লবণের দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় চামড়া ব্যবসায়ীরা

Share It
  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    4
    Shares

আর এক দিন পর ঈদুল আজহা। এই ঈদে সোয়া কোটি পশু জবাই হতে পারে। কোরবানি হওয়া পশুর চামড়া সংরক্ষণে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আর এ মুহূর্তে বাড়ছে লবণের দাম। এতে চামড়া সংরক্ষণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন ব্যবসায়ীরা। কেননা, চড়া দরে লবণ বিক্রি হলে মৌসুমি চামড়া সংগ্রহকারী, ক্ষুদ্র ও মাঠ পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা সঠিকভাবে লবণ ব্যবহার করেন না। এতে চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের আগে ঘাটতি দেখিয়ে সাধারণ লবণের দাম বাড়িয়ে দেয় কিছু অসাধু চক্র। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি বস্তা (৭৫ কেজি) লবণের দাম ২০০ টাকা বেড়ে এক হাজার টাকা হয়েছে। এতে প্রতি কেজি লবণ ১৩ থেকে ১৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদের পরও বাড়তি দর অব্যাহত থাকলে এবারও চামড়ায় লবণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংকট দেখা দেবে। গত বছর পর্যাপ্ত লবণ না দেওয়ায় প্রায় ৩৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়েছিল বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

চামড়ায় ব্যবহার হওয়া লবণের দর সপ্তাহের ব্যবধানে বস্তায় ২০০ টাকা বেড়ে মিলগেটে গতকাল বিক্রি হয়েছে ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা। রাজধানীর খুচরা বাজারে তা এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হয়। তিন মাস আগে গত মে মাসে লবণ উৎপাদনের শেষ মৌসুমে আয়োডিন ছাড়া সাধারণ লবণ প্রতি বস্তা ছিল ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা। এর পরে কিছুটা দাম বাড়লেও তা ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হয়। গত এক বছর ধরে খাওয়ার উপযোগী লবণ চড়া দামেই বিক্রি হয়ে আসছে। প্রতি কেজি পরিশোধিত সাধারণ লবণ বিক্রি হচ্ছে ২৫ ও সুপার লবণ ৩৮ থেকে ৪০ টাকায়। কোরবানির পশুর চামড়ায় ব্যবহারের জন্য সম্প্রতি লবণের চাহিদা বেড়েছে। এ সুযোগে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের যুক্তি, এবার উৎপাদনে ঘাটতির কারণে এখন দাম বাড়ছে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন এবং বাংলাদেশ মিল মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, এবার ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত মৌসুমে ১৫ লাখ টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। বছরে চাহিদার চেয়ে ১ লাখ ২৮ হাজার টন লবণের ঘাটতি রয়েছে। সে অনুযায়ী দেড় লাখ টন লবণ আমদানির সুপারিশও করেছে বিসিক। ঘাটতি হলেও তার প্রভাব বছরের শেষভাগের আগে পড়ার কথা নয়। কিন্তু লবণ ব্যবসায়ীরা এখনই ঘাটতির কথা বলে দাম বাড়াচ্ছেন।

পূবালী সল্টের চেয়ারম্যান পরিতোষ সাহা সমকালকে বলেন, লবণের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ছে। এখন মিলগেটে প্রতি বস্তা আয়োডিন ছাড়া সাধারণ লবণ ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এ কারণে দাম বাড়তি। বিসিক এক লাখ ২৮ হাজার টন ঘাটতির কথা জানালেও বাস্তবে এবার চাহিদার চেয়ে পাঁচ লাখ টনের ঘাটতি আছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘাটতি মেটাতে মন্ত্রণালয়ে আমদানির প্রস্তাব দেওয়া হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। এবার আমদানি না হলে লবণের দাম আরও বেড়ে যাবে।

কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাজি দেলোয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, লবণের ঘাটতি না থাকলেও ঈদের আগে লবণের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এরই মধ্যে আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। তবে গত বছরের মতো চড়া দামে কিনতে হলে চামড়া সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। অনেকেই সঠিকভাবে লবণ ব্যবহার করবেন না।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, লবণের দাম বাড়লে সঠিক মাত্রায় ব্যবহার হবে না। এতে চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে। এবার লবণের দাম বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। এর পরও দাম বাড়াচ্ছেন মিল মালিকরা। মৌসুমি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা হালকা লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করবে। এতে বৃষ্টি ও গরম আবহাওয়ায় গত বছরের মতো এবারও চামড়া নষ্ট হতে পারে। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ১৬ লাখ। আর সোয়া কোটি চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ব্যবসায়ীদের। সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি গুরুর চামড়ায় ১০ থেকে ১২ কেজি, প্রতিটি ছাগলের চামড়ায় ৪ থেকে ৫ কেজি করে, প্রতিটি মহিষের চামড়ায় ২০ কেজি করে ও প্রতিটি ভেড়ার চামড়ায় গড়ে ৪ থেকে ৫ কেজি করে লবণ দিতে হয়। এই হিসাবে ১ কোটি ২৫ লাখ পশুর চামড়া প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রায় দুই লাখ টন লবণের প্রয়োজন হবে।


Share It
  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    4
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here