মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি চান ‘শিশু’

Share It
  • 39
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    39
    Shares

জয়পুরহাট সদর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আছমা বিবি। তিনি জাতীয় মহিলা সংস্থা জেলা শাখার চেয়ারম্যান। সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানও। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ছিল আট বছর তিন মাস।

সেই আছমা বিবি মুক্তিযুদ্ধের সময় ২০ বছরের তরুণী দাবি করে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার আবেদন করেছেন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা)। তাঁর সেই আবেদন যাচাই-বাছাই না করে তাঁর পক্ষে সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করেছেন এক ব্যক্তি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আছমার বাড়ি সদর উপজেলার জয়পুর গ্রামে। তাঁর জন্ম তারিখ ১৯৬২ সালের ২০ ডিসেম্বর (জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ৫৫৩৬৪২১২৯৯)। সে অনুযায়ী তাঁর বয়স আট বছর তিন মাস ছয় দিন। কিন্তু ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ১২ বছর বয়স বাড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময় তরুণী ছিলেন বলে দাবি করেন। অর্থাৎ বর্তমানে তিনি জন্ম তারিখ দাবি করছেন ১৯৫০ সালের ২০ ডিসেম্বর।

এই অবস্থায় বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার জন্য আছমা ২০১৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর জামুকার মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জামুকার সহকারী পরিচালক আব্দুল খালেক চলতি বছরের ২ জানুয়ারি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর চিঠি ইস্যু করেন। চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলায় কর্মরত পাঁচ সদস্যের সরকারি নারী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি করা হয়। এর আহ্বায়ক উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহনাজ সিগমা তদন্ত শেষ করে গত ২৪ জুন প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে আছমাকে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার জন্য সুপারিশ করেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাবিনা সুলতানা, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সেলিনা ইয়াসমিন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফারজানা হক ও বেসরকারি সংস্থা রোকেয়া ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রিনা আখতার।

কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই না করে পরিবার পরিকল্পনা অফিসের একজন পরিদর্শকের মাধ্যমে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে তদন্ত কমিটি তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে।

এ বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক শাহনাজ সিগমা বলেন, ‘অফিসের মাঠপর্যায়ের একজন কর্মীর তৈরি করা প্রতিবেদনে আমরা শুধু স্বাক্ষর করেছি।’

আবেদনের সঙ্গে আছমা বিবির দেওয়া কাগজপত্র ও সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আছমা বিবি বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার জন্য দোগাছি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) থেকে বাবার পরিবর্তে স্বামীর নাম দিয়ে ১২ বছর বয়স বাড়িয়ে জন্ম নিবন্ধনে বয়স সংশোধন করেছেন। সেখানে তাঁর জন্ম তারিখ উল্লেখ করেছেন ১৯৫০ সালের ২০ ডিসেম্বর। সংশোধিত জন্ম নিবন্ধনপত্রে ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম ও ইউপি সচিবের স্বাক্ষর ও সিল আছে। এ ছাড়া বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুপারিশ করা ইউনিয়ন পরিষদের নাম লেখা প্যাডে চেয়ারম্যানের সিল-স্বাক্ষর করা প্রত্যয়নপত্রও জমা দেওয়া হয়েছে আবেদনপত্রের সঙ্গে।

তবে ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আছমা বিবিকে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার সুপারিশ করে কোনো প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়নি। এসংক্রান্ত কোনো কাগজপত্রে আমি স্বাক্ষরও করিনি।’

জন্ম সাল ১৯৬২ হলেও ১৯৬৩ সালে তিনি অষ্টম শ্রেণি পাস করেছেন মর্মে স্থানীয় একটি দাখিল মাদরাসার প্রত্যয়নও জমা দিয়েছেন বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার গেজেটভুক্তির আবেদনে। সরেজমিনে উত্তর জয়পুর দাখিল মাদরাসার সুপার আফাজ উদ্দিনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আছমা বিবি আমার মাদরাসার ছাত্রী ছিলেন এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ মাদরাসায় না থাকলেও তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই প্রত্যয়ন দিতে আমি বাধ্য হয়েছি।’

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আছমা বিবির প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা নেই। শুধু নাম স্বাক্ষর করতে পারেন। তবে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি উল্লেখ আছে।

বীরাঙ্গনা সাজতে আছমা বিবি শুধু জন্ম নিবন্ধন সংশোধন না, জেলা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ইউনিট কমান্ডারদের প্রত্যয়নপত্র এবং আদালতে করা এফিডেভিডসহ উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকেও সুপারিশ নিয়েছেন। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রয়াত সাবেক এক জেলা কমান্ডারের মৃত্যুর দুই মাস ১৫ দিন পরের তারিখে দেওয়া একটি প্রত্যয়নও তাঁর আবেদনপত্রের সঙ্গে পাওয়া গেছে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স বাড়িয়ে নিতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। বয়স বাড়ানোর তিনবারের আবেদন নির্বাচন কমিশন বাতিল করেছে। অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর বয়স আট বছর তিন মাস ছয় দিনই বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন।

