতে চাইলে কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মহসিন আলী কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন রাস্তা সকলের, রাস্তা বন্দ করে দেওয়া যাবে না, রাস্তাটির অবস্থা ভাল নয়। আপনি যেটা ভাল মনে করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here