মাসুদ পারভেজ (সাতক্ষীরা) কালিগঞ্জ থেকেঃমরণঘাতী করোনার থাবায় দমবন্ধ পৃথিবীর বাতাস। চারিদিকে ভয়, উৎকন্ঠা, আতংক। হাফিঁয়ে উঠেছে মানবকূল। আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সকলের বুকে যেন পাথরের মতো চেঁপে বসেছে উদ্বেগ।
শিশুরা ভুলতে বসেছে উচ্ছ্বলতা। প্রাণবন্ত সেই সকাল নেই, নেই স্কুল মাঠের সেই দৌড়-ঝাঁপ, বন্ধুদের সাথে দুষ্টুমি, খুনসুটি। শিক্ষদের আদর শাসনও যেন মিলিয়ে যেতে বসেছে।
মা-বাবার হাত ধরে স্কুলের পথের সেই লম্ফ-ঝম্প দৌড়ও থামিয়ে দিয়েছে মরণঘাতী করোনা। আর এই দুঃসহ দূর্বিপাকে পড়ে নাজেহাল শিশুরা যেন ফাঁক ফোঁকর খুঁজে চলেছে একটু খোলা ময়দানের। একটু দলছুট আড্ডা কিংবা এক্কাদোক্কার মতো তিড়িং বিড়িং ছুটে চলার মতো কিঞ্চিৎ সময়। যেখানে তারা একটু হাফ ছাড়তে পারে প্রাণবন্ত হাসিতে ভরিয়ে তুলতে পারে প্রকৃতির রুক্ষতাকেও।
আর তাই বর্ষার এই মৌসুমে যখন মাঠ-ঘাট, নদী-খাল পানিতে টইটুম্বুর, তারা হাতে বড়শি নিয়ে ছুটে চলেছে জলের কোলাহলে। করোনার কারণে বিকেলে খাল-বিলে মাছ শিকারীর সংখ্যা বেশি দেখা মিলছে। বিকেল হলেই মাছ ধরার এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য যেন ফেলে আসা স্মৃতিকে ভীষনভাবে নাড়া দেয়। এই দৃশ্য সাধারণ মানুষের মনেও আনন্দের খোরাক যোগায় এমনটিই জানালেন স্থানীয়রা।
ভারত সীমান্তের গা ঘেষে গড়ে উঠা সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা। মহামারি করোনা ভাইরাসের নীল ছোবলে সারা বিশ্বের মত অনেকটাই থমকে গেছে সীমান্তবর্তী উপজেলাতে বসবাসকারী প্রায় সাড়ে ৬ লাখ মানুষের জীবনযাত্রা। বিশেষ করে স্কুল, কালেজ মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত শিশু কিশোররা প্রায় ৮ মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বলাচলে ঘরবন্দি।
এই পরিস্থিতি থেকে কিছুটা হলেও আনন্দ পেতে শিশু কিশোররা তার অভিভাবকের অনুমতি ক্রমেই দুপুর কিংবা পড়ন্ত বিকেলে বের হচ্ছে ঘরের বাইরে। এই সময়টিতে তারা বাড়ির অদুরে খাল-বিলে ছিপ আর বড়শিতে মাছ শিকারে মেতে উঠছে।
কালীগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের পানিয়া বিলের ধারে যেয়ে দেখা যায়, স্থানীয় শিশু কিশোররা ওই বিলের পানিতে বড়শিতে মাছ শিকারে মেতে উঠেছে। প্রতিটি বড়শিতে দেশি পুটি, টেংরা আবার কোন কোন সময়ে তেলাপিয়া মাছও হচ্ছে। তাই মাছ শিকার করতে আসা শিশুদের কথা বলার মত সময়টুকু নেই।
বেলেমাঠ গ্রামের আল আমিন স্থানীয় পানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর ছাত্র। বড়শিতে মাছ ধরে সে ভীষণ আনন্দ পাচ্ছে। তার মত মাছ শিকারে আসা ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্র সাদিক হাসান, রফিকুল ইসলাম, সূর্যমুখী কিন্ডার গার্টেন স্কুলের কেজি শ্রেনীর ছাত্র নয়ন হোসেন, ২য় শ্রেনীর ছাত্র জুবায়ের হোসেন, ৫ম শ্রেনীর ছাত্র দূর্জয় ও অংকন এবং পানিয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর ছাত্র সংগ্রাম হোসেন বলেন, স্কুল বন্ধ থাকায় আমরা প্রায় প্রতি দিনই বিকেলে মাছ ধরতে আসি। এ বছর বিলের পানিতে প্রচুর মাছ তাই বড়শি পানিতে ফেললেই মাছ হচ্ছে, মাছ ধরা অবশ্যই একটি মজার ব্যাপার বলে শিশুরা জানায়।
অভিভাবক হাফিজুর রহমান বলেন, আমি মনে করি করোনাকালীন সময়ে বড়দের থেকে শিশুরাই বেশি নিয়ম মেনে চলেছে এখনও চলছে। তারা পিতা মাতার অবাধ্য হয়নি। দীর্ঘ সময় ঘরে থাকায় শিশুরা এক প্রকার হাফিয়ে উঠেছে। তাই বিকেলে শিশুরা যে দল বেঁধে মাছ শিকার করছে নিশ্চয় এটি ভাল লাগার বিষয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here