মুক্তিযোদ্ধা চত্বর গায়েব.!

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে বিশেষ করে যারা সিলেট থেকে অবদান রেখেছেন তাদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য ১৯৯৬ সালে সিলেটের কদমতলীতে নির্মাণ করা হয় মুক্তিযোদ্ধা চত্বর।

মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে অস্লান করে রাখতে মুক্তিযোদ্ধা চত্বর নির্মাণ করা হয়েছিল। এখানে চতুষ্কোণ একটি স্তম্ভ ছিল। দুই বছর আগে ওই এলাকার সড়কটি প্রশস্তকরণের জন্য সড়ক ও চত্বর ভেঙে নতুনভাবে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। সড়ক নির্মাণ হয়ে খানাখন্দে পরিণত। কিন্তু অবহেলায় পড়ে আছে এ চত্বরটি।

নগরীর অন্যতম প্রবেশমুখ হচ্ছে এই সড়ক। অন্যান্য জেলা থেকে যখন মানুষ আসবে তখন কি ভাববে তারা এই পরিবেশ দেখে।গোলাকার চত্বরের মধ্যে পানি জমে রয়েছে। তাতে ভাসছে শেওলা আর ময়লা-আবর্জনা। সেই পানিতে ভ্রাম্যমাণ সবজি বিক্রেতারা সবজি ধুয়ে টুকরিতে রাখছেন। একই স্থানে একটি ট্রাক, টেম্পো, মাইক্রোবাস ও যাত্রীবাহী বাস দাঁড়িয়ে আছে। এ দৃশ্য সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কদমতলী এলাকায় অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের।

ওই এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মুক্তিযোদ্ধা চত্বর নামে স্থানটির পরিচিতি সিলেটজুড়েই রয়েছে। অথচ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ চত্বর এভাবে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকাটা দুঃখজনক। চত্বরের ভেতর নোংরা ও দুর্গন্ধময় হয়ে রয়েছে। এ ছাড়া স্থানটি দীর্ঘদিন ধরেই অস্থায়ী গাড়ি রাখার স্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে। চত্বরের পরিবেশ সুন্দর রাখতে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

ব্যবসায়ীরা আরো জানান, কদমতলী এলাকায় নগরের সর্ববৃহৎ বাস টার্মিনাল অবস্থিত। এলাকাজুড়ে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শুরু করে বৃহত্তর সিলেটের তিন জেলা ও বিভিন্ন উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে। অনেক সময় বাস টার্মিনালের ভেতর স্থানাভাবে বাস মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। চত্বরে আগের মতো কোনো স্থাপনা না থাকায় অনেকটা অস্থায়ী স্ট্যান্ড হিসেবেই স্থানটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চত্বরে ১০ ইঞ্চি উচ্চতার যে ইটের বেষ্টনী দেওয়া রয়েছে, সেখানকার বেশ কিছু স্থানের ইট খসে পড়েছে। চত্বরের মধ্যে জমে থাকা পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সেখানে চারজন সবজি ব্যবসায়ী লতা, কলমিশাকসহ বিভিন্ন সবজি পরিষ্কার করছেন। চত্বরের ভেতরে দাঁড় করিয়ে রাখা একটি বাস ও ট্রকের ভেতরে থাকা দুই ব্যক্তি গল্পগুজব করছেন। এই সময় এক সবজি ব্যবসায়ী বলেন, ‘ভাই, ভুল হয়ে গেছে।’ আর ট্রাকের ভেতরে থাকা ব্যক্তি বলেন, ‘সবাই রাখে। তাই চত্বরের ভেতরে আমিও ট্রাক রেখেছি। একটু পরই চলে যাব।’

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী রিতেশ বড়ুয়া জানান, সড়কটি তাঁদের আওতাধীন। তবে সে সড়কে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ নির্মাণকাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিশাল এ চত্বরের জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভাও থাকতে পারে। তাই দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য সিটি কর্পোরেশনের হস্তক্ষেপও চান তারা।সারাদেশে মহামারী আকার ধারণ করেছে ডেঙ্গু। এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে সিলেটেও। এজন্য সিসিকের পক্ষ থেকে মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানও চলমান রয়েছে। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা চলমান আছে। এমতাবস্থায় সিসিকের ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের অদূরের এ চত্বরের আবদ্ধ পানি নিষ্কাশন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।

সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, আবদ্ধ অবস্থায় পানিতে ভাসছে মশা। পানি থেকে দুর্গন্ধও ছড়াচ্ছে। এছাড়া সেখানে কয়েকটি পরিত্যক্ত যানবাহনও পার্কিং করে রাখা আছে।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে কদমতলী এলাকার মুক্তিযোদ্ধা চত্বর-সংলগ্ন সড়ক এবং সুরমা নদীর তীরে ওয়াকওয়ে নির্মাণের জন্য প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এর ফলে সড়কের মধ্যে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা চত্বরটি ভেঙে পরিসর আরও বাড়ানো হয়। এ কাজেরই অংশ হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে একটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা তৈরিরও সিদ্ধান্ত রয়েছে। এরই মধ্যে চত্বরের জন্য নকশা চেয়ে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছিল। তবে জমা পড়া নকশা পছন্দ না হওয়ায় ফের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!