ব্রিটেনের রানির স্বীকৃতির পদক পেলেন বাঙালি শতবর্ষী দবিরুল

Share It
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares

ব্রিটেনের সেই শতবর্ষী বাঙালি দবিরুল ইসলাম চৌধুরীকে রানির সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। তিনি রোজার মাসে হেঁটে করোনাভাইরাস তহবিলের জন্য প্রায় সাড়ে চার লাখ পাউন্ড চাঁদা তুলেছেলেন। পূর্ব লন্ডনের বো এলাকার বাসিন্দা দবিরুল ইসলাম চৌধুরীকে অর্ডার অব দ্যা ব্রিটিশ এম্পায়ার (ওবিই) পদক দেয়া হয়।

এ দুর্লভ সম্মান পেয়ে আমি নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবান বলে মনে করছি উল্লেখ করে দবিরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে সবার প্রতি ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

রানি এলিজাবেথের জন্মদিন উপলক্ষে ব্রিটেনের সমাজ-জীবনে যারা বিশেষ ভূমিকা রাখেন প্রতিবছর তাদের সম্মান জানানোর রীতি রয়েছে।

চলতি বছর জুন মাসে এ সম্মাননা ঘোষণার পরিকল্পনা থাকলেও করোনাভাইরাস মহামারির সময় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী, অর্থদাতা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তা স্থগিত করা হয়।

গত রমজান মাসের পুরোটা সময় দবিরুল ইসলাম চৌধুরী রোজা রেখে প্রতিদিন তার বাড়ির পেছনের ৮০ মিটার বাগানে হেঁটে মোট ৯৭০ বার চক্কর দিয়েছেন। তার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ, ব্রিটেন এবং আরও কিছু দেশের করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত মানুষের সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহ করা।

ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন টম মুর তার বাড়ির বাগানে হেঁটে স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য যেভাবে প্রায় সাড়ে তিন কোটি পাউন্ড চাঁদা তুলেছিলেন তা দেখে উৎসাহিত হয়েছিলেন দবিরুল চৌধুরী।

রোজার মাসের পুরোটা সময় তিনি একইভাবে হেঁটে মোট চার লাখ ২০ হাজার পাউন্ড সংগ্রহ করেন।

ক্যাপ্টেন টম মুর, দবিরুল ইসলাম চৌধুরীর যিনি অনুপ্রেরণা, হেঁটে ব্রিটেনের স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য তিনি প্রায় সাড়ে তিন কোটি পাউন্ড চাঁদা তোলেন। এর মধ্যে এক লাখ ১৬ হাজার পাউন্ড দেয়া হয় স্বাস্থ্য বিভাগ এনএইচএসকে। বাকি অর্থ ৫২টি দেশের ৩০টি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করা হয়।

দবিরুল চৌধুরীর এ প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বিরোধীদল লেবার পার্টির প্রধান স্যার কিয়ার স্টার্মার বলেছেন, আমাদের সবার কাছে তিনি প্রেরণার এক উৎস। এই স্বীকৃতি ইমিগ্র্যান্ট সমাজের।

বিবিসি বাংলার সাথে এক সাক্ষাৎকারে দবিরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, তিনি ব্রিটেনের বাঙালি সমাজ, বয়স্ক সমাজ এবং অভিবাসী সমাজের পক্ষ থেকে এই ওবিই পদক গ্রহণ করছেন।

তিনি জানান, সপ্তাহ দুয়েক আগে রানির দফতর থেকে ওবিই পদক প্রাপ্তির চিঠি পেয়ে তিনি বেশ অবাকই হয়েছিলেন।

রানির পদক পাওয়ার পর তিনি যেসব দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত সেগুলোর প্রতি মানুষের সমর্থন আরও বাড়বে বলে আশা করেন দবিরুল।

তার ছেলে আতিক চৌধুরী বলেন, জন্মস্থান সিলেটের দিরাইয়ে বাংলা ফিমেল অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি চ্যারিটির সাথে যুক্ত আছেন বাবা। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে মোট ৩২০ জন মেয়ে রয়েছে। এদের উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েছে বলে জানান তিনি।

আতিক চৌধুরী জানালেন, তার বাবা বয়োবৃদ্ধ বলে মহামারির সময়ে সেলফ আইসোলেশনে রয়েছেন।

ফলে একমাত্র তিনি এবং একজন সেবাকর্মী ছাড়া কারও সাথে তিনি দেখা করতে পারছেন না।

দবিরুল ইসলাম চৌধুরীর জন্ম ১৯২০ সালে সিলেটের দিরাইতে। ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে উচ্চশিক্ষার আশায় ১৯৫৭ সালে তিনি বিলেতের পথে পাড়ি জমান। এরপর তিনি সেন্ট অলবান্স শহরে বসবাস করেন এবং সেখানে একজন কমিউনিটি লিডার হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধের সময়েও তিনি অর্থ সাহায্য সংগ্রহ করেছিলেন।

সূত্র: বিবিসি


Share It
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here