সৌদি-হুতি সব পক্ষই যুদ্ধাপরাধ ঘটিয়েছে

Share It
  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    4
    Shares

ইয়েমেনের শাদা প্রদেশে সম্প্রতি একটি স্কুলবাসে সৌদি জোটের বিমান হামলায় ৪০ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর তাদের জন্য এভাবেই সারি সারি কবর খোঁড়েন স্থানীয়রা – সংগৃহীত

ইয়েমেনে যুদ্ধাপরাধ ঘটিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এবং বিরোধী হুতি বিদ্রোহী- উভয় পক্ষই। কোনো পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি কমানোর বিন্দুমাত্র চেষ্টা করেনি। গতকাল মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ অভিযোগ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা। সৌদি জোট ইয়েমেনের বন্দর ও আকাশপথ অবরোধ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন করেছে বলেও দাবি জাতিসংঘের। এদিকে সৌদি অভিযানে শিশুসহ বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানি বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের ‘সতর্ক’ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার।

২০১৫ সালের মার্চ থেকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে সৌদি-আমিরাত জোট। তারা বারবার যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং দাবি করছে, তারা সরাসরি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালায়নি।

তবে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশ্নেষকরা প্রমাণ পেয়েছেন, ইয়েমেন যুদ্ধে সরাসরি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বিমান হামলা চালাচ্ছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তাদের রসদ ও কৌশলগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স।

জাতিসংঘ বিশ্নেষকরা এ নিয়ে প্রথম রিপোর্ট তৈরি করেছেন। এই রিপোর্ট আগামী মাসে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে পেশ করা হবে। প্রথম প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, ইয়েমেনের সরকার, তাদের পক্ষে যুদ্ধরত সৌদি নেতৃত্বাধানী জোট এবং হুতি বিদ্রোহী- সব পক্ষই বেসামরিক হত্যা কমানোর নূ্যনতম উদ্যোগ নেয়নি।

ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে সৌদি বাহিনী ইয়েমেনের সুন্নিপন্থি সরকারের গদি রক্ষায় ‘ইরানের আশীর্বাদপুষ্ট’ শিয়াপন্থি হুতি বিদ্রোহীদের দমনের কথা বললেও প্রথম থেকেই বিমান হামলা চালিয়ে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়েছে। এর সবশেষ নজির দেখা যায় গত ৯ আগস্ট। সেদিন সৌদি জোট একটি স্কুলবাস লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালায়। এতে ওই স্কুলবাসে থাকা ৪০ শিশু নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগেরই বয়স ১৫ বছরের নিচে। হামলায় ব্যবহার করা বোমাটি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি।

আমেরিকায় বানানো ওই বোমা স্কুলবাসে আঘাত করার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। এর পর গত সপ্তাহেও একটি আশ্রয়কেন্দ্রে হামলায় আরও ২২ শিশু প্রাণ হারায়।

ইয়েমেন থেকে সংগৃহীত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০১৫ সালের মার্চে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি জোটের অভিযানের পর থেকে গত তিন বছরে ১৬ হাজার বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেসামরিক স্থাপনায় চালানো হয়েছে। আর হামলাগুলোর অধিকাংশই বিয়ের অনুষ্ঠান, স্কুল, হাসপাতাল, বাজার এবং বিদ্যুৎ ও পানি উৎপাদন কেন্দ্রে চালানো হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ হতাহত হয়েছেন।

এদিকে শিশু নিহতের দুই ঘটনায় জাতিসংঘ নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেওয়ায় প্রতিবাদ জানিয়েছে সৌদি জোট। তাদের অভিযোগ, জাতিসংঘ একতরফা সৌদি জোটের নিন্দা করছে। এই প্রতিবাদের পরপরই জাতিসংঘ মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা জানালেন, সবপক্ষই ইয়েমেনে যুদ্ধাপরাধ ঘটিয়েছে।

এদিকে ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদির কর্মকাণ্ডে ওয়াশিংটন প্রশাসনে অসন্তোষ বাড়ছে। বেসামরিক নাগরিক হতাহতের ঘটনায় তাদের ‘সতর্ক’ করে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, রিয়াদ যদি বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি কমাতে কোনো তৎপরতা দেখাতে ব্যর্থ হয়, তবে ইয়েমেনে অভিযানে তারা আমেরিকার যে সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা পাচ্ছে, তা কমিয়ে ফেলা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস ও সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্য অপারেশন উইংয়ের প্রধান জেনারেল জোসেফ ভোটেল আলাদাভাবে তাদের উদ্বেগ জানিয়েছেন।

এদিকে দাতব্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ ও কলেরায় প্রতিদিন ১৩০টি শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। জাতিসংঘের তথ্য মতে, যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ হাজার ইয়েমেনি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

তবে বিশ্নেষকরা বলছেন, নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি।


Share It
  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    4
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here