আট বছরের শিশুকে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রত্যয়ন দেওয়া প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার আমজাদ হোসেন বলেন, ‘শুধু আমি কেন, অনেকেই সুপারিশ দিয়েছেন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় আছমা বিবি ছিলেন সাত-আট বছরের শিশু। ২০০৮ সালে সদরের উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এলাকায় তিনি প্রভাব বিস্তার করেন। সরকারদলীয় হওয়ায় তাঁর সম্পর্কে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি।

আছমা বিবি নিজেকে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে বলেন, ‘ওই সময় জাতীয় পরিচয়পত্রে আমার জন্ম তারিখ ভুল করে লেখা হয়েছে। তাই আমি সংশোধন করার জন্য কাগজপত্র জমা দিয়েছি। আমি একজন প্রকৃত বীরাঙ্গনা হিসেবে যাবতীয় কাগজপত্রসহ গেজেটভুক্তির জন্য আবেদন করেছি।’

জেলা প্রশাসক শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • সাংবাদিক নিয়োগ : দৈনিক মুক্ত আলো

  • Application Form - আবেদন ফরমটি যথাযথভাবে পূরণ করে নিচের সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন। আবেদন করার আগে নিচে দেওয়া তথ্য গুলি মনোযোগ সহকারে পড়ে নিন।০১৮২৯৪২৪৭৭১ বিকাশ পার্সোনাল, এই নাম্বারে তিনশত টাকা (আবেদন ফি অফেরত যোগ্য) সেন্ড মানি করে নিচে ট্রানজেকশন আইডি উল্লেখ করুন। (অন্যথায় আপনার আবেদন গৃহীত হবে না,তাই আবেদন করার আগে অবশ্যই সেন্ড মানি করে নিবেন)
  • নির্দেশনার টি ভালভাবে পড়ুন

    সাংবাদিক নিয়োগ : দৈনিক মুক্ত আলো জেলা-উপজেলা ও কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সাংবাদিক/প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে।সারাদেশ থেকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান / নাতী-নাতনীদের ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রকৃত নাগরিকদের আবেদন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হল – আগ্রহীরা আগামী (৩০/০৯/২০২০ইং) এর মধ্যে আবেদন জমা দিন জমা দিনঃ ০১৮২৯৪২৪৭৭১ বিকাশ পার্সোনাল, এই নাম্বারে তিনশত টাকা (আবেদন ফি অফেরত যোগ্য) সেন্ড মানি করে নিচে ট্রানজেকশন আইডি উল্লেখ করেন। (অন্যথায় আপনার আবেদন গৃহীত হবে না,তাই আবেদন করার আগে অবশ্যই সেন্ড মানি করে নিবেন) সবার আগে দেশ ও বিদেশের সব খবরের পিছনের খবর জানতে ও জানাতে দেশের প্রতিটি জেলায় সংবাদ প্রতিনিধি,থানা প্রতিনিধি, বিশেষ প্রতিনিধি,বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি,ব্যুরো চিফ,ও গুরুত্বপূর্ণ বিটে স্টাফ রিপোর্টার,এবং স্কুল,কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুরুষ/মহিলা সেচ্ছাসেবী শিক্ষানবিশ সাংবাদিক নিয়োগ করা হবে । প্রর্থীর যোগ্যতা: # শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে এইচ,এস,সি.অথবা সমমান হতে হবে। # প্রার্থীর নিজেস্ব ল্যাপটপ/ কম্পিউটার থাকলে ( অগ্রাধিকার দেওয়া হবে) # এম,এস,ওয়ার্ডে বাংলায় টাইপিং জানা থাকলে( অগ্রাধিকার দেওয়া হবে) # ক্যামেরা থাকালে( অগ্রাধিকার দেওয়া হবে) # কোন কপি রাইট সংবাদ প্রেরন করা যাবে না। # প্রেরিত সংবাদের সহিত সংবাদ সর্ম্পকিত ছবি/ভিডিও পাঠানোর চেষ্টা করতে হবে।#অভিজ্ঞ প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। #প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতী-নাতনীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি আপলোড করুন। জাতীয় পরিচয় পত্রের ছবি আপলোড করুন। শিক্ষার্থীদের জন্য কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ডের ছবি আপলোড করুন। সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেটের ছবি আপলোড করুন। । অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে: অভিজ্ঞতা সনদের ছবি আপলোড করুন। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যের ক্ষেত্রে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সকল কাগজপত্র ছবি আপলোড করুন। নির্বাচিত সংবাদ কর্মীদেরকে যোগ্যতা অনুযায়ী বিশেষ প্রক্রিয়ায় সম্মানী প্রদান করবে । যোগাযোগ: Phone: 01829424771 E-mail: doinikmuktoalo.editor@gmail.com Facebook: https://www.facebook.com/doinikmuktoalo.bd
  • আবেদন ফরম - apply now

  •  

Share It
  • 39
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    39
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here