মেয়ে হয়ে জন্মে নারী হয়ে ওঠার জন্য  একমাত্র দায়ী পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। পৃথিবী লগ্ন হতেই তাদের কে পুরুষ জাতি শুধু ব্যবহৃত পণ্য মনে করত। তারা ভাবত তাদের কামনার পরিতৃপ্তি হিসেবেই নারীকে তৈরি করা হয়েছে। নারী অকাজিয়,কামনার বস্তু। মেয়েরাও সেই নারী সুলভ ভাবেই বেড়ে ওঠে। আর সে ভাবেই তারা জন্মের পর নারী হয়ে ওঠে। এজন্যই হয়তো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘মানসী’ কবিতায় বলেছেন,
শুধু বিধাতার সৃষ্টি নহ তুমি নারী!
পুরুষ গড়েছে তোরে সৌন্দর্য সঞ্চারি।
এখানেও পুরুষের অহমিকা প্রকাশ পেয়েছে খুবই পরিষ্কার ভাবে। পুরুষ জাতি নারী অস্তিত্বকে অস্বীকার করে। পুরুষদের ভাবনা পুরুষের জন্যই নারী সুন্দর। ‘মানসী’ কবিতায় কবি শেষের লাইনটিতে বলেছেন-
অর্ধেক মানবী তুমি অর্ধেক কল্পনা।
এখানে কবির দাবি নারীর সম্পূর্ণ অস্তিত্ব বিধাতার সৃষ্টি নয়। অর্ধেক কল্পনার যা কখনো বাস্তবে দেখা যায় না।  সেই অর্ধেকই হয়তো  পুরুষের অহমিকার ধর্ষিত ফল।  যেটা তাদের নারী’তে পরিণত করে।
নারী জন্মগত ভাবে নয় নারী হয়ে ওঠে জন্মের পরে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বেরে ওঠার মাঝে।
আপনাদের একটা প্রশ্ন করি-
নারী কাকে বলে?
এমন প্রশ্ন শুনে  হয়তো সবাই ভ্রু কুচকাবেন সেটাই  স্বাভাবিক।
কেউ বলবেন,নারী মানে ঘরের গৃহিণী যারা শুধু ঘরের রান্না-বান্না ও বাচ্চাদের লালন-পালন করে’
কেউ বলবেন ‘নারী মানে সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র’
আবার কেউ বলবেন, ‘নারী মানে পুরুষের কাম বা যৌনতার বসন’
এগুলো পুরুষতান্ত্রিক সমাজের সচার-আচার স্বাভাবিক উত্তর! তেমনি আমি একটি  সংজ্ঞা দিচ্ছি:-
‘সিমোন দ্য বোভোয়ারের’ ৩৫ নং পৃষ্ঠায় বলেছেন,
“নারী হচ্ছে জরায়ু, ডিম্বকোষ নারী হচ্ছে স্ত্রীলোক”।
এমন অসংখ্য সংজ্ঞা পাবেন যেখানে নারীদের  নিন্দায়িত করা হয়েছে। পুরুষের কাছে নারী মানেই যেন জরায়ু,ডিম্বাশয়, ডিম্বকোষ, নিতম্ব, স্তন ।নারীর এর বাহিরে কিছু থাকতে পারে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ সেটা বিশ্বাস করতে নারাজ। পুরুষের কামনার সাথে না মিললেই, পুরুষের কাছে নারী মানে তুচ্ছ, সামান্য, মূল্যহীন।একটি বাস্তব উদাহরণ দিলে সেটি বুঝতে পারবেন-
রাস্তা-ঘাটে বা ভার্সিটিতে কিছু মেয়ে দেখতে পাবেন, যাদের দিকে তাকিয়ে আমরা হচকচিয়ে বলতে থাকি! মেয়েটার যে  নারী স্বভাবিই নেই। নারী সেটা চেনাই মুশকিল। কিন্তু তার মাঝে নারীর  সবকিছুই রয়েছে শুধু বাহিরের খোলসের পরিবর্তন হয়েছে তাতেই আমরা নারী বলতে অস্বীকার করছি। এজন্যই কবি সুধীন্দ্রনাথ বলেছেন,
