রাস্তা বন্ধ করে দেয়াল নির্মাণ! দুর্ভোগে পড়েছেন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ শতাধিক মানুষ: প্রাণনাশের হুমকি

Share It
  • 20.5K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    20.5K
    Shares

মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের পরিবারসহ সাত পরিবারের শতাধিক মানুষ এই পথ দিয়েই শত বছর ধরে চলাচল করে আসছেন। হঠাৎ একমাত্র চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে পরিবারগুলো।

দেখা যায়, চরমছলন্দ মীরা পাড়া গ্রামের রৌহা খেয়াঘাট সড়ক থেকে মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন কামালের বাড়ি পর্যন্ত মাত্র ৩০ ফুট দীর্ঘ ও আট-নয় ফুট প্রস্থের ছোট একটি রাস্তা আছে । গত প্রায় দেড়শ’ বছর ধরে এই রাস্তাটিই সাতটি পরিবারের শতাধিক সদস্যের বাড়িতে ঢোকার একমাত্র পথ। রাস্তার পাশের জমিটি ছিল একই এলাকার জনৈক চান্দু মিয়ার। দশ বছর আগে চান্দুমিয়ার কাছ থেকে রাস্তার পাশের ১০ শতাংশ জমি কেনেন এলাকার প্রভাবশালী কাদির মিয়া ।

বর্তমানে লকডাউন পরিস্থিতিতে হঠাৎ করেই শত বছরের পুরোনো এই রাস্তাটি নিজেদের দাবি করে কাদির মিয়া ও তার ছেলে-ভাতিজারা । স্থানীয় জনপ্রতিনিধি লকডাউনের উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ব্যস্ত থাকার সুযোগে গত সপ্তাহে কাদির মিয়া তার ছেলে শরীফ মিয়া, আরিফ, কাজল ও তার ভাতিজা ইমরান হোসেন ইন্তাকে সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনসহ সাতটি পরিবারের বাড়ি বের হওয়ার একমাত্র রাস্তায় তিনফুট ইটের দেয়াল তুলে পথটি বন্ধ করে দিয়েছেন।

মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন কাজল ও তার পরিবারের লোকজন বাধা দিতে গেলে কাদির মিয়া ও তার ছেলেরা সশস্ত্র অবস্থায় এসে মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন কামালসহ তার পরিবারের লোকজনকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে হেনস্থা করেন।

মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন কামাল বলেন, তারা হুমকি দিচ্ছে রাস্তা নিয়ে কথা বললে তারা আমাদেরকে হত্যা করবে। বাড়ি থেকে বের হতে হলে মই দিয়ে প্রাচীর টপকাতে হয়। বাড়ির বয়স্ক ও শিশুদের জন্য বিষয়টি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং অমানবিক।

বৃদ্ধ জামিনা বলেন, প্রায় দেড়শ’ বছর ধরে এ বাড়ির লোকজন এ রাস্তা ব্যবহার করে আসছে। সেই রাস্তায় ইটের দেওয়াল তৈরি করায় গত আট-নয় দিন ধরে আমরা বাড়ির বাইরে যেতে পারছি না। দুয়েকদিনের মধ্যে আমাদের জমির ধান কেটে বাড়ি তুলতে হবে। এখন এই দেয়ালের কারণে বহুপথ ঘুরে বাড়িতে ধান আনতে হবে।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত কাদির মিয়ার ছেলে শরীফ মিয়া বলেন, আমাদের নিজের জায়গায় আমরা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছি। এই সীমানা প্রাচীরের ভেতর হাঁসের খামার করা হবে ।

গফরগাঁও থানার ওসি অনুকুল সরকার বলেন, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।


Share It
  • 20.5K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    20.5K
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here