নাবিলা ওয়ালিজা মাদারীপুরঃ   মাদারীপুর জেলায় মাছ চাষ করে সাফল্য অর্জন করেছেন ফেরদাউস হাওলাদার (৩৬)। দীর্ঘ ১৬ বছরেরও বেশি সময়ের নিরলস প্রচেষ্টা ও পরিশ্রম তাকে এ সফলতা এনে দিয়েছে। জেলায় একজন সফল মৎস্য চাষি হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠিত। প্রতি মাসে এখন আয় কয়েক লাখ টাকা ।
ফেরদাউস হাওলাদার পিতাঃ হাজী আব্দুল খালেক হাওলাদার ফেরদাউস হাওলাদারের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়ন, জয়ার গ্রামে।বর্তমানে সে খ্যাতির পাশাপাশি পেয়েছেন আর্থিক সচ্ছলতা। সেই সঙ্গে তার এখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন প্রায় ১০ জন মানুষের। তার এই সাফল্য দেখে অনেক বেকার যুবক এগিয়ে এসেছেন মাছ চাষে। ফেরদাউস হাওলাদার কাছ থেকে পরামর্শ এবং নানা সহযোগিতা নিয়ে তারাও নিজেদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ পর্যন্ত প্রায় ১৭ টিরও বেশি মাছের খামার তৈরি করেছেন । ফেরদাউস হাওলাদারের মাছের খামারে   চাষ হয় মূলত কই, পাঙ্গাশ ও তেলাপিয়া মাছের। প্রতি ৬ মাস পর পর এখান থেকে মাছ বিক্রি করা হয়। পাইকাররা খামার থেকেই মাছ কিনে নিয়ে যায়। আর সপ্তাহে একবার করে ঘেরের পানি বদল করা হয় নিজস্ব সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে।
শফিউল্লাাহ জানান, ২০০৪ সালে মাত্র ১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২০ শতাংশ জমিতে মাছ চাষ শুরু করেন। সে বছর তার সামান্য লাভ হয়। কিন্তু এ ব্যবসার প্রতি আকর্ষণ বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ গ্রহণ করে তার কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে থাকেন।
শফিউল্লাাহ বলেন, এরপর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক সাফল্য ধরা দিতে থাকে। এলাকার বিভিন্ন সরকারি খাস পুকুর এবং ব্যক্তি পর্যায়ের পুকুর লিজ নিয়ে তিনি তার মাছ চাষের পরিসর বৃদ্ধি করতে থাকেন।
বর্তমানে মাদরীপুর তথা ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলা উপজেলার মৎস্য চাষিদের মধ্যে অতি পরিচিত নাম ফেরদাউস হাওলাদার। মৎস্য চাষ থেকে তার বার্ষিক আয় ২৫ লাখ টাকারও বেশি। এ বিষয়ে শফিউল্লাহর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাকরি নয়, আত্মকর্মসংস্থানই একজন মানুষের স্বপ্ন হওয়া উচিত। তিনি মনে করেন, বিশ্বের সঙ্গে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে যে কোনো কাজের পাশাপাশি মৎস্য প্রকল্প তৈরি করা উচিত।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ জানান, ছোট্ট পরিসরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাছ চাষ শুরু করেছিলেন ফেরদাউস হাওলাদার। কিন্তু তার একাগ্রতা ও কর্মনিষ্ঠায় এখন তা ব্যাপকতা লাভ করেছে। এতে তিনি যে শুধু নিজেই আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন তাই নয় বরং মাছ চাষে উদ্বৃত্ত হিসেবে পরিচিত মাদারীপুর জেলায় মোট মাছ উৎপাদনের পরিমাণকেও তিনি সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন, ফেরদাউস হাওলাদার এর মাছ চাষ দেখে এখন অনেকেই এ পেশায় আসতে চায়। এ জন্য বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here