সামান্যাদের সোহাগ খরিদ ক’রে
চিরন্তনীর অভাব মেটাতে হবে।
তবে কোটি মন্বন্তরেও ভুলিতে পারবে না শাশ্বতীকে।
পুরুষের কামনার সাথে না মিলিলে  নারী মানে সামান্য।
নারী শব্দ মানেই নিন্দাসূচক বা নঞার্থক। নারী শব্দটা এক প্রকার সকল ভাষার অভিধানেই গালির মতো। নারী শব্দটিকে বিশ্বের সকল ভাষা বা অর্থে তুচ্ছ বা নিন্দাসূচক ভাবেই চিহ্নিত করেছে।
কেউ অন্যকিছু ভেবে বসতে পারেন, তাই কেন বললাম একটু পরিষ্কার করে বলি-
আপনে ইংরেজিতে  দুটে শব্দ পাবেন  Man এবং  Woman। Man বা mankind পুরুষবাচক এবং  Woman স্ত্রীবাচক- নিন্দাসূচক।
★পুরুষবাচক শব্দ Manly লিখে ডিকশনারিতে সার্চ দিন যে শব্দগুলো আসবে Masculine, Daring, Manful, Amazonian, Gallant, Gamy  ইত্যাদি, যাদের বাংলা অর্থ করলে দাঁড়াবে-
Masculine-    পুংলিঙ্গ
Daring-           সাহসী
Manful-          সাহসী বা তেজস্বী
Amazonian-  রণরঙ্গিণী বা মর্দানি
Gallant-          সাহসী / সুন্দর / মহৎ
Gamy-            সাহসিক / সাহসী
★আর স্ত্রীবাচর শব্দ  Womanly দিলে দেখতে পাবেন,
Effeminate-    মেয়েলী /পৌরূষহীন/কোমল
Pistillate-        গর্ভকেশর আছে এমন
Womanish-     কোমল/ স্ত্রীজোনচিত
Feminine-        স্ত্রীলিঙ্গাত্বক/  স্ত্রীযোনি- সংক্রান্ত
এখন বাংলা অর্থের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখুন পুরুষ বাচক বা পুরুষ মানেই এক অবিনাশী সত্তা, পুরুষ মানেই সকল সদগুণের আদর্শ কাঠামো। আপরদিকে নারী বা স্ত্রী মানেই নঞার্থক বা নিন্দাসূচক বৈশিষ্ট্য । তাই এ্যারিস্টোটল বলছেন,
“নারী কিছু গুণের অভাববশতই নারী/ আমরা মনে করি নারীস্বভাব  স্বাভাবিকভাবেই বিকারগ্রস্থ”।
এবার আমরা বাংলা ভাষার দিকে নজর দেই, তাহলে আরো পরিষ্কার করে বুঝতে পারব নারী জন্ম নেয় না নারী তৈরী করা হয়। পুরুষত্ব মানেই  ‘স্বর্গীয়’ এর বিপরীত  নারীত্ব মানেই ‘ নারকীয়’। বাংলা অভিধানের দিকে দেখলে দেখতে পাবেন পুরুষ বা পুরুষত্ব শব্দের মানে,
পুরুষ বা পুরুষত্ব- পৌরুষ/তেজ/ উদ্যোম/রতিশক্তি
আপর দিকে ‘নারী’ শব্দের দিকে তাকালে পাবেন,
নারী – রমনী / জায়া / পত্নী / কামিনী/ স্ত্রীলোক
তাছাড়াও বাংলা ব্যাকরণের লিঙ্গের দিকে তাকালেও একটা চিত্র দেখতে পাবেন। লিঙ্গের ওপর ভিত্তি করে “এলেন সিজো”  পুরুষ ও নারীর দ্বিমুখি বৈপরীত্যের  একটি তালিকা  ‘দ্র মোইয়ের’ ১০৪ পৃষ্ঠায় তুলেধরেছেন,
