যশোর প্রতিনিধি: যশোরে ভবদহ জলাবদ্ধ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ এখনও কমেনি। এখনও অসংখ্য বাড়িতে উঠান ভর্তি পানি। বাঁশের সাঁকোই ঘরে ওঠার একমাত্র ভরসা। বেশ কিছু রাস্তা এখনও তলিয়ে আছে ভবদহ জলাবদ্ধ অঞ্চলে। এই সকল রাস্তায় চলাচল করা দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে। দূর্ভোগের আরেক নাম হয়ে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধ সড়কগুলো। প্রতিনিয়ত এসকল সড়কে ঘটছে দূর্ঘটনা। হাজার হাজার মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে সড়কগুলোতে।
জানা যায়, অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া-মশিয়াহাটী রাস্তার সরখোলা নামক স্থানে প্রায় আঁধা কিলোমিটার রাস্তা, উপজেলার ডুমুরতলা থেকে আন্ধা পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা, বলারাবাদ গ্রামের রাস্তা এবং মণিরামপুরের হাটগাছা, সুজাতপুর, ডহর মশিয়াহাটী, মশিষদিয়ার মধ্যবর্তী রাস্তা এখনো জলাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। যে কারণে পথাচারীদের রাস্তায় দূর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। সরখোলা নামক স্থানের রাস্তায় কেউ কেউ নৌকা ভাড়া করে, আবার কেউ কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে।
শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই রাস্তায় এখনও হাটুসমান পানি রয়েছে। মটর সাইকেল চালকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে। ইজি বাইকের যন্ত্রাংশ ক্ষতি হওয়ার ভয়ে পার হতে চাচ্ছে না। তবে বেশি ভাড়া দিলে পার হচ্ছে।
এই সময় কথা হয় রাস্তায় আটকে যাওয়া ইজিবাইক উল্টে পড়া এক যাত্রীর সাথে। তিনি বলেন, রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আর পানির মধ্যে এসব গর্ত দেখতে না পাওয়ার করণে অধিকাংশ মাল বোঝাই গাড়ী এই রাস্তায় জলের মধ্যে উল্টে পড়ছে। পথচারী দুধ ব্যবসায়ী তনু সরকার জানায়, আঁধা কিলোমিটার রাস্তা পার হতে প্রায় আঁধা ঘন্টা সময় লেগেছে।
এই ব্যাপারে মণিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখর চন্দ্র রায় বলেন, ভবদহ অঞ্চলের সকল রাস্তা উঁচু করতে হবে। রাস্তার দুইধারে গাইডওয়াল নির্মাণ করতে হবে। তাহলে জলাবদ্ধতার হাত থেকে এই সকল রাস্তা রক্ষা করা সম্ভব হবে। এব্যাপারে অভয়নগর উপজেলা প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম বলেন, ওই রাস্তা গুলো সংস্কারের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে রাস্তা সংস্কার করা হবে। আর সরখোলা নামক স্থানে ব্রিজের সমান উঁচু করে রাস্তা করা হবে।
এই দিকে ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে একাট্টা পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষ। তাদের একটায় দাবি ভবদহ নয়, আমডাঙ্গা খাল থেকে ব্লক অপসারণ করে পানির গতি বৃদ্ধি করলে বেচেঁ যাবে পানিবন্দি হাজার হাজার পরিবার। অভয়নগর উপজেলার পানিবন্দি ধোপাদী গ্রামের মানুষের কাছে এমন দাবির মুখে নিয়ে গতকাল সরেজমিনে আমডাঙ্গা খাল পরিদর্শনে যায় কয়েকশ পানিবন্দি মানুষ।
খালের বাস্তব চিত্র দেখে পানিবন্দি ওই মানুষের কপালে ভাঁজ পড়ে। সামান্য কয়েকটি ব্লক যা খালটির তলদেশ ও দু’পাশ সরু করে পানির গতিকে বাধাগ্রস্থ করছে।এই সামান্য কয়েকটি ব্লকের জন্যে পানিবন্দি রয়েছে ভবদহ এলাকার হাজার হাজার পানিবন্দি পরিবার। অবস্থা নিজেদের ধরে রাখতে না পেরে খালের মধ্যে নেমে পড়েন অনেকে। কয়েকটি ব্লক অপসারণ করতেই পানির গতি বৃদ্ধি পায়।
এমনকি ভৈরব নদের পানির চেয়ে জলাবদ্ধ ওই সব বিলের পানি প্রায় ৪ থেকে ৫ ফুট উঁচু।
খালটি পরিস্কার করতে পারলে অল্প সময়ের ব্যবধানে কমে যাবে ওই সব বিলের পানি। চলতি বোরো মৌসুমে চাষাবাদ করে কিছুটা সামলে নিতে পারবে কৃষি ও মৎস্যজীবি পরিবারগুলি। এমন সিদ্ধান্ত নিতে জরুরী সভার আহবান করা হয় শুক্রবার সন্ধ্যায়। স্থানীয় নতুন বাজারে সমবেত হয় পানিবন্দি ইউনিয়ন সুন্দলী, কুলটিয়া, কোটা, সরখোলাসহ ধোপাদী গ্রামের আপামর জনসাধারণ।
পানিবন্দি মানুষের উপস্থিতি এমনই হয় যে মতবিনিময় রূপ নেয় মহাসমাবেশে। নওয়াপাড়ার জুট মিলের সিবিএ সভাপতি মো: নজরুল ইসলাম সরদারের সভাপতিত্বে ও সাবেক কাউন্সিলর আ: রউফ মোল্যার সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, ধোপাদী গ্রামের বিশিষ্ট সমাজ সেবক সরদার মশিয়ার রহমান মশি, কাউন্সিলর সরদার জাকির হোসেন, সুন্দলী ইউপি চেয়ারম্যান কপিল বিকাশ রায়, দৈনিক নওয়াপাড়ার বার্তা সম্পাদক এম মফিজুর রহমান দপ্তরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধীর কুমার পাড়ে,মোতালেব ফারাজী, সাবেক চেয়ারম্যান পরিতোষ কুমার বিশ্বাস, ইউপি মেম্বর ইকবাল হোসেন,মো: আনোয়ার হোসেন মোল্যা, সরখোলা,ধোপাদী গ্রামের আব্দুল হামিদ দপ্তরী, সরদার রফিকুজ্জামান টুলু, আক্তার হোসেন, কোটা গ্রামের আক্তার হোসেন, অতীত কুমার প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here