পুরুষ বাচক ——————————–    স্ত্রী বাচক
সক্রিয়         —————————–—    অক্রিয়
সংস্কৃতি       —————————–—    প্রকৃতি
দিন             —————————–—-   রাত্রি
বুদ্ধি            ———————————   আবেগ
বোধগম্য     —————————–—-   দুর্বোধ্য
বিশ্বনিয়ন্ত্রক ———————————   করুণ
এই দুটা তালিকা হতে হতে দেখতে পাবেন পুরুষ ও নারীর দ্বিমেরুত্ব  এবং বৈপরীত্য। এ তালিকায় দ্বিমুখি বৈ।শিষ্ট্যে দেখা যায় পুরুষের মূল্যবোধ আর নারীর নঞার্থক ও নিন্দনীয়তা।
ধর্ম, বর্ণ ও শিক্ষা সবকিছুর বেড়া জাল হতেই মেয়েরা নারী স্বভাবি হয়ে ওঠে। পুরুষরাও জন্ম লগ্ন হতে নারীকে তুচ্ছ নিন্দা আর ঘৃণা করে আসছে। আপনে একটা ছেলেকে অন্য গালি দিবেন তেমন মনঃক্ষুন্ন হবে না কিন্তু যদি নারী বলে অভিহিত করেন তাহলে সে মেনে নিতে পারবে না।  তার পৌরূষত্বে আঘাত হানবে।
পুরুষতান্ত্রিক জাতি এবং বিভিন্ন পুরোণ  গ্রন্থ ঘাটলে তার প্রমাণ পাবেন যে সেকালে নারীকে ‘দানবী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন – মহাভারত, রামায়ণ, ত্রিপিটক, মঙ্গলকাব্য ইত্যাদি।তাদের কথা এবং বিশ্বাস ছিল যে নারী মানেই ধ্বংস দানবী। তাদের স্পর্শে পুরুষ গেলে, সেই পুরুষ অনিবার্য ধ্বংস হয়ে যাবে৷  নারী মানেই শুধু কামনা বাসনা।
তার কিছু উদ্বৃতি দিচ্ছি-
বৌদ্ধ শাস্ত্রঃ (ত্রিপিটক)
বৌদ্ধ শাস্ত্রের বাণীর তৃতীয় মহাসঙ্গিতি ‘ত্রিপিটক’  এর নারীদের অবস্থা নিয়ে কথা বলব।  নারীর প্রতি গৌতম বুদ্ধের বাণী ও নির্দেশিকা আলোকপাত করি। বৌদ্ধ শাস্ত্রের ৫৩৬ নম্বর জাতক যার নাম ‘কুণাল’ জাতক। এই জাতকের প্রধান চরিত্র হল কুণাল যার মুখ নিঃসৃত বানী থেকে আমরা নারীদের সম্পর্কে জানতে পারি । কুণাল বলেন নারী কখনই বিশ্বাসযোগ্য নয়, নারী স্বভাবতই বিশ্বাস ঘাতিনী।
কুণালের গীত গাঁথায় উচ্চারিত হয়ঃ
সদা রক্ত মাংস প্রিয়, কঠোর হৃদয়,
পঞ্চায়ুধ, ক্রূরমতি সিংহ দুরাশয়।
অতিলোভী, নিত্য প্রতিহিংসা পরায়ণ,
বধি অন্যে করে নিজ উদর পূরণ।
স্ত্রীজাতি তেমতি সর্বপাপের আবাস,
চরিত্রে তাহাদের কভু করো না বিশ্বাস।
কুণালের বাণী মতে নারীদের চরিত্রে বিশ্বাস করা মানে দানবীর মুখে পড়া।কুণালের মতে, নারীকে বেশ্যা, কুলটা বললেই সব বলা হয় না, নারী প্রকৃত পক্ষে এর অধিক কিছু। নারীরা হল-
*উন্মুক্ত মলভাণ্ডের মতো দুর্গন্ধ যুক্ত।
*বিষমিশ্রিত মদিরার মতো অনিষ্টকারী।
*কুটিলা সাপের মতো দুই জিহ্বা বিশিষ্ট।
*পাতালের ন্যায় অতল গভীর।
*রাক্ষসীর ন্যায় সন্তোষহীন।
*অগ্নির ন্যায় সর্ব গ্রাসিনী।
*নদীর ন্যায় সর্ব বাহিনী।
*বায়ুর ন্যায় যথেচ্ছা গামিনী।
*বিষবৃক্ষের ন্যায় বিষফল প্রসবিনী।
নারী জাতি মলের মতো দুর্গন্ধময় এ সম্পর্কে কুণাল বলেছেন,
 “নারী হল উন্মুক্ত মলভাণ্ডের ন্যায়। উন্মুক্ত মলভাণ্ড দেখিলে মাছি সেখানে ঝাপ দিবেই তাকে রোহিত করা কষ্টকর। কিন্তু একজন জ্ঞানী মানুষ সব সময় এই মলভাণ্ডের দুর্গন্ধ উপলব্ধি করে তা এড়িয়ে চলে। তদ্রূপ নারীরুপ মলভাণ্ডে মাছিরূপ পুরুষ ঝাপ দিবেই কিন্তু একজন জ্ঞানী ভিক্ষু এই উন্মুক্ত মলভাণ্ডরূপ নারীদের দুর্গন্ধ উপলব্ধি করিয়া তাদের সদাই পরিত্যাগ করেন।”
ত্রিপিটকের ৫৩৬ নম্বর জাতকে কুণাল পুরুষ জাতিকে উপদেশ বার্তা  দিয়ে বলেছেন,
 বলদ (ষাঁড়), ধেনু (গাভী), যান (বাহন) ও রমণী এই চারটি কখনো অন্যের আশ্রয়ে রাখতে হয়না। এদেরকে নিজের আশ্রয়ে সুরক্ষিত রাখতে হয় তা না হলে সংকট তৈরি হয়। এই সম্পর্কিত নীতিগাঁথায় তিনি বলেন-
বলীবদ্র, ধেনু, যান, ভার্যা নিজ তব
রাখিও না অন্য গৃহে কখনো এসবো।
যান নষ্ট হয় পড়ে আনাড়ির হাতে
বলীবদ্র প্রাণে মরে অতি খাটুনিতে।
দুধ ধুয়ে বাছুরের জীবনান্ত করে
রমণী প্রদুষ্টা হয় থাকি জ্ঞাতিঘরে।
আবার কুণাল বলেন সব নারীই বেশ্যা। এরা পঙ্গু দেখলেও ব্যাভিচারে রত হয়। সব নারীই হচ্ছে পরপুরুষগামিনী এবং বিশ্বাস অযোগ্যা। আসুন দেখি কুণাল তার নীতিগাঁথায় কি বলেছেন –
পাইলে নিভৃত স্থান, পাইলে অবসর
হেন নারী নাই এই পৃথিবীর ভিতর।
না করিবে পাপ যেই, না পেলে অপরে।
পঙ্গুর সহিত রত হয় ব্যাভিচারে।
সত্য বটে ভাবে লোকে সুখদা রমণী
কিন্তু সর্ব নারী হয় পরপুরুষ গামিনী।
দমিতে নারীর মন নিগ্রহের বলে
শক্তি কাহারো নাই এ মহীমণ্ডলে।
প্রিয়ঙ্করী, তবু এরা বিশ্বাস অযোগ্যা,
বেশ্যা, তীর্থবৎ এরা সর্বজন ভোগ্য।
কুণাল ৫৩৬ নং জাতকে আরো বলেছেন কি কি কারণে নারীদের অমঙ্গল হয় । এ সম্পর্কে কুণাল বলেন,
আরামে, উদ্যানে, রথে, জ্ঞাতিপর কূলে
সদাবেড়াইতে যায়,
মদ্যপান করে যারা,
পরিতে বিচিত্র বস্ত্র সদা যারা চায়।
বিনা কাজে ইতস্ততঃ দৃষ্টিপাত করে যারা
সদা শূন্যমন,
দ্বারে থাকে দাঁড়াইয়া, কুলষিতা হয় নারী
এই নব কারন।
এভাবেই বৌদ্ধ শাস্ত্রে নারীদেরকে দানবী, পাপিষ্ঠ, ছলনাময়ী, বেশ্যা বলে অভিহিত করেছেন।
*
হিন্দু শাস্ত্র  মতে,
বেদ ও  শ্রীমদ্ভাগবতঃ (নারী ও শূদ্রের অধিকার)
স্মরণাতীত কাল হতে বেদ নামক জ্ঞান ভাণ্ডার থেকে স্ত্রী, শূদ্র দের বঞ্চিত করা হয়েছে, তাদের কে অল্পবুদ্ধিসম্পন্ন আখ্যা দিয়ে। ভুল করেও যেন কোন শূদ্র বেদ না পড়ে, যদি পড়ে তাকে কঠোর শাস্তির র্নিদেশ দেয়া হয়েছিল। নারী, শূদ্ররা কখনো যেন প্রতিবাদ করতে না পারে, সে জন্য ব্যাসদেবের নাম দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল নানা কল্পিত পুরাণ শাস্ত্র। কেউ যদি প্রতিবাদী হয়ে প্রশ্ন করে; ঈশ্বর কি নারী, শূদ্রদের মঙ্গল করতে চান না? তিনি কি পক্ষপাতী যে, বেদের অধ্যয়ন এবং শ্রবণ শূদ্রদের জন্য নিষিদ্ধ এবং দ্বিজদের জন্য বৈধ করবেন? যদি নারী, শূদ্র সকলের বেদ পড়া, শুনা, বুঝার ক্ষমতা না থাকত তা হলে তিনি শূদ্রদের শরীরে বাক্, শ্রবণেন্দ্রিয় এবং বুদ্ধি, বিচার করার ক্ষমতা কেন দিলেন? ঈশ্বর কৃত সূর্য যখন প্রকাশিত হয় তখন কারো সাথে ভেদ করে না। পৃথিবী সমান ভাবে সকল কে ধারণ করছে। জল ব্রাহ্মণ, শূদ্র নারী মানব মাত্র সকলের প্রয়োজন মেটায়, তৃষ্ণা নিবারণ করে, তাহলে বেদ যদি ঈশ্বর প্রদত্ত হয় তবে কেন সকল মানুষের বেদের উপর সমান অধিকার নাই?
মন্দবুদ্ধির লোকেরা তখন এই বলে তাদের কে নিগৃহীত করেছে, দেখ যেখানে শাস্ত্রেই বলা হয়েছে নারী, শূদ্র অল্পবুদ্ধিসম্পন্ন, তোমাদের বেদের অর্থ হৃদয়ঙ্গম করার ক্ষমতা নেই, সেখানে তোমরা এত কথা বলছ কেন?
আজকে এমনি এক কল্পিত পুরাণের দাবি কে বিচার করে দেখব।
ভগবত বলেন,
   স্ত্রীশুদ্রদ্বিজবন্ধূনাং ত্রয়ী ন শ্রুতিগোচরা।
কর্মশ্রেয়সি মূঢ়ানাং শ্রেয় এবং ভবেদিহ।
ইতি ভারতিমাখ্যাং কৃপয়া মুনিনা কৃতম।।
(শ্রীমদ্ভাগবত ১/৪/২৫)
বঙ্গানুবাদঃ স্ত্রী, শূদ্র এবং দ্বিজোচিত গুণাবলীবিহীন ব্রাহ্মণ কুলোদ্ভূত মানুষদের বেদের তাৎপর্য হৃদয়ঙ্গম করার ক্ষমতা নেই, তাই তাদের প্রতি কৃপাপরবশ হয়ে মহর্ষি ব্যাসদেব মহাভারত নামক ইতিহাস রচনা করলেন, যাতে তারা তাদের জীবনের পরম উদ্দেশ্য লাভে সমর্থ হতে পারে।
সকল কিছুর ওপর দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় মেয়েরা নারী হয়ে ওঠার জন্য পুরুষতান্ত্রিক সমাজ, ধর্ম  দায়ী। মেয়েরা নারী হয়ে জন্মে না। মেয়েরা শুধু পুরুষের যৌন কামনার পরিতৃপ্তকারী নয়। নারী স্বভাব হয়ে ওঠার জন্য পুরুষ সত্তা দায়ী।
নারী হলো,
পুরুষতান্ত্রিক সভ্যতার  শ্রেষ্ঠ শহীদের নাম ‘মা’
          হুমায়ূন আজাদ
যে গর্ভ তোমায় ধারণ করেছে সে গর্ভধারিণী মায়ের প্রতি কর্তব্য কর ও শ্রদ্ধা নিবেদন কর।
           আল-কুরআন
সহায়ক সূত্র-
মহাভারত (বাংলা)
নারী (হুমায়ূন আজাদ)
সিমোন দ্য বোভোয়ার
ত্রিপিটক (বাংলা)
লেখকঃ এ বি সানোয়ার হোসেন